,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মালয়েশিয়ার সাথে অচিরেই জিটুজি প্লাস চুক্তিঃবৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৭ , ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির ট্র্যাক রেকর্ড ভাল, মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে যাদের অতীত অভিজ্ঞতা আছে তারাই কর্মী পাঠাবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও 214 নুরুল ইসলাম বিএসসি। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বড় পরিসরে কর্মী পাঠাতে অচিরেই ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি সই হবে। আমরা সর্বশেষ অবস্থায় এসে পৌঁছেছি। এমওইউ সই শুধু বাকি আছে। সেটা হলেই লোক যাওয়া শুরু করবে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায়  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস ২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।  অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাসমূহের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কিন্তু ‘জিটুজি’ পদ্ধতিতে এখনও যাচ্ছে। বড় পরিসরে যাচ্ছে না। অতিরিক্ত লোক যাওয়ার পরে খেতে পাবে না, বাসস্থান পাবে না, বসে থাকবে, এটা আমরা চাই না। বড় পরিসরে কর্মী যাবে, তবে কর্মীরা কর্ম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই যাবে। এটা নিশ্চিত হওয়ার পরেই আমরা ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতা সই করব।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সির যত ভালো ভালো কোম্পানি আছে, ট্র্যাক রেকর্ড যাদের ভাল, মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে যাদের অভিজ্ঞতা আছে এসব এজেন্সির নাম মালয়েশিয়ায় পাঠাবো। সেখান থেকে তারা বাছাই করবে, ৫০, ১০০ বা ২০০ রিক্রুটিং বাছাই করবে। এরপরই তাদের সঙ্গে বার্গেনিং হবে।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরের ন্যায় এই মন্ত্রণালয় এ বছরও ১৮ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপনের আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘বিশ্বময় অভিবাসন, সমৃদ্ধ দেশ, উৎসবের জীবন।’

অভিবাসী কর্মীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৯৬ লাখ বাংলাদেশের নাগরিক অভিবাসী হিসেবে ১৬০ টি দেশে সুনামের সাথে কাজ করছেন। বিশাল সংখ্যক এই প্রবাসী কর্মীরা দেশে বেকারত্বের উপর চাপ কমানোর পাশাপাশি তারা তাদের মেধা, শ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সঞ্চিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমাদের অর্থনীতিকে দাঁড় করেছে শক্ত ভিত্তির উপর। রেমিটেন্স থেকে প্রাপ্ত আয় দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি) তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের বর্তমান ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য বিদ্যমান শ্রমবাজার ধরে রাখাসহ আমরা নতুন নতুন সম্ভাবনাময় শ্রম বাজার অনুসন্ধান করছি। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় কর্মী প্রেরণ বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে।’

বিশ্ব শ্রমবাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা আমাদের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বহুবিধ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমাদের পরিকল্পিত সবগুলো কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হলে আমরা প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ লক্ষ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সক্ষম হবো বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বেলা সোয়া ১১টায় মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং সেন্টারে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অভিবাসন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত সচিব হজরত আলীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএমইটির ডিজি বেগম শামসুননাহার, অতিরিক্ত ডিজি নিজাম উদ্দিন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রিনা রায়সহ অভিবাসন খাতের বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিরা। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন, সেমিনার বিষয়ক উপকমিটির উপ-প্রধান রাহনুমা সালাম খান।

মতামত...