,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মিয়ানমার সফরে পোপ

নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: রোমান ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস সোমবার মিয়ানমারে পৌঁছেছেন। এরপর বাংলাদেশও সফর করবেন তিনি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রায় চারমাস আগে সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি, মিনায়মারের সেনাবাহিনী রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর যে নির্যাতন–নিপীড়ন করছে তা ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের মধ্যেই সেখানে সফরে গেলেন পোপ। রোববার রাতে ইতালির রাজধানী রোম থেকে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। মিয়ানমারে কোনও পোপের এটিই প্রথম সফর।  সোমবার ইয়াংগুন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মিয়ানমারের কয়েকটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে পোপকে স্বাগত জানায়। এছাড়া শিশুরা পোপকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। ইয়াংগুনে সোমবার সন্ধ্যায় মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন আউং হাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। মিয়ানমার সফরকালে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের কথা বলতে গিয়ে পোপ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেন কি না, সবার দৃষ্টি রয়েছে সেদিকেই । মিয়ানমারের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা শব্দটি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন, সফরে পোপ এ শব্দটি ব্যবহার করলে তা সহিংসতার কারণ হতে পারে– এমন উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সফরে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ও দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে পোপের। মিয়ানমার থেকে পোপ বাংলাদেশে আসবেন।

এখানে রোহিঙ্গাদের ছোট একটি দলের সঙ্গে পোপের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ৮০ বছর বয়সী পোপ ফ্রান্সিস তার উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশ্বিক অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য পরিচিত। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর এ বছর নতুন করে সেনাবাহিনীর নিপীড়নের নিন্দা জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে ‘আমাদের রোহিঙ্গা ভাই ও বোনেরা’ বলেছিলেন পোপ। কিন্তু মিয়ানমার সফরকালে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার না করার জন্য পোপকে অনুরোধ জানিয়েছেন মিয়ানমারের একমাত্র ক্যাথলিক কার্ডিনাল। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে এই শব্দটির ব্যবহারে সহিংসতা শুরু হতে পারে বলে ওই কার্ডিনাল আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। মে মাসে ভ্যাটিক্যানে সু চির সফরের সময় পোপের এ সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু তারপর আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরু হয়। শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চি রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের কোনও প্রতিবাদ না করায় বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মিয়ানমারে ছয় লাখ ৬০ হাজার ক্যাথলিক খ্রিস্টান অনুসারীর বসবাস। পোপের সফরের সময় তাদের একটি বড় অংশ মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্‌গুনে জড়ো হয়ে পোপের সঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নেবে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

-বিবিসি

মতামত...