,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মা ইলিশসহ সব ধরণের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর আজ থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক,১ অক্টোবর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::মা ইলিশসহ সব ধরণের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা  কার্যকর হয়েছে আজ। ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয়ে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে শনিবার মধ্যরাত থেকে।

ইলিশের অবাধ প্রজনন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারিভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও প্রজনন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুম পাল্টে গেছে। তাই সরকারেরও নিষেধাজ্ঞার সময় পাল্টানো দরকার। ইলিশ ধরা বন্ধের সময় কমপক্ষে আরও ১৫ দিন এগিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার মধ্যরাত থেকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সাধারণত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় পূর্ণিমার তিনদিন আগে থেকে ও অমবস্যার চার দিন পর পর্যন্ত প্রজনন সময়। ভরা মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা মা ইলিশ সাগর থেকে উপকুলীয় লোনা পানিতে এসে ডিম ছাড়ে।
নদী ও সমুদ্র দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরছেন এমন জেলেদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মা ইলিশ শিকার না করার জন্যই সরকার মূলত এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু গত মাস থেকে সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় যে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে তাতে অধিকাংশ ইলিশের পেটে ডিম ছিল। আর বর্তমানে যে ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে তা ছোট ছোট জাটকা ইলিশ। এ কারণে প্রজনন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইলিশের প্রজনন মৌসুম পাল্টে গেছে। সরকারেরও উচিত মৌসুমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞার সময় পাল্টানো।

মৎস্য বিশেষজ্ঞগণ জানান, ইলিশ প্রজননের উদ্দেশ্যে স্বাদু পানির স্রোতের উজানে অগভীর পানিতে উঠে আসে এবং ডিম ছাড়ে। মুক্ত ভাসমান ডিম থেকে পোনা বেরোয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মাছ (জাটকা) নদীর ভাটিতে নেমে সমুদ্রে পৌঁছে বড় হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রজননক্ষম হয়ে জীবনচক্র পূর্ণ করার জন্য আবার নদীতে ফিরে আসে।

জানা যায়, ইলিশ উচ্চ উৎপাদনশীল। বড় আকারের একটি ইলিশ ২০ লক্ষ পর্যন্ত ডিম পাড়তে পারে। ইলিশ সারা বছর ডিম পাড়লেও সবচেয়ে কম পাড়ে ফেব্রুয়ারি– মার্চে ও সবচেয়ে বেশি সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে। দেশের বড় বড় নদীতে জাটকা নামে পরিচিত সমুদ্রগামী অপ্রাপ্তবয়স্ক (৬–১০ সেমি) মাছ প্রচুর ধরা পড়ছে।
সরকারিভাবে জাতীয় মাছ রূপালী ইলিশের প্রজনন মৌসুম ১ অক্টোবর থেকে শুরু। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর প্রজনন মৌসুম শুরু হবে অক্টোবরের প্রথম দিকে। এজন্য শিকারে নিষেধাজ্ঞা হওয়া উচিত ছিলো পুরো সেপ্টেম্বর জুড়ে।

জানা যায়, ইলিশের প্রজনন মৌসুম শুরুর ৪/৫ দিন আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরে ওই তারিখ জেলেদের জানিয়ে দেয়া হয় যে, এই সময়সীমার মধ্যে গভীর সমুদ্রে সকল প্রকার মাছ শিকার করা বন্ধ রাখতে হবে। যেদিন এই বার্তা জেলেদের অবগত করা হয় সেদিন অথবা তার দু’এক দিন আগে অনেকে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যায়। ওইসব জেলের মধ্যে অনেকে ৫ দিন, ৭ দিন এমনকি অনেকে ১০ দিন পর তীরে এসে পড়ে বিপাকে। সেক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার অন্তত ১৫/২০ দিন আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বার্তাটি জেলেদের মাঝে দিলে তারা সঠিভাবে তা পালন করতে পারতেন।

প্রাণী ও প্রজনন বিশেষজ্ঞ ড. আবুল কাসেম চৌধুরী বলেন, ইলিশ প্রজনন মৌসুম পাল্টে গেছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞার সময়টি আরো ১০/১৫ দিন আগে দিলে ভালো হতো। গত কয়েকদিন ধরে মা ইলিশ জেলেদের জালে খুবই কম ধরা পড়ছে। যা পড়ছে তার অধিকাংশই জাটকা ইলিশ।

চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক মো. আনিচুর রহমান। তিনি বলেন, অনেক জেলে আমাদের বলেছেন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০দিন এগিয়ে দিলে সুফল পাওয়া যেতো। কিন্তু আমরা অভিজ্ঞ অনেক জেলের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ঠিকই আছে। কারণ আশ্বিনের পূর্ণিমার সময়টা প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১০দিন এগিয়ে দিলে এই পূর্ণিমার সময়টা পাওয়া যেত না।

তিনি জানান, ইলিশ ডিম ছাড়ে মার্চ পর্যন্ত। তবে অক্টোবর মাসটা হলো প্রধান প্রজনন মৌসুম।

মতামত...