,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মুক্তির চেতনায় কবিতা

আরিফ চৌধুরী

দেশভাগের পরবর্তী সময়ের আবর্তে ইতিহাসের পট পরিবর্তনের ধারায় উনসওরের গণঅভ্যুন্থান, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন ও একাওুরের মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আত্বপরিচয়ের চেতনায় বাঙালি জাতিকে বদলে দিয়েছিলো নতুন সমাজ নিমার্ণে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বৃহওর সমাজ নির্মানে একটি জাতিসত্বাকে নতুন আশা ও আকাঙ্খা নিয়ে যে পথ দেখায়, সেই পথ নির্দেশনায় জাতীয় সংস্কৃতিতে এই চেতনা প্রবাহিত হয় তাৎপর্যময় ভুমিকার মধ্য দিয়ে। শিল্প সংস্কৃতি যেমন একটি দেশের মুক্তির সংগ্রামকে ত্বরাম্বিত করে তুলে তেমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন সমাজ গড়ে উঠে শিল্প- সাহিত্যোর বিকাশের নব ধারায়। যুদ্ধোওরকালের মুক্তি সংগ্রামের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গন এসেছে নতুন ভাবনা ও মুল্যেবোধওে বিকাশ, সষ্ণারিত হয়েছে সৃষ্টিতে উজ্জ্বলতা। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের কবি, সাহিত্যিকরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এক একজন হয়ে উঠেছিলেন প্রতিবাদী এক শব্দযোদ্ধা।
সমকালীন সময়ে সমস্ত বেদনাবোধ, বিক্ষোভ, উওাপ, সন্তাপকে ধারণ করে বাংলাদেশের কবিদের হাতে কবিতা প্রস্ফুটিত হয়ে উঠে নিজস্ব অনুভুতির চেতনায় শাণিত হয়ে। কবিদের লেখা পঙক্তিমালায় তখনকার সময়ের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা, নির্মম অত্যাচার, লুন্ঠন, নির্যাতন, ছাড়াও উঠে এসেছে মুক্তিযোদ্ধাদের রণযুদ্ধের গৌরবগাথা। স্বদেশ প্রেম তাদের কবিতার পঙক্তিতে উচ্চারিত হয়েছে অসীম সাহসে ও মুক্তির চেতনায়। যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি শামসুর রাহমান বলে উঠেন- ‘উনিশ’শ ্একাওুরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে একটা ছবি দেখেছিলাম পত্রিকায়, রাস্তার ধারে একজন গুলিবিদ্ধ মানুষ নিজের রক্ত দিয়ে লিখছেন শ্লোগান তার দেশের স্বপক্ষে, দেশবাসীর স্বপক্ষে। সেদিন গুলিবিদ্ধ মানুষটিকে স্বাধীনতার নকীব বলে মনে হয়েছিলো আমার।এই ছবি উজ্জ্বল হয়ে ফিরে আসে আমার কাছে।এই একাওুরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আমার গ্রাম পাড়াতলিতে এক দুপুরে পুকুর পাড়ে বসে লিখে ফেললাম “স্বাধীনতা তুমি” ও “তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা”কবিতা দু’টি’। মুক্তিযুদ্ধে সময়ে লেখা চেতনা জাগানিয়া কবিতাগুলি প্রকাশের প্রয়োজন দেখা দিলেও কবির জীবন বিপন্ন হতে পারে এই ভাবনা, ও দ্বিধার থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখালেন মূলত: উর্দু ভাষী বাঙালি লেখক, সমালোচক, বুিদ্ধজীবী, আবু সায়ীদ আইয়ূব। তিনি কবির ছদ্বনামে (মজলুম আবিদ) কবিতাগুলি প্রকাশের ব্যাবস্থা করলেন এবং কবিতাগুলো দিয়ে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম সংস্করণ ১৯৭২ সালে পুর্ণেন্দু পত্রী’র প্রচ্ছদে অরুণা প্রকাশন কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। যেমন-
“স্বাধীনতা তুমি
রবি ঠাকুরের অজর কবিতা , অবিনাশী গান
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা শোভিত শ্লোগান মুখর ঝাঁঝালো মিছিল
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্য পুকুরে গ্রাম্য মেয়ের অবাধ সাঁতার।
(স্ব্ধাীনতা তুমি- বন্দী শিবির থেকে)

‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্য
আর কতকাল ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতকাল দেখতে হবে খান্ডব দাহন?
পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষনার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশানা উড়িয়ে , দামামা বাজিয়ে দিগি¦দিক
এই বাঙলায়
তোমাকে আসতে হবে, হে স্বাধীনতা।
( তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা- বন্দী শিবির থেকে)

একাওুরের যুদ্ধশিবিরে মুক্তিযুদ্ধের সময় উদ্দীপনামূলক কবিতা মুক্তিকামী মুক্তিসেনাদের প্রাণে আগুন জ্বেলে দেয়, যে আগুন ঝলসে উঠে রাইফেলের প্রতিবাদী শব্দে। গ্রামের সামান্য স্কুলে শিক্ষা পাওয়া তরুণ দামাল ছেলেরা উদীপ্ত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। এই দামাল ছেলেদের প্রতিরোধের কথা ছড়িয়ে পড়ে বাংলার ঘরে ঘরে। সেই ছেলেদের প্রত্যাশার নাম গেরিলা। গেরিলা কেউ নয়, গেরিলা তাদের প্রাণ প্রিয় সন্তান। সেই গেরিলাদের গৌরবগাথা নিয়ে কবি শামসুর রাহমানের উচ্চারণ-
‘‘কেমন দেখতে তুমি? অনেকেই প্রশ্ন করে, খোঁজে
কুলুজি তোমার আাঁতিপাতি। তোমার সন্ধ্যানে ঘোরে
ঝানু গুপ্তচর ,সৈন্য, পাড়ায়, পাড়ায়। তন্ন তন্ন
কওে খোঁজে প্রতিঘর। পারলে নীলিমা চিরে বের
করত তোমাকে ওরা, দিত ডুব গহন পাতালে।
তুমি আর ভবিষ্যত যাচ্ছো হাত ধরে পরস্পর।
সর্বত্র তোমার পদধ্বনি শুনি দু:খ তাড়ানিয়া।
তুমি তো আমার ভাই, নতুন সন্তান আমার।
( গেরিলা- বন্দী শিবির থেকে)
বাঙালির মুক্তির আকাঙ্খা ও আত্ব পরিচয়ের জাগরণ ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অত্যাচার ও মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ইতিহাস কবি হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতায় উঠে এসেছে। যেমন-
‘ঝোপঝাড়, নদীনালা,ফসলের ক্ষেত
সমস্ত বাংলাই আজ কঠোর অ্যামবুশ।
সবুজ মানুষেরা অঅচম্বিতে আজ প্রত্যোকেই গেরিলা,
বাংলার আপদে আজ লক্ষ কোটি বীর সেনা
ঘরে ও বাইরে হাঁকে রণধ্বনি, একটি শপথে
আজ হয়ে যায় শৌর্য ও বীর গাঁথার মহান সৈনিক,
যেন সূর্যসেন, যেন স্পাটাকাস স্বয়ং সবাই। – (হাসান হাফিজুর রহমান)

যুুদ্ধোওরকালে গণযোদ্ধাদের মৃত্য, শত্রু হননের উল্লাস বিজয়ের স্বপ্ন নিয়ে যে সকল কবিরা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন করেছেন তাদের লেখায় উঠে এসেছে রক্তের অক্ষরে লেখা প্রতিবাদী কবিতা। কবি মাহবুব সাদিকের ‘যুদ্ধভাসান’, আবু কায়সারে’র ‘জার্নাল ৭১, হুমায়ূন কবিরের ‘লাল বলের মত গ্রেনেট’, খন্দকার আশরাফ হোসেনের ‘বাউলি ব্রীজ’ আলতাফ হোসেনের ‘অষ্টগ্রামে সমবেত মুক্তিযোদ্ধা ও জনতা’, অসীম সাহার নায়যুদ্ধ, আসাদ চৌধুরীর‘ রিপোর্ট ৭১’, ফজল শাহাবুদ্দীনের ‘এপ্রিলের একটি দিন’, সিকদার আমিনুল হকের ‘তোমার আপন পতাকা’, রফিক আজাদের নেবে স্বাধীনতা, আবিদ আজাদের ‘এখন যে কবিতাটি লিখব আমি’, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’, অন্যতম দ্রোহের কবিতা।
কবি সিকান্দার আবু জাফর স্বদেশ প্রেমের কবি। তিনি সমাজ সচেতন, সমাজের নানাবিধ সঙ্গতি ও অসঙ্গতি তার মনে দোলা দেয় নিত্য। ব্যক্তি মানুষের অসহায়তা, সমাজের মানবিক চেতনা, জনগনের জাগরণ,ও চেতনার স্বরুপ কবির মনে আশা ও সাহস জুগিয়েছে। তিনি মাতৃভূমি ও শৃংখলিত জনগনের ভালোবাসায় অনুপ্রণিত হয়ে তার মনোলোকে যে সত্য উচ্চারিত হয়েছে যে তিনি মানব মুক্তির কথা বলেছেন সর্বদাই। উনসওরের গণআন্দোলনের সময়েও তিনি রচনা করেন গণমুখী চেতনা সমৃদ্ধ কবিতা। একাওুরের মুক্তি সংগ্রামের দিনে সিকান্দার আবু জাফরের ‘বাঙলা ছাড়ো’ ও ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানের পঙক্তিমালা মুক্তিকামী মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে। স্বৈরাচারী পাকসেনাদেও লক্ষ্য কওে তার লেখা ‘বাঙলা ছাড়ো’ কবিতাটি দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ৭ই মার্চ ১৯৭১ সালে। কবিতার চরণে চরণে তিনি উচ্চারণ করেছেন ক্ষোভ, মুক্তির চেতনার দিক নির্দেশনা। যেমন-
“রক্ত চোখের আগুন মেখে ঝলসে যাওয়া
আমার বছরগুলো
আজকে যখন হাতের মুঠোয়
কন্ঠনালীর খুন পিয়াসী ছবি
কাজ কি তবে আগলে রেখে বুকের কাছে
কেউটে সাপের ছবি।
আমার হাতে নিলাম আমার
নির্ভরতার চাবি
তুমি আমার আকাশ থেকে
সরাও তোমার ছায়া
তুমি বাঙলা ছাড়ো”।
( বাঙলা ছাড়ো – সিকান্দার আবু জাফর )
স্বদেশ, সমাজ, স্বকাল, প্রবাহমান সমাজ ও রাজনীতির বিশ্বস্ত চালচিত্র, ব্যাক্তি মানুষের নানান জাগতিক চেতনা সার্থকরুপে ফুটে উঠেছে কবিতায়। মুক্তি সংগ্রামের সংকটময় মূহুর্তে মুক্তিকামী বাঙালির মনে এ কবিতা প্রেরণা , উদ্দীপনা জুগিয়েছে। তাইতো মুক্তির পক্ষের সাহসী সৈনিক তিনি। মুক্তিযুদ্ধ ও জনতার অক্লান্ত সংগ্রাম, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী উচ্চারণ মুক্তিকামী স্বাধীনতা পিয়াসী মানুষের স্বপ্ন স্বাধ, যুদ্ধ পরবর্তী মানবিক বোধের উচ্চারণ ধ্বংসস্তুপের মধ্য ফেরার আনন্দ বেদনা, স্বজন হারানো বেদনা ও হতাশার উচ্চারণ কবিদের কবিতায় উঠে এসছে নানান অক্ষরে। যুদ্ধ পরবর্তী দেশের স্বজন হারানোর বেদনা, আর্তনাদ,রাজনৈতিক অবস্থান ও পাওয়া না পাওয়র বেদনা, হতাশা কবিকে করেছে ব্যাথিত। তাইতো কবি আবুল হাসান শোকের কবিতায় বেদনার কথা উচ্চারণ করেছেন। যেমন-
‘অনেক যুদ্ধ গেলো
অনেক রক্ত গেলো
শিমুল তুলোর মতোন সোনা-রুপা ছড়ালো বাতাস
ছোট ভাইটিকে আমি আজ
কোথাও দেখি না
নরম নোলক পরা বোনটিকে
আজ আর কোথাও দেখি না
কেবল পতাকা দেখি
কেবল উৎসব দেখি
স্বাধীনতা দেখি না।
(রাজা যায় রাজা আসে- আবুল হাসান)

একাওুরের মুক্তি সংগ্রামের কালপর্বে এ দেশের মানুণের উপড় যে নির্যাতন, নিপীড়ন শুরু হয়েছিলো তা তার প্রতিবাদী চেতনায় আমাদের সচেতন লেখকদের মধ্যে তার উপলব্দি ঘটেছিলো তাদেও লেখার মধ্যে দিয়ে। তেমনিভাবে কবি সৈয়দ শামসুল হক সে দু:সময়ের স্মৃতি, আত্ব পরিচয়ের উৎস, বাঙালির জাগরণ, তার নিজস্ব আত্বপ্রকাশে উচ্চারণ করেছেন কবির ‘পহেলা মার্চ ১৯৭১ কবিতায়। যেমন-
“দ্যাখো আমি নিরস্র।
কিনতু আমার আছে সেই অ¯্র যা নি:শেষিত হয়না,
প্রতি ব্যাবহাওে তীক্ষœ থেকে তীক্ষœতর হয়ে ওঠে
আমার প্রাণ।
আমারতো একটাই প্রাণ নয়, কোটি কোটি প্রাণ।
এায়ের গর্ভে অধমি তিলে তিলে আর রক্ত দিয়ে নির্মিত,
তার প্রাণ বিদ্যুতে স্পন্দিত আমার হ্নদয়;
তার দু:সহ শোক থেকে উন্থিত আমার শরীর।
এা, তোমারই জন্য আজ আমি
প্রর্ত্যপণ করেছি আমার রক্ত, আমার প্রাণ,
যেন শোকের শেষে
আবার তুমি কোটি কোটি সন্তানের মা হতে পারো।
(পহেলা মার্চ ১৯৭১ – সৈয়দ শামসুল হক)
কবি নির্মলেন্দু গুন বাংলা কবিতায় নিজের প্রেমিক চেতনায় স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করেছেন বিপ্লবীর চোখে। তারুণোর উদ্দীপনায় স্বাধীনতার জন্য অনি:শেষ ভালোবাসায় লিখেছেন ‘হুলিয়া’ নামক অসামান্য কবিতাটি। কবিতার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন স্বাধীনতার জন্র সশস্্র যুদ্ধ সূচনা হওয়ার অব্যবহিত পূর্বের প্রেক্ষাপট। বাংলার ভবিষ্যৎ, স্বাধীনতার কথা, চেতনার দিনগুলোতে যুদ্ধোওরকালে রচিত হয়েছে একগুচ্ছ কবিতা। যে কবিতার শরীর ও মনে উচ্চারিত হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাথা। যেমন-
“ওরা আমাকে জিজ্ঞেস করবে ঢাকার খবর
আমাদের ভবিষ্যৎ কি?
আইয়ূব খাঁন এখন কোথায়?
শেখ মুজিব কি ভুল করছেন?
আমার নামে কতদিন আর এ রকম হুলিয়া ঝুলবে?
আমি কিছুই বলব না, আমার মুখের দিকে চেয়ে থাকা
সারি সারি চোখের ভেতরে
বাংলার বিভিন্ন ভবিষ্যৎকে চেয়ে দেখবো।
(হুলিয়া – নির্মলেন্দু গুন)

উনিশ’শ একাওুর সালে শত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন রাষ্ট হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করে। ১৯৪৭ সালের পর থেকে পূর্ববাংলা পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান নামধারী বাঙালি অধ্যুষিত ভুখন্ডের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ও সামাজিক, সর্বোপরী মানবিক জীবনযাপনের নানারকম বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হন। সেই পথ ধরে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বাংলাদেশ ও বাঙালিদেও আত্বত্যাগের চিত্র কবিদের করেছে ব্যাথিত ও চেতনায় জেগেছে স্বদেশের মমতা। তাদের লেখায় আবেগময়ী চেতনাবাহী কবিতা স্বপ্নভূমির নতুন করে জেগে উঠা ছাড়াও নতুন জাতির জাগরণের ও আত্ব-পরিচয়ের চিত্রাবলী কবিতায় তুলে এনেছেন তাদের পঙক্তিমালার নির্মাণে।
যে সকল কবির কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ সক্রিয় হয়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম কবি জসীমউদ্দিন, সুফিয়া কামাল, ফররুখ আহমেদ, আহসান হাবীব, হুমায়ুন কবির, আবুল হোসেন, সিকান্দার আবু জাফর, শামসুর রাহমান, দিলওয়ার, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, আল মাহমুদ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, হাসান হাফিজুর রহমান, মাহবুবুল আলম চৌধুরী, সৈয়দ সামসুল হক, বেলাল চৌধূরী, শহীদ কাদরী, সিকদার আমিনুল হক, আহমদ ছফা, ফজল শাহাবুদ্দীন, মোহাম্মদ মাহফুজউল্ল্যাহ, আবদুল মান্নান সৈয়দ, ওমর আলী, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আসাদ চৌধুরী, নির্মলেন্দু গুন, রবিউল হোসাইন, মহাদেব সাহা, রফিক আজাদ, মুহম্মদ নুরুল হুদা, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, জিয়া হায়দার, ময়ূখ চৌধুরী, মাহবুব সাদিক, শামসুল ইসলাম, শিহাব সরকার, অসীম সাহা, আবিদ আজাদ,স রবীন্দ্র গোপ, হেলাল হাফিজ, রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, খোন্দকার আশরাফ হোসেন, আবুল হাসান, ত্রিদিব দস্তিদার, মিনার মনসুর, নাসির আহমেদ, রুবী রহমান, কাজী রোজী, জুবাইদা গুলশান আরা, আনওয়ার আহমেদ, প্রমুখ।
অনেক কবির কবিতায় বাঙালি চেতনার সমস্ত অবয়ব, প্রকাশ পেয়েছে যেমনিভাবে তেমনিভাবে বাংলাদেশের কবিতার অন্তর জুড়ে সষ্ণারিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে নানান অনুসঙ্গ রুপ পেয়েছে বৈচিত্র্যতায়। কবিতার শব্দাবলিতে প্রকাশ পেয়েছে ক্ষোভ, বেদনাবোধ, তীব্রতা, আর্তি ও বেদনার স্বপ্নগাথা। যেমন কবি রফিক আজাদ তার কবিতায় তেমনিভাবে তুলে এনছেন মুক্তির চেতনা, প্রিয়তম নারীর আতির্ ও মানবিক আহবান। যেমন-
‘নেবে স্বাধীনতা নাও, তোমাকে দিলাম
নাও, তোমার দু’হাতে তুলে দিচ্ছি
পষ্ণাশ হাজার বর্গমাইলের ভিতরে যা কিছু
এ দেশ স্বাধীন করেছি আমি, আমার দু’হাত
এ আমার একমাত্র আহংকার। – (নেবে স্বাধীনতা – রফিক আজাদ)
মুক্তিযুদ্ধের কবিতায় বাংলাদেশের কবিরা সমকালের সংকট ও প্রত্যয়কে শুধু ধারণ করেন নি বাংলা কাব্য নতুন মুল্যেবোধকে তুলে এনেছেন এবং স্থাপন করেছেন নতুন চেতনায়, নতুন দিক নির্দেশনায়। চেতনার পঙক্তিমালা মুক্তির চেতনায় বিকশিত হয়েছে নতুন সম্ভাবনায়।

মতামত...