,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মেহেরপুরে স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে মোটা-তাজা কোরবাণীর পশুর চাহিদা বৃদ্ধি

cow3তোজাম্মেল আযম, মেহেরপুর  প্রতিনিধি, বিডিনিউজ রিভিউজঃ কোরবানীর ঈদ দোরগোড়ায়। এই কোরবাণীর ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুরে এবার মানুষের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে অনেক খামারি ও ব্যক্তি পারিবারিকভাবে কোরবাণীর পশু মোটা-তাজা করেছে। এসব পশু ইতোমধ্যে বাজারজাত শুরু হয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা সামনে রেখে প্রকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটা-তাজা করতে জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ তত্বাবধান করছে। এসব পশুর মধ্যে আছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। একই সাথে প্রাকৃতিকভাবে মাছ চাষও শুরু হয়েছে। প্রকৃতিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু মোটাতাজা ও মাছ চাষে কয়েক শত নারী পুরুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হয়েছে।

এবার কোরবাণীর ঈদকে সামনে রেখে ৩১ হাজার ৪৪০টি গরু, ৮১১টি মহিষ, ৫১ হাজার ৪৪৪টি ছাগল ও ১ হাজার ৩৩২টি ভেড়া মিলে মোটা ৮৫ হাজার ২৭টি পশু মোটা তাজা করা হয়েছে। মেহেরপুর জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের হিসেবে এবার ছোট বড় মিলে ৩৮৬টি খামারে গরু মোটা-তাজা করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক পরিবার একটি দুটি করে গরু মোটাতাজা প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

মেহেরপুর জেলায় গরু মোটাতাজা করার বড় ফার্ম গাংনীর মালসাদহ গ্রামে ‘এ্যাপকম ক্যাটেল ফার্ম”। সরেজমিনে চারটি শেডে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে দেখা যায়। একই সাথে মুরগি, ছাগল, ভেড়া ও ফার্মের মধ্যে একটি পুকুর নির্মাণ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ফার্মের মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম সহ জনা পনের নারি পুরুষ পশুর সার্বক্ষনিক দেখভাল করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন- পশু মোটাতাজা করতে রাসায়ানিক দ্রব্যাদি ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যা মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। ফার্মে প্রাকৃৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করা ছাড়াও মাছ চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১০ হাজার মুরগীও পালন করা হচ্ছে। গরু ও মুরগীর বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পশুকে প্রাকৃতিক ঘাস, ভুষি, খৈল, খড় সহ রাসায়নিক মুক্ত খাবার দেয়া হয়। কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য বা ট্যাবলেট গরুকে দেয়া হয় না। ক্ষতিকারক কোন ট্যাবলেট না দেবার কারনে অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো এখানে রাতারাতি গরু মোটা হয় না। এজন্যই এই ফার্মের গরু স্বাস্থ্যসম্মত। তিনি আরও জানান তার ফার্মে বর্তমানে ১৮০টি গরু রয়েছে ২৭ মাস বয়সের। প্রতিটি গরু ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে কিনে ১০ মাস লালন পালন করে কোরবাণীকে সামনে রেখে বিক্রি করেন। প্রতিটি গরু ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। ইতোমধ্যে তিনটি গরু বিক্রি হয়েছে ১লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।

গাংনী পৌর এলাকার মালসাদহ গ্রামটি ঘুরে দেখা যায় গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে একটি দুটি করে গরু পালন করতে। গ্রামের আবদুল করিম ও সালেহা বেগম অভিন্ন সুরে বলেন গত ১০-১২ বছর ধরে তারা একটি দুটি করে গরু মোটা তাজা করে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারমতো গ্রামের অধিকাংশ পরিবার গরু পালন করেই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। তারা বিদেশে শ্রমবিক্রির চেয়ে নিজদেশে এমন পরিকল্পিতভাবে গরু পালন করলে কোন পরিবারে অভাব ঢুকতে পারবে না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল জানান, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে নিষিদ্ধ ডেক্সামেথ্যাসন ট্যাবলেট খাইয়ে মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি চালু ছিল। জেলা প্রণী সম্পদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ উদ্যোগ নিয়ে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু পালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে খামারিদের।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সুশান্ত হালদার জানান জেলার অনেক খামারি শুভবুদ্ধির পরিচয় দিচ্ছে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু পালনে। প্রাণি সম্পদ বিভাগ ও জন প্রতিনিধিগণ তাদের উৎসাহিত করেছে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু পালনে। এরফলে খামারগুলোতে অনেক নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।। এই উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যাবে। প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন এখনও কোন কোন খামারি অল্প দিনে অধিক লাভের আশায় নিষিদ্ধ ইনজেকশন প্রয়োগ ও পাম বড়ি খাওয়াচ্ছে পশুকে। মোটাতাজা করণে ব্যবহার করা হচ্ছে ডেক্সামেথাসন গ্রুপের বিষাক্ত ট্যাবলেট বা ইনজেকশনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য খাইয়ে।

 

মতামত...