,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

মোবাইলে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করা যাবে আগামী মাসে থেকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::আগামী এক মাসের মধ্যে মোবাইলে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করা যাবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভাগের (বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন। তিনি জানান, ঢাকায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মোবাইল অপারেটর গ্রামীণ ফোন ও রবি সিমের মাধ্যমে গ্রাহকগণ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আর গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিল রিচার্জ করতে হবে না।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব তথ্য দেন।

প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ–সভাপতি শহীদ উল আলম, যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান স্বপন মল্লিক, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুর কাদের মনজু, সিইউজে সহ–সভাপতি নিরূপম দাশগুপ্ত, সিইউজে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ এবং সিইউজে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্য, প্রেস ক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ ও কার্যকরী সদস্য ম. শামসুল ইসলাম। সভায় ধন্যবাদ জানান ক্লাবের সিনিয়র সহ–সভাপতি কাজী আবুল মনসুর।

প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। রাস্তা সম্প্রসারণ, সংস্কারসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে আপাতত মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ বিভাগকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ২০১৬ সালে পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি) প্রণয়ন করে। ২০০৮–০৯ সালে যেখানে দৈনিক লোডশেডিং ছিল প্রায় ১৬ ঘণ্টা সেখানে বর্তমানে লোডশেডিং শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বর্তমানে দেশের ৮৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহারের আওতায় রয়েছে। সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম অঞ্চলের পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা, বাঁশখালী, চকরিয়া, মহেশখালী, মাতারবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, গ্রিড নেটওয়ার্ক ও বিতরণ নেটওয়ার্ক তৈরির প্রকল্প গৃহীত হয়েছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, প্রবীণ সাংবাদিক মাখন লাল সরকার, তমাল চৌধুরী, মুস্তফা নঈম, মো. সাইফুল আলম, আলমগীর সবুজ, সুজিত সাহা, প্রণবেশ চক্রবর্তী, মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় এ সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উপ–প্রকল্প পরিচালক প্রবীর কুমার দে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন, মো. সামছুল আলম, সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোর্শেদ মঞ্জুরুল ইসলাম, উজ্জ্বল কুমার মোহন্ত, অশোক কুমার চৌধুরী, সহকারী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
প্রশ্নোত্তরে প্রধান প্রকৌশলী নিজেদের জনগণের সেবক উল্লেখ করে বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো কাজে গ্রাহকগণ সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে প্রয়োজনে আমার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন। তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন কাজ জনগণের সামনে তুলে ধরে বিদ্যুৎ বিভাগকে উৎসাহিত করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’এর আওতায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী থানা এবং সীতাকুন্ড উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বিতরণ বিভাগ পটিয়ার আওতাধীন হাটহাজারী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ আগামী মে এবং কক্সবাজারের আওতাধীন কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অবিদ্যুতায়িত এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ চলতি বছরের জুন নাগাদ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, এছাড়া চট্টগ্রামে বিউবোর তত্ত্বাবধানে ১১শ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম জোনের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে। প্রকল্পের আওতায় বর্তমান ৮টি উপকেন্দ্র আপগ্রেডসহ আরও ১৪টি ৩৩/১১ কেভি নতুন উপকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে করে, উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ৭৫০ এমভিএ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপ উপজেলাকে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তকরণের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে।

প্রি পেমেন্ট মিটার স্থাপনের সুবিধা উল্লেখ করে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এখন গ্রাহকেরা আর ভুতুড়ে বিলের ভয়ে থাকেন না। বর্তমানে আগের মতো ন্যূনতম চার্জের সিলিং না থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সিস্টেম লস কমে গেছে। এতে করে একদিকে যেমন বিদ্যুতের অপচয় রোধ হয়েছে, অন্যদিকে এ খাতে সরকারের শতভাগ রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে।

মতামত...