,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মানিকছড়িতে জীপ খাদে পড়ে আহত আরও ১ জনের মৃত্যু

আবদুল মান্নান,মানিকছড়ি(খাগড়াছড়ি),বিডিনিউজ রিভিউজঃ  মানিকছড়িতে চা-বাগান শ্রমিক বহনকারী জীপ(চাঁদের) গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পদে গিয়ে ২ স্কুল শিক্ষার্থীসহ ৩ জন নিহত ও ১৬ জন গুরুত্বও আহত হয়েছে। নিহত স্কুল শিক্ষার্থী অঞ্জনা ত্রিপুরা (১০ম) ও খগেশ্বর ত্রিপুরা(৭ম) এবং গৃহীনি কমলাপতি ত্রিপুরা (৫৫)। এদের মধ্যে অঞ্জনা ত্রিপুরা ও কমলাপতি ত্রিপুরা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি ও রামগড় উপজেলার টিলাপাড়া, সাধুপাড়া, বেলছড়ি ও সালদা পাড়া থেকে ৪ গ্রুপে ২ শতাধিক শ্রমিক ফটিকছড়ির নেপচুন চা-বাগানে নিয়মিত কাজ করেন। প্রতিদিন ভোর সকালে বাগান মালিকের সরবরাহকৃত জীপ গাড়ী যোগে ওইসব শ্রমিকরা কর্মস্থলে যায়। একটি জীপ (চাঁদের) গাড়ীতে অন্তত ৪৫/৫০জন শ্রমিক যাওয়া-আসা করে থাকেন! বৃহস্পতিবার সকালে গাড়ী নং ঢাকা-ঘ-৮৯৮৩ যোগে মানিকছড়ির সাধুপাড়ার শ্রমিকরা যাওয়ার পথে তিন গইজ্জাপাড়া নামক স্থানে টিলা উঠতে গিয়ে গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে গিয়ে পার্শ্বের গভীর খাদে পদে গেলে ঘটনাস্থলেই ২ জনের অকাল মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আহত ১৬জনকে উদ্ধার করে মানিকছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা গুরুত্বর ৭জনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন এবং ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখেন। আহতরা হলেন, ফুল মালা ত্রিপুরা (১৫), মালা ত্রিপুরা (২৫), শান্তু ত্রিপুরা (৩৫), শোভা রাণী ত্রিপুরা( ১৫), কিরণ মালা ত্রিপুরা (৩০), পুলিন্দ্র ত্রিপুরা (১৫), অমল চন্দ্র ত্রিপুরা (১৫), চন্দ্রা রাণী ত্রিপুরা (১৪), সুরু কুমার ত্রিপুরা (৩০), খিরন্দ্রী ত্রিপুরা (৪০), কুলিন্দা ত্রিপুরা (৩৫), মনিবালা ত্রিপুরা (১৫), পুতলি ত্রিপুরা (১৬), মহালক্ষী ত্রিপুরা (৩০), জ্যো¯œা ত্রিপুরা(১৭) ও খগেশ্বর ত্রিপুরা (১৪)। গুরুত্বর আহতদের চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর স্কুল ছাত্র খগেশ্বর ত্রিপুরা (১৪) মারা যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ম্্রাগ্য মারমা, ইউএনও যুথিকা সরকার, ও.সি মো. আবদুর রকিবসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আহতদের খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে ছুঁটে আসেন এবং গুরুত্বর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণে সহযোগিতা করেন।
ডাইনছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী নিহত অঞ্জনা ত্রিপুরা (১৫) ও খগেশ্বর ত্রিপুরা (১৪) ত্রিপুরা। উপজেলার ডাইনছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম ও ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভাবী পরিবারের সন্তান হওয়ায় স্কুলের পড়ালেখার খরচ যোগাতে তারা চা-শ্রমিক হিসাবে ফটিকছড়ির ‘নেপচুন’ চা-বাগানে কাজ করত! কিশোর ও নারীদের দৈনিক মুজরী ১৫০টাকা! প্রতি বৃহস্পতিবারে এক সাথে সপ্তাহের মুজরী বিতরণ করেন চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৫ আগস্ট ভোর সাড়ে ৬ টায় রামগড়ের বেলছড়ি ও সালদা এবং মানিকছড়ির টিলাপাড়া ও সাধুপাড়া থেকে জীপ (চাঁদের গাড়ী) যোগে চা-বাগানে যাওয়ার পথে মানিকছড়ির তিন গইজ্জা পাড়া নামক স্থানে গাড়ীটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এয়াড়া গুরুত্বর আহত ১৬ জনের বেশির ভাগই শিশু ও কিশোর! এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে এসে তা মর্গে প্রেরণ করেন। থানার ওসি মো. আবদুর রকিব জানান, লাশের ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কিংবা আহতদের কেউ যদি মামলা না করে তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। ইউএনও যুথিকা সরকার জানান, নিরাপদে শ্রমিক কর্মস্থলে আনা-নেওয়ার বিষয়ে চা-বাগান মালিক পক্ষের কোন ত্রুটি ছিল কী বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত...