,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মায়ের কোলে একুশ

নাছির মীর, ৬ এপ্রিল, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম নগরীর ড্রেন থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক একুশ মায়ের কোলে ফিরেছে ।

বুধবার আদালত থেকে তাকে জিম্মায় নিয়েছেন শাকিলা আক্তার- মো. জাকের ইসলাম দম্পতি। বিকালে প্রথম অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ (মহানগর শিশু আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জান্নাতুল ফেরদৌসের আদালতে একুশকে শাকিলার কোলে তুলে দেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার দেবাশীষ কুমার রায়। আদালতে অশ্রুসিক্ত নয়নে একুশকে কোলে তুলে নেন শাকিলা আক্তার। এ সময় পাশে ছিলেন তার স্বামী চিকিৎসক মো. জাকের ইসলাম। পরে সাংবাদিকদের শাকিলা বলেন, ‘একুশকে যাতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি সবাই দোয়া করবেন।’

হস্তান্তরের আগে বিচারক একুশের নামে শিক্ষাবিমাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা শেষে একুশের নতুন অভিভাবকের উদ্দেশে বলেন, ‘শিশুটির নামের সঙ্গে একুশ থাকতে হবে। কারণ আদালত থেকে একুশ হিসেবে ওকে দিচ্ছি। একুশের সঙ্গে চাইলে অন্য নাম দেওয়া যেতে পারে।’

বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমার স্বামী অসুস’ অবস’ায় হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। কিন্ত’ তারপরও আমি এসেছি বিপন্ন একটি শিশুকে বাঁচানোর জন্য। রাষ্ট্রীয় ও মানবিক দায়িত্ব পালনের জন্য।’

২৯ মার্চ কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে শিশু একুশকে শাকিলা দম্পতির জিম্মায় দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এরমধ্যে একটি শর্ত ছিল, শিশুটির প্রকৃত মা-বাবার সন্ধান পাওয়া গেলে এবং তারা নিতে চাইলে প্রমাণ সাপেক্ষে শিশুটিকে ফেরত দিতে হবে। বিচারক শাকিলা দম্পতিকে বলেন, ‘এ শর্তে আপনারা আশাহত হবেন না। কে শিশুটিকে ফেলেছেন বা কী পরিসি’তিতে ফেলেছেন সেটি নিশ্চিত না। সে কারণে জন্মদাত্রী মায়ের অধিকার সংরক্ষণের জন্য এ পথটি খোলা রাখা হয়েছে। আর আপনারা সব সময়ই শিশুটির বাবা-মা-ই থেকে যাবেন।’ এজলাস ছেড়ে যাওয়ার আগে বিচারক শাকিলা দম্পতিকে আরও বলেন, ‘আশা করি একুশকে এমনভাবে মানুষ করবেন যাতে সে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠতে পারে।’

২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় নগরের কর্নেলহাট এলাকার একটি ড্রেন থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন আকবরশাহ থানার ওসি মো. আলমগীর মাহমুদ। উদ্ধার করে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। একুশের প্রথম প্রহরের আগে উদ্ধার করার কারণে শিশুটির নাম রাখা হয় ‘একুশ’। শিশুটিকে পেতে আদালতে ১৬জন আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ১২জন আবেদনকারীর উপসি’তিতে যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে গত ২৯ মার্চ আদালত একুশকে শাকিলা দম্পতির জিম্মায় দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

বুধবার হস্তান্তরের পর বিচারক জন্মের পর শিশুটিকে প্রথম রক্ত দেওয়া আকবরশাহ থানার এসআই মো. নুরুল আলম ও শিশু আদালতের পিপি এম এ ফয়েজকে এজলাসে ডেকে নেন। এ দুজনসহ যারা শিশুটির দেখভালের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সবাইর অবদানের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রশংসা করেন বিচারক। বিচারক বলেন, ‘আমরা অনেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে বলি। কিন’ কুড়িয়ে পাওয়া শিশুকে পুলিশ রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছে। তাকে অভিনন্দন।’

একুশকে হস্তান্তরের সময় আদালতে শাকিলা আক্তারের বাবা এম এ খালেকসহ অনেকে উপসি’ত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম এ ফয়েজ বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শিশুটিকে প্রথম বছর প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর, দ্বিতীয় বছর ছয় মাস পর পর ও এরপরের বছর থেকে প্রতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করে তার অবস’া জানাতে হবে। সে অনুযায়ী আগামী তিন মাস পর শিশুটিকে আদালতে এনে তার শারীরিক অবস’া সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

মতামত...