,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা সপরিবারে অনুপ্রবেশ টেকনাফে

rohinngকায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার),বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবি’র কড়া নজরদারি থাকার পরও মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা সপরিবারে অনুপ্রবেশ করছে দলে দলে। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। গতকাল সোমবার ভোর রাতে প্রায় ২০ পরিবারের শতাধিক রোহিঙ্গা কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা স্বীকার করে বলেন, এসব রোহিঙ্গা ক্ষুধা, তৃষ্ণায় ও পরিশ্রমে কাতর ছিল।
ওইদিন সকাল ১০টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে দেখা যায়, বস্তি সংলগ্ন পাহাড়ে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে সীমান্ত পার হয়ে আসা আগের রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িঘরে নিয়ে যাবে বলে। এসময় বিজিবি সদস্যরা ওইসব রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে বস্তির পাহাড়ে অবস’ান নেয়। এসময় রোহিঙ্গা বস্তির বাসিন্দা আবু তৈয়ব নামের এক রোহিঙ্গা জানায়, সোমবার ভোর রাত থেকে যেসব রোহিঙ্গা সপরিবারে এসেছে, তারা বস্তির বিভিন্ন বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়েছে। পরে আবু তৈয়বের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশকারী ১১ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবারের সাথে দেখা হয়।
জানতে চাওয়া হলে মোহাম্মদ হাসেম (৩০) নামের এক অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা জানায়, তারা মংডু কেয়ারি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মিয়ানমার সেনাসদস্যরা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় ৪০ দিন যাবত বিভিন্ন বন-জঙ্গলে অবস’ান নেওয়ার পর প্রায় ৬ মাইল পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে উনচিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। কীভাবে সীমান্ত পার হলেন জানতে চাওয়া হলে ওই রোহিঙ্গা জানান, তারা নৌকা ভাড়া করে নাফনদী পার হয়ে সেখান থেকে গাড়িতে করে কুতুপালং পৌঁছেছে। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছে তার স্ত্রী আরেফা বেগম (২৫), মেয়ে নুর কেয়াস (১০), ফায়সাল (৮), নইমা(৭), কবুরা (৫) কাবিনা আকতার (২), মা শবে মেরাজ (৫৫), ভাই জহিরুল ইসলাম (২৫), মোহাম্মদ রফিক (১৮) ও বোন সমুদা খাতুন (১৯)। এসময় আরো বেশ কয়েকজন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে কামাল আহমদ (৪৫) নামের এক রোহিঙ্গা নাগরিক জানান, তারা এক সাথে ২০ পরিবারের শতাধিক রোহিঙ্গা উনচিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে এপারে এসেছে।
এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান, গত ২ দিনে ৩৫ পরিবারের প্রায় আড়াই শতাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি বিষয়টি তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানিয়েছেন। তবে এখনো কোনো প্রকার দিকনির্দেশনা আসেনি। কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্প ইনচার্জ আরমান শাকিল জানান, তার ক্যাম্পে যেন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, দালালচক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করছে। বিশেষ করে উনচিপ্রাং এলাকায় বিজিবি’র চৌকি না থাকার কারণে রোহিঙ্গারা এপথটি নিরাপদ মনে করে উনচিপ্রাং দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে। তিনি দালালদের চিহ্নিত করে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

মতামত...