,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মানিকছড়িতে বাঙ্গালী নারী গণধষর্ণের ঘটনায় মামলা

আব্দুল মান্নান, মানিকছড়ি(খাগড়াছড়ি),বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: মানিকছড়ির সন্ত্রাস কবলিত কুমারী মৌজার ডেবাতলীর নির্জন পাহাড়ে উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক বাঙ্গালী নারী গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ী-বাঙ্গালীর সম্প্রীতি বজায় রাখতে জনপ্রতিনিধি কর্তৃক অনুষ্টিত শান্তি বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নির্জন জনপদ কুমারী মৌজার ডেবাতলীতে জনৈক শফি চৌধুরীর বাগানের পাহারাদার (নৈশ প্রহরী) মো. এমদাদুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী(৩০)কে বৃহস্পতিবার রাতে ঘর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পার্শ্ববতী জঙ্গলে গণধর্ষণ করেছে পালিয়ে যায় উপজাতি সন্ত্রাসীরা। ধর্ষীতার স্বামী ও জনপ্রতিনিধিরা খবর পেয়ে সকালে অসুস্থ নারী (৩০)কে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক ডা. মহিউদ্দীন উন্নত চিকিৎসা ও পরবর্তী করণীয়ের জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। হাসপাতালে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের ধর্ষীত নারীর স্বামী মো. এমদাদুল হক জানান, আমার দ্বিতীয় স্ত্রী ও ২শিশু সন্তান এবং আমার বৃদ্ধ মা ওই বাগানে পাহারাদার হিসাবে থাকেন। আমি মাঝে-মধ্যে সেখানে যাই। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১-১২টার দিকে ৮/১০ শসস্ত্র ও মুখোশদারী সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে আমার বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীকে মুখবেঁধে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মা কৌশলে পালিয়ে এলেও স্ত্রীকে তারা গাছের সাথে বেঁধে গণধর্ষণ করেন। সন্ত্রাসীরা উপজাতি ভাষায় একে অপরের সাথে কথা বলেছেন। ধর্ষীতার স্বামী এবং জনপ্রতিনিধিদের ধারণা, কুমারীর বিশাল এলাকার বাঙ্গালীরা তিনটহরী গুচ্ছগ্রামে বসবাস করছে। ফলে বিশাল জনপদে সন্ত্রাসীরা অপহরণ,গুম, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি করছে। ডেবাতলীর কিছু জায়গায় প্রভাবশালীদেও কয়েকটি বাগান রয়েছে। আর সেখানে পাহারাদার হিসাবে বসবাস করছে গুচ্ছগ্রামের দরিদ্র কিছু লোক। ফলে সন্ত্রাসীরা অবাধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে বেগ পেতে হয়। যার কারণে গত দু’বছরে এখানে দু’টি অপহরণ ও দু’টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। যাতে করে লোকজন পালিয়ে যায় এবং সন্ত্রাসীদের অবাধ চলাফেরার সুবিধা হয়।
এদিকে ধর্ষীত নারীকে হাসপাতালে আনার খবর পেয়ে ঐ এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতাল প্রাঙ্গনে জড়ো হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাবুল উপস্থিত হয়ে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে দেন এবং এ ঘটনার সুষ্ট বিচার দাবী করেন। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন পাহাড়ী-বাঙ্গালীর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য বিকালে কুমারী এলাকায় একটি শান্তি বৈঠক অনুষ্টিত হয়। শান্তি বৈঠকের আয়োজক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বাবুল জানান, বৈঠকে উপস্থিত পাড়া প্রধান, কার্বারী, মেম্বারসহ সকলে এক বাক্যে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে অহেতুক কেউ এলাকার সম্প্রীতি নষ্ট করবে না মর্মে ঐক্যমত হয়েছে। এদিকে সন্ধ্যায় ধর্ষীত নারীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর অজ্ঞাত ৮/১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুর রাকিব সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, অভিযোগের আলোকে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

মতামত...