,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ মন্তব্য ফখ্রুলের

fakrolনিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা,১৬, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকারের কোনো বৈধতা নেই, তারপরও তারা স্বৈরশাসকের মতো জনগণের উপর চেপে বসেছে।

 

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, যদি গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনেন, তাহলে যে অবস্থার সৃষ্টি হবে তা থেকে আপনারাও রেহাই পাবেন না।

 

শনিবার সকালে যুব জাগপার ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলাম, তার একটাই উদ্দেশ্য ছিল, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তি। কিন্তু এই সরকার জনগণের সেই ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে।

 

এ সরকারের যে নৈতিকতা ও বৈধতার সমস্যা দেখা দিয়েছে তা দেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুর পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায়। তারা মুখে উন্নয়নের কথা বলে দেশের সব টাকা লুণ্ঠন করছে। গত বছর ৭৭,০০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

 

ফখরুল বলেন, সরকার জঙ্গিবাদ বিরোধী পদক্ষেপ, উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। ৭৫ সালে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে বাকশাল কায়েম করেছিল। এখন আবারো তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে গণতন্ত্রের আবহে একনায়কতন্ত্র কায়েমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে আজ হাহাকার। তেলের দাম বাড়ছে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়ছে।

 

পুলিশের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, দেশ আজ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণতি হয়েছে। এখনকার পুলিশ নিজেদের দেশের রাজা ভাবছে।

 

সরকারের প্রশয়ে পুলিশের বাড়াবাড়ি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

একদিন আগে এক ডিসিসি কর্মকর্তার উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেছেন, সেই পুলিশ কর্মকর্তা এই দম্ভোক্তি করেছেন যে, ‘মাছের রাজা হচ্ছে ইলিশ আর দেশের রাজা হচ্ছে পুলিশ।

 

শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের মারধরের শিকার হন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিদর্শক (পরিষ্কারও পরিচ্ছন্ন) বিকাশ চন্দ্র সাহা।

 

তার কয়েকদিন আগে মোহাম্মদপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীর উপর পুলিশি নির্যাতনের কথাও ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা সভায় তোলেন ফখরুল।

 

বিরোধী মত দমনে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে আসা বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকে এই রাষ্ট্রটা সম্পূর্ণভাবে একটা সিকিউরিটি স্টেটে পরিণত হয়েছে।

 

‘এখানে রাজনীতিবিদ বলেন, সাধারণ মানুষ বলেন, বুদ্ধিজীবী বলেন, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ বলেন, কারও কোনো অধিকার নেই। এখানে অধিকার একমাত্র যারা ক্ষমতায় আছে, তাদের।’

 

সরকারকে হুঁশিয়ার করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, একদিন যখন জনগণ জেগে উঠবে, সেই স্বতস্ফূর্ত জাগরণকে ঠেকাবার কোনো রাস্তা থাকবে না। এটাই বাস্তবতা।’

 

‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদেকে রুখে দাঁড়াতে হবে। নইলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে,’ জনগণের উদ্দেশে বলেন তিনি।

 

২০ দলীয় জোট শরিক জাগপার যুব সংগঠন আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সরকারকে ‘দাম্ভিকতা’ ফেলে আলোচনায় আসার আহ্বান আবারও জানান ফখরুল।

 

‘আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এখানে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য কাজ করুন। একটা নির্বাচন দিন, যার মধ্য দিয়ে জনগনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।’

 

তা নাহলে যে সঙ্কট সৃষ্টি হবে, তা থেকে আওয়ামী লীগও পরিত্রাণ পাবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

 

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘ব্যাংকিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এমন একটা খাত নেই যে খাতে লুণ্ঠন চলছে না। সরকারি লোকেরা লুণ্ঠনের মধ্য দিয়ে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে মানুষের জীবন আজ দুঃসহ।’

 

জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি সাহিদুর রহমান তামান্না, জাগপার ফাইজুর রহমান, মহিউদ্দিন বাবুল, এম এ মান্নান, এম এ ওয়াদুদ প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।

 

মতামত...