,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মেক্সিকোতে ৪ বোনের গর্ভভাড়া ব্যবসা

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, মেক্সিকোর তাবাসকো এলাকার একই পরিবারের চার বোন গর্ভভাড়া দেন। চার বোন বছরে গড়ে ৪০ হাজার ডলার আয় করেন। গর্ভভাড়া এখন তাদের পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। একটি বাচ্চা জন্ম দিয়ে ১০ হাজার ডলার আয় করেন তারা। কিন্তু তার ভাই ১০ বছরেও ১০ হাজার ডলার আয় করতে পারবে না।
•    একটি বাচ্চা জন্ম দিলে গড়ে ১০ হাজার ডলার পায় মা।

•    প্রতি বাচ্চার জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ৪৮ হাজার ডলার নেয় এজেন্সি।

•    ইউরোপ আমেরিকার সমকামী যুগলরা গর্ভভাড়া নিয়ে বাবা হন।

•    দরিদ্র নারীরা গর্ভভাড়া দিয়ে উপার্জন করে।

•    পতিতাবৃত্তি রুখতে গর্ভভাড়া সহায্য করে।

 

তবে গর্ভভাড়া দেওয়া নারীরা এজেন্সির কাছে ব্যাপক শোষণের শিকার হন। এজেন্সিগুলো প্রতিটি বাচ্চার জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ৪৮ হাজার ডলার নেয়। কিন্তু ‘সরোগেট মাদার’কে মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার ডলার দেয়। হারনানদেজ পরিবারের বড় মেয়ে মিলাগরোস হারনানদেজ ২০১৩ সালে প্রথম ‘মৌখিকভাবে’ একটি সন্তান গ্রহণ করেন। কোনো ধরণের চুক্তি ছিল না। তাই তিনি প্রতারিত হন।

শরুগস মারথা ফ্রান্সের এক সমকামীর সন্তান নিয়েছেন। তিনি এখন চার মাসের গর্ভবতী। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশিরা আমাদের সন্তান পাচারকারী চক্রের সদস্য মনে করে। কিন্তু আমরা একক মা হই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য।’

মেক্সিকোর খুবই দরিদ্র এলাকা তাবাসকো। এই এলাকার দরিদ্র নারীরা গর্ভভাড়ার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। হারনানদেজ পরিবার একই বাসায় থাকে। টাকা তাদের খুবই প্রয়োজন। গর্ভভাড়া না দিলে তাদের হোটেলের পরিচারিকার কাজ করতে হবে। অথবা পতিতাবৃত্তিতে নামতে হবে। নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য গর্ভভাড়া দিয়ে টাকা আয় করা অনেক সহজ।’

মিলাগরোস হারনানদেজ ভিন্ন ভিন্ন পিতার তিনটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গর্ভভাড়া দিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া যায় কিন্তু যৌনতার মজা উপভোগ করা যায় না।’

হারনানদেজ পরিবারে সর্বপ্রথম মারথা সফলভাবে একটি সন্তান জন্ম দিয়ে ১১ হাজার ডলার উপার্জন করেন। মারথার দেখাদেখি মারিয়াও গর্ভভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাদের ছোট বোন পাউলিনাও একই কাজ শুরু করে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর গর্ভভাড়া দেওয়া মায়েরা মাত্র ১০ দিন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান। ১০ দিন পর সন্তানকে গ্রাহকের কাছে বুঝিয়ে দিতে হয়।

মিলাগরোজস বলেন, ‘১০ দিন পর সন্তানকে গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়াই সবচেয়ে কঠিন কাজ। সর্ব প্রথম আমি পশ্চিম মেক্সিকোর এক যুগলের সন্তান গ্রহণ করি। যে সন্তান ৯ মাস গর্ভে ধরেছি, তাকে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে। এখনো অনেক সময় রাতে জেগে উঠে সন্তানকে খুঁজি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার বর্তমান গ্রাহক সন্তানের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রাখতে দেবে।’  মারথা এই সমস্যার সমাধান দিয়ে বলেন, ‘গর্ভের সন্তানের সঙ্গে থেকে আবেগকে পৃথক করে রাখতে হবে।’

মারথা তার নিজের উপদেশকে অমান্য করে নিজেই তার প্রথম সন্তানের ছবি দেখাতে থাকে। তার প্রথম সন্তানের ছদ্ম নাম সারাহ। সারাহর বাবা ফেসবুকে নিয়মিত তার ছবি পাঠায়। মারথা চায় এটা অব্যাহত থাকুক।

মারথা বলেন, ‘সারাহকে প্রথম সন্তান হিসেবে স্বীকার করে নিলে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। জন্মের পরে সারাহকে আমার কোলে দিলে দেখি সে সোনালি চুল আর সাদা বর্ণ নিয়ে জন্মেছে। তার মুখ দেখে মনে হয় সে  একদম আমার মতো হয়েছে। এটা খুবই অস্বাভাবিক অনুভূতি।’

মারথা ক্লিনিকে সন্তান নিয়ে থাকার সময় সন্তানের প্রতি প্রবল ভালোবাসা জন্মে। সন্তানের বাবা এসে কোলে নিতে চাইলে মারথা ঈর্ষা অনুভব করে। যদিও মারথার সঙ্গে সন্তানের জিনগত কোনো সম্পর্ক নেই।

মেক্সিকোর তাবাসকো এলাকার মানুষ বছরে ৯ মিলয়ন ডলার বা প্রায় ৭২০ কোটি টাকা আয় করে গর্ভ ভাড়া দিয়ে। কিন্তু এই গর্ভভাড়া দেওয়ার কোনো নিয়মন কানুন নেই। ভুয়া মেডিকেল কাজপত্র তৈরি করার হয় গর্ভধারণের জন্য। অনেক সময় জোর করে গর্ভপাত করানো হয়। আবার জন্মের পর গ্রাহকরা সন্তান না নিলে নারীরা বিপাকে পড়েন। চুক্তিমতো টাকাও নারীদের দেওয়া হয় না। তাবাসকো রাজ্য সরকার সেখানে কঠোর আইন করার পরিকল্পনা করছে।

গর্ভভাড়া সম্পর্কে স্থানীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি ভালো না। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘বিদেশি বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্য পুরো এলাকা যৌন পল্লীতে পরিণত হয়েছে।’

গর্ভভাড়া নিয়ে সন্তানে জন্মদেন সমকামী যুগলরা। ২০১৫ সালে মেক্সিকোর ভিলাহারমোশা এজেন্সি ৫০০ শিশু জন্মদানের চুক্তি সই করেছে। ৩৫ দেশের যুগল মেক্সিকোতে গেছেন সন্তান গ্রহণ করতে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা আর পশ্চিম উইরোপ থেকে মেক্সিকো যান সন্তান গ্রহণ করতে।

 

-নতুন সময়’ এর প্রতিবেদন।

মতামত...