,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মালয়েশিয়া ছাড়ার শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, অবৈধ শ্রমিকদের

370মালয়েশিয়ায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া  অবস্থানরত শ্রমিকদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই স্বদেশে ফিরে যেতে হবে। এই সময়ের পর বিধি লঙ্ঘনকারী কেউ গ্রেফতার হলে তার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার রিংগিত জরিমানাসহ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

এ হিসেবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া শ্রমিকদের স্বদেশে ফেরার হাতে সময় আছে দিন দশেকের মতো। অবশ্য, এই সময়ের মধ্যে কেউ স্বেচ্ছায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাকে ‘হয়রানি ছাড়া’ দেশে ফেরার সুযোগ দেবে মালয়েশিয়া।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শ্রমিকদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য সময় বেধে দিয়ে ‘থ্রি প্লাস ওয়ান’ নামে সম্প্রতি একটি প্রকল্প চালু করে দেশটির সরকার। এ প্রকল্পে বেধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় যদি কোনো ব্যক্তি নিজেকে কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পণ করে, তবে তাকে হয়রানি ছাড়া স্বদেশে ফেরত যেতে সহযোগিতা করা হবে। একইসঙ্গে যেসব শ্রমিকের বৈধ কাগজপত্রের সময়সীমা এরমধ্যেই শেষ হয়ে যাবে, তাদেরও প্রকল্পের আওতায় স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু প্রকল্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যদি বিধি লঙ্ঘনকারী কেউ গ্রেফতার হয়, তবে তার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার রিংগিত জরিমানাসহ অপরাধ অনুযায়ী এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডও হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার সরকার ‘থ্রি প্লাস ওয়ান’ প্রকল্পের সময়সীমা বাড়াতে মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে আবেদন করেছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নুর জাজলান মোহাম্মাদ জানান, ‘থ্রি প্লাস ওয়ান’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার ৬৪৭ অবৈধ অভিবাসীকে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ৭৮ হাজার ৮৭৯ জন ছিলেন গ্রেফতার এবং বাকিরা সবাই নিজ থেকে এই প্রকল্পের আওতায় এসে দেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করেছেন।

থ্রি প্লাস ওয়ানপ্রোগ্রাম
থ্রি প্লাস ওয়ান (তিন যোগ এক) প্রকল্পটি হলো স্বেচ্ছায় নিজেকে আইনের হাতে সমর্পণের ব্যবস্থা। যদি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত কোনো শ্রমিকের কাজের চুক্তির সময় শেষ হয়ে থাকে এবং তারপর তারা দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থান করে, তাহলে এই প্রকল্পের আওতায় নিকটস্থ কোনো ইমিগ্রেশন অফিসে আত্মসমর্পণ করতে পারবে। এতে বড় হয়রানি এমনকি গ্রেফতার-দণ্ডের হাত থেকেও রক্ষা পাবে তারা। কেবল তাদের জরিমানা মওকুফ বাবদ ৩০০ রিংগিত (অফিসিয়াল ফি) এবং স্পেশাল (ট্রাভেল) পাস বাবদ ১০০ রিংগিত দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, যারা স্বদেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করবেন (প্রকল্পে) তাদের সঙ্গে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে ফিরে যাওয়ার ফ্লাইট টিকিট থাকতে হবে। নিবন্ধনের সময় আবেদনকারীদের পাসপোর্টে বা সংশ্লিষ্ট কাগজে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার (ব্ল্যাকলিস্টেড) সিল মারা হতে পারে। তবে, আবেদনকারীরা সাত দিনের মধ্যে কোনো অভিযোগ-হয়রানি ছাড়া স্বদেশে ফেরত যেতে পারবেন।

এদিকে, এ প্রকল্পের বিষয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাগজপত্রহীন কিছু বাংলাদেশির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের কাছ থেকে সর্বমোট ৪০০ রিংগিতের পরিবর্তে ১০০০ রিংগিত পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রশাসন এই ‘থ্রি প্লাস ওয়ান’ প্রকল্পের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের শিগগির স্বদেশে ফেরত যাওয়ার অনুরোধ করছে। অন্যথায় ২০১৬ সালে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অভিবাসীদের কঠোর অভিযানের মুখে পড়তে হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।

মতামত...