,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মানিকছড়ি সোনালী ব্যাংকে শিক্ষক নাজেহালের ঘটনায় তোলপাড়!

পার্বত্যাঞ্চলের ব্যাংকগুলোতে সমতা হারে কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়ণের দাবী

আবদুল মান্নান,মানিকছড়ি(খাগড়াছড়ি)সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ মানিকছড়ির সোনালী ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তাদের হাতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহক লাঞ্চনার চিত্র ওপেন সিক্রেট! বুধবার সকালে আবারও স্কুল শিক্ষক হাজেরা খাতুন টাকা তুলতে গিয়ে একে একে ৩ জনের কাছে নাজেহালের ঘটনায় শিক্ষকসহ পুরো গ্রাহক সমাজে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সরজমিনে ৩০ মিনিটের চিত্রে দেখা গেছে, বুধবার ৩ আগস্ট সকাল ১০.১০ মিনিটে ব্যাংকের দারোয়ান গেইট খুলেন। গেইট খুলতে দেরী হওয়ার কারণে ব্যাংকের সামনে ব্যাটালিয়ন আনসার, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ প্রায় ১০/১৫ জন গ্রাহক অপেক্ষা করছিল সেখানে। পরে একে একে গ্রাহকরা ব্যাংকে প্রবেশ করেন এবং লেনদেন করতে কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়ান। সে সময় উপজেলার সাপুরিয়াপাড়া আবুল কালাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাজেরা বেগম তাঁর হিসাব নম্বর থেকে টাকা তুলতে ২৫ হাজার টাকা একটি চেক কম্পিউটার ম্যান লাথোয়াইঅং মারমাকে জমা দেন। তাতে ওই কম্পিউটার ম্যান শিক্ষিকাকে নাজেহাল করেন। কিন্তু ওই শিক্ষিকা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করে ক্যাশিয়ার কোলাশে মারমার সামনে গিয়ে ইস্যুকৃত চেক জমা দেন। এ সময় ক্যাশিয়ার একশত টাকা নোটে ২৫ হাজার টাকা দিলে শিক্ষিকা কিছু টাকা হাজার নোটের দিতে অনুরোধ করেন। তাতেই ক্যাশিয়ার ক্ষ্যাপে উঠেন এবং বলেন, এখানে গ্রাহকদের তোষামুদি করার সময় নেই ! অসহায় শিক্ষিকা ওই একশত টাকার নোটগুলো নিয়ে ম্যানাজার বিমলেন্দু বিকাশ চাকমার টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে গুনতে চেষ্ট করেন। এ সময় ম্যানাজার উত্তেজিত হয়ে বলেন, টাকা গুনার জায়গা এখানে না। বেড়িয়ে যান। একের পর এক যখন ব্যাংক কর্মকর্তা কর্তৃক একজন শিক্ষক লাঞ্চিত হচ্ছিল ঠিক সে সময় উপস্থিত গ্রাহকরা প্রতিবাদ শুরু করেন। কিন্তু তাতে কী! ম্যানাজার বিষয়টি আমলে না নিয়ে উচ্চ স্বরে গ্রাহকদেরকে ভদ্র আচরণ শিখে আসার উপদেশ দেন! এক পর্যায়ে ঘটনার শুরু থেকে পর্যবেক্ষণে থাকা একজন স্থানীয় সাংবাদিক বিষয়টি সর্ম্পকে ম্যানাজারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ম্যানাজার বিমলেন্দু বিকাশ চাকমা দায়সাড়া ভাবে বলেন, পরে ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে! এই যখন মানিকছড়ি সোনালী ব্যাংকে গ্রাহক সেবার অবস্থা। তাতেই বিগত দিনে গ্রাহক হয়রানীর সত্যতা প্রমানিত। এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা কর্তৃক শিক্ষক নাজেহালের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারী মো. ফরিদ আহম্মদসহ বিভিন্ন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, পাহাড়ের বিভিন্ন ব্যাংকে উপজাতিদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে ওসব কর্মকর্তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাঙ্গালী গ্রাহকদেরকে হয়রানী করতে দ্বিধা করেনা! তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যাংকে সমতা হারে কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়ন করা উচিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক ম্যানাজার বিমলেন্দু বিকাশ চাকমা বলেন, অপ্রত্যাশিত ঘটনা তদন্ত পূর্বক দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত...