,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মিরসরাইয়ে গহীণ পাহাড়ে সুড়ঙ্গ জনমনে আতংক

মিরসরাই সংবাদদাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: মিরসরাইয়ের গহীণ পাহাড়ে সুড়ঙ্গের সন্ধান মিলেছে। সুড়ঙ্গ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে প্রশাসন বিষয়টি কোন প্রাণী দ্বারা খোড়া গর্ত বলে দাবী করছেন। উপজেলার ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুরেরঘোনা ডুল্লাছড়ি এলাকায় সুড়ঙ্গটির সন্ধান মেলে।

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকে এই সুড়ঙ্গ দেখে আসলেও মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে উৎসুক জনতার ভীড় লক্ষ্য করা যায় সুড়ঙ্গটিকে ঘিরে। জনবসতি শূন্য এলাকায় কে বা কারা এই সুড়ঙ্গটি খুঁড়েছে তার সঠিক কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও ভিন্নভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। করেরহাট-বারইয়ারহাট সড়কের করেরহাট ইউনিয়নের আকবরনগর আবাসন সড়ক পথে দেড় কিলোমিটার যাওয়ার পর বাকীপথ জমির আইল, পাহাড়ী ছড়া, উঁচুনিচু পাহাড় হয়ে পাঁয়ে হেঁটে প্রায় ৫ কিলোমিটার গেলেই সুড়ঙ্গের অবস্থান। সুড়ঙ্গটির প্রায় ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোন জনবসতি নেই; রয়েছে পাহাড় আর ফসলী জমি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধান পাওয়া সুড়ঙ্গটির আধকিলোমিটারের মধ্যে ফসলী জমি নেই, তবে ন্যাড়া কিছু পাহাড় রয়েছে। সুড়ঙ্গের সন্ধান যে পাহাড়ে মিলেছে তার পূর্ব পাশের পাহাড় ছিল ঝোঁপঝাঁড়ে পরিপূর্ণ তাই কদিন আগেও অলিনগর বনবিটের আওতায় থাকা ড়ুল্লাছড়ির পাহাড়গুলোতে সম্প্রতি সরকারের বনবিভাগ নতুন বনায়নের জন্যে পরিস্কারের কাজ শুরু করলে এখানকার পাহাড়গুলো ন্যাড়া হয়ে পড়ে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জঙ্গল পরিস্কারের কাজ করতে গিয়ে বিশেষ কায়দায় খোঁড়া সুড়ঙ্গটি দেখতে পান স্থানীয় দক্ষিণ অলিনগর গ্রামের বাসিন্দা মনজুর আলম। এরপর থেকে লোকমুখে খবরটি জানাজানি হতে থাকে চর্তুদিকে।

করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগরের স্থানীয় যুবক মনজুর হোসেন বিডিনিউজ রিভিউজ.কমকে জানান, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ড়ুল্লাছড়ি পাহাড়ে আগাছা পরিষ্কার করার সময় সুড়ঙ্গটি প্রথমে দেখতে পাই। আমি ভেতরে প্রায় ২০ ফুটের মতো প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছি। সুড়ঙ্গটির আর ভেতরে যেতে পারছিলাম না; ভেতরে অন্ধকার, পথটা সুরু এবং আঁকাবাঁকা। তবে এই এলাকায় মানুষের চলাচল ছিল না।

সুড়ঙ্গের ভেতর প্রবেশ করেন দক্ষিন অলিনগর গ্রামের অপর যুবক ইলিয়াছ শরীর বিডিনিউজ রিভিউজ.কমকে জানান, সুড়ঙ্গের বিষয়ে তিনি সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লোকমুখে জানতে পারেন। সুড়ঙ্গটির ভেতরে প্রায় ৩০ ফুটের মতো তিনি গিয়েছেন। তবে সুড়ঙ্গটি কত ফুট দৈর্ঘ্যরে তার শেষ পর্যন্ত কোনভাবে যাওয়া যাচ্ছে না। তবে ১০ ফুট পরপর প্রায় ৬-৭ জন লোক বসার মতো জায়গা রয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরের পথ সঙ্কুচিত হওয়ায় আরো ভেতরে যাওয়ার জন্য নিচের মাটি সরালে কয়লা দেখতে পাই, তবে সুড়ঙ্গের উপরের অংশ কালো হয়ে আছে।

হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন সুড়ঙ্গের বিষয়ে শুনেছেন, তবে তিনি এই বিষয়ে কোন তথ্য জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, ওই এলাকায় জন চলাচল নেই।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বিডিনিউজ রিভিউজ.কমকে বলেন, এটি সুড়ঙ্গ নয়, এটি একটি গর্ত। সুড়ঙ্গ হলে একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে অন্যপাশ দিয়ে বের হওয়া যেত। সেখানে বিপদজনক কিছু নেই। তারপরও আমরা বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি। ধারণা করা হচ্ছে এটি শিয়াল বা ভাল্লুকের গর্ত হতে পারে।

মতামত...