,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মাটিরাঙ্গা হাসপাতালে দুদক উপ-পরিচালকের আকস্মিক পরিদর্শন

dআবদুল মান্নান, মানিকছড়ি সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ সম্প্রতিকালে মাটিরাঙ্গা উপজেলায় দুদক কর্তৃক“গণশুনানির” পর উপজেলা সদর হাসপাতালে রোগীদের সেবা প্রাপ্তি, কতটা বেড়েছে তা জানতে সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন,দুদক রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমান ভুঁইয়া।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা দুপ্রকের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম ও সেক্রেটারী মো. জসিম উদ্দিনকে সাথে নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২.২মিনিটে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান দুদক উপ-পরিচালক। সেখানে তিনি হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি বই (হাজিরা খাতা) ও হাসপাতালের বিভিন্ন সুবিধাদির বিষয়ে দায়িত্বশীলদের কাছে জানতে চান।

এ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন গাইনী কনসালটেন্ট (জুনিয়র) ডা. কামরুন্নেছা বেগম। তাঁর অনুপস্থিতির পক্ষে কোন সন্তোষজনক কাগজপত্র দেখাতে পারেননি প্রধান অফিস সহকারী ও আরএমও। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে আরএমও সহ অন্যান্যদের সামনেই ডা. কামরুন্নেছা প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বলে জানান আরেক দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ।

গনশুনানিতে যে সব অভিযোগ করেছিল সাধারণ জনতা তার মধ্যে,সেবার মান নিশ্চিত করণ,ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করণ,হাসপাতালের পরিছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করণ,এক্স-রে সেবা,এ্যাম্বুল্যান্স সেবা নিশ্চিত করণ,রোগীদের খাবারের মান নিশ্চিত করণসহ বিনামুল্যে ওষধ বিতরণ উল্লেখযোগ্য।
একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি জানান,এই উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির বিপরীতে মাত্র একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সব্যসাচী নাথ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যা এই উপজেলার চিকিৎসা সেবা চাহিদার তুলনায় অনেক কম!

এ ছাড়া সরকারী অর্থায়নে নির্মিত এক্স-রে মেশিনটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যবধি চালু করা সম্ভব হয়নি। চালু না হওযার কারণ হিসেবে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজকে দায়ি করে আসছেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাজারে অন্যান্য এক্স-রে মেশিন কিভাবে চলছে তার কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি দায়িত্বশীল কেউ । স্থানীয় ভোক্তভোগী রোগীর বরাত দিয়ে জানা যায়,উপজেলা সদর হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি ও দীর্ঘদিন যাবত অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

গনশুনানিতে অংশ নিয়ে টিএইচও ডা. মো. খায়রুল আলম জনগণকে আশ্বস্ত করেছিলেন,মাটিরাঙ্গা হাসপাতালের ডাক্তারদের কর্মস্থলে হাজির থাকার বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু সরেজমিনে তার কোন অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। তিনি নিজেও গণ-শুনানির পর কিছুদিন যথাযথভাবে অফিস করলেও বর্তমানে তিনি আগের মতোই মাসের বেশীর ভাগ দিন অনুপস্থিত থাকেন। হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকে তাহলে চিকিৎসা সেবা কতটা নিশ্চিত সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় জনমনে।

মতামত...