,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মাটি খুঁড়ে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, দেশদ্রোহীদের বের করা হবে: এসপি নূরে আলম মিনা

sp noor alam nena (2)নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নূরে আলম মিনা বলেছেন, বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রাম থেকে জঙ্গিবদের মূল শেকড় তুলে না ফেলা পর্যন্ত জেলা পুলিশের একজন সদস্যও ব্যারাকে ফিরে যাবেনা। চট্টগ্রাম যতক্ষণ জঙ্গিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত হবেনা ততক্ষণ যুদ্ধ শেষ হবেনা। এ যুদ্ধ সামাজিক ও আদর্শিক যুদ্ধ। মাটি খুঁড়ে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, দেশদ্রোহীদের বের করা হবে।

 শনিবার বিকালে নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পাশের একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রামের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, জেলা পুলিশের সব সদস্যকে আমরা মোটিভেট করেছি। জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে আমাদের মূল শক্তি জনগণ, যারা এ দেশকে ভালোবাসেন, এ চট্টগ্রামকে ভালোবাসেন। তিনি বলেন, জঙ্গি বা সন্ত্রাসীর আতঙ্কে জনগণ নয়, বরং পুলিশ-জনতার আতঙ্কে জঙ্গিরাই পালাবে- এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। জঙ্গি দমনে চার সদস্যের স্পেশাল টাস্ক গ্রুপ (এসটিজি) গঠন করা হয়েছে। জেএমবি, এবিটি, হামজা বিগ্রেড, হুজি ও হিযবুত তাহরীরসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর গোপন তৎপরতা নজরদারিতে আনতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের লক্ষ্যে সভায় পুলিশ সুপার পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এগুলো হল (১) কমিউনিটি পুলিশদের মাধ্যমে গ্রামে-পাড়া-মহল্লায় অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করা, জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যদের তালিকা সংগ্রহপূর্বক ডাটাবেজ তৈরি ও তাদেরকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা, (২) ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ করা, (৩) থানা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ-সেমিনার, ওপেন হাউজ ডে এবং লিফলেট বিলির মাধ্যমে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী জনসচেতনতা গড়ে তোলা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করা , (৪) সন্তানের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনে অভিভাবকদের মনোযোগী করা এবং (৫) জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক ও অর্থের যোগানদাতাদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করার জন্য সম্ভাব্য সবধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

সভায় ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কর্মপন্থা’ শীর্ষক এক লিখিত প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ ও তথ্য জানান পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সার কারখানাসহ ১০টি কেপিআই (কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন) আছে । এসব স্থাপনায় পুলিশ প্রহরা বাড়ানো হয়েছে।

জেলায় ভাড়াটিয়া ও বিদেশি নাগরিকের তালিকা হচ্ছে জানিয়ে এসপি মিনা বলেন, এখন পর্যন্ত ৭৬৭ টি বাসায় এক হাজার ১৫৩ ভাড়াটিয়া পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। আরও তালিকা করা হবে। তাদের কোড নম্বর দেব। যাতে যে কোনো জায়গায় বাসা বদলে গেলে তথ্য রাখতে পারি। এসপি বলেন, জেলার শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং শিক্ষার্থীসহ ৪৫৭ জন বিদেশির তালিকা করা হয়েছে। তাদের নগর থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত ও নানা প্রয়োজনে সফরের সময় পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এসপি বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, দুটি বিস্ফোরক ও দুটি অস্ত্র আইনে। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ছয় সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার সংক্রান্ত মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত ১৭ জন নিখোঁজ হলেও এরমধ্যে নয়জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাকি আটজনের খোঁজ নেই। তাদের ব্যাপারে তথ্য রাখছি। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য জানলেই আইনগত ব্যবস্থা নেব। চন্দনাইশের তিন জন, হাটহাজারীর দুই জন, সীতাকুণ্ড, লোহাগাড়া ও ভুজপুরের একজন করে নিখোঁজ। তথ্য রাখছি। কনফার্ম হলেই বলব।

চট্টগ্রাম জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনবসতি ও সীতাকুণ্ড-বাঁশখালী-ফটিকছড়ি-ভুজপুরের পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধানে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান এসপি।

এসময় পুলিশ সুপারের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) একেএম এমরান ভূঁইয়া ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী। চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরাও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন।

 

মতামত...