,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মেঘের কোলে রোদের হাসিতে ঈদুল ফিতরের বর্ণিল উৎসবে মেতেছেন চট্টগ্রামবাসী

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামে ঈদের দিন মেঘের কোলে রোদের হাসিতে স্বস্ত্বিদায়ক আবহাওয়ায় ঈদুল ফিতরের বর্ণিল উৎসবে মেতেছেন চট্টগ্রামবাসী।

চট্টগ্রামে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্য আর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মানুষ।

বৃহস্পতিবার ০৭ জুলাই  চট্টগ্রামে ঈদুল ফিতরের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে।  সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম জামাতে নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে হাজার হাজার মুসল্লীর সমাগম ঘটে।  ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য এক কাতারে দাঁড়ান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধারণ মানুষ।  প্রথম জামাতে ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব জালালউদ্দিন আল কাদেরি।

aজমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।  এতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।  দ্বিতীয় জামাতে ইমামিত করেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম আল্লামা আলহাজ্ব মাওলানা নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী।

 সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীতে এবার ১৫৪ টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।  জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯০টি ঈদ জামাত।

aজমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্খান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মো.নাসির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংসদ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহাদাৎ হোসেন, জাতীয় পার্টির নেতা সোলায়মান আলম শেঠ।

প্রথম জামাতে ঈদের নামাজ শেষে খতিব দেশের মানুষের সুখ ও শান্তি কামনায় আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান।  মোনাজাতে খতিব দেশ ও সীমান্ত এবং মানুষের জানমাল হেফাজতের জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান।

মোনাজাতে ইমাম বলেন, আল্লাহ, আপনি আমাদের এবাদত বন্দেগি কবুল করুন।  এই জামাতের কেউ যেন আপনার রহমত থেকে বঞ্চিত না হয়।  বিশ্বের সকল মুসলমানের প্রতি আপনি রহমত নাজিল করুন।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকে মা-বাবাকে হারিয়েছেন।  আমাদের মা-বাবার কবরকে আপনি জান্নাতের বাগানে পরিণত করুন।  আমাদের মা-বাবার প্রতি রহমত নাজিল করুন।  আমাদের মা-বাবার সব গুণাহ আপনি মাফ করে দিন।

 জালালউদ্দিন আল কাদেরি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আল্লাহর দরবারে গুণাহ মাফ করার ফরিয়াদ জানালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মুসল্লীরা।  হাজার ‍হাজার মুসল্লীর সমস্বরে আমিন, আমিন ধ্বনি আর কান্নার রোলে বদলে যায় ঈদগাহ ময়দানের পরিবেশ।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজনীতিক-মন্ত্রী এবং সাধারণ লোকজন পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন।

 নামাজ আদায় শেষে চিরাচরিত ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বয়সী লোকজন নেমে এসেছে রাস্তায়।  পরিচিত, অপরিচিত, বিভিন্ন বয়সী লোকজন পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি, করমর্দন, হাসি, ঠাট্টায় মেতে উঠছেন।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে তরুণ, যুবকরা জড়ো হয়ে গান বাজিয়ে কিংবা হৈ, হুল্লোড় করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

ঈদ উপলক্ষে নগর ভবন সহ নগরীর বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।  চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, হাসপাতাল, এতিমখানা এবং জেলা প্রশাসনের সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

 

মতামত...