,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

যমুনা অয়েল শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ৫ কোটি টাকা লোপাট?

loglনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম:: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ৫ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকার মধ্যে বর্তমান বাজার দরে প্রায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ।

জানা গেছে, অধিক লাভের আশায় শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা হয়।   গেল বছরের জুন মাসে বিনিয়োগকৃত এই বিশাল অংকের টাকা বর্তমানে ২২ কোটি টাকা এসে ঠেকেছে। শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় সৃষ্ট এই সংকট খতিয়ে দেখতে ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি কমিটি যে রিপোর্ট প্রদান করেছে তা আইনজীবীর মতামতের জন্যপাঠানো হয়েছে । আইনজীবীর মতামত পেলে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগ করা হয়েছে, যমুনা অয়েল কোম্পানির শ্রমিক কল্যাণ অংশীদারিত্ব তহবিল থেকে ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকার তিতাস গ্যাস, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, যমুনা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির শেয়ার কেনা হয়। বেশি লাভের আশায় এসব শেয়ার কেনা হলেও শেয়ারবাজার পড়তির দিকে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। জুন মাসে কেনা ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ারের দর মাত্র ছয় মাসের মাথায় ২১-২২ কোটি টাকায় নেমে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এভাবে কোম্পানির শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের অর্থ শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিনিয়োগের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষ থেকে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের অর্থ  শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কেন বিনিয়োগ করা হলো তা জানাতে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়। উক্ত নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ৫ জানুয়ারি ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষে ট্রাস্টি মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম ও চেয়ারম্যান হাবীবুল মুহিত স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদন প্রদান করা হয়। উক্ত প্রতিবেদন পাওয়ার একদিনের মাথায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। ঢাকা লিয়াঁজো অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ আইয়ুব হোসেনকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন ডিজিএম (ফিন্যান্স) মোহাম্মদ নাজমুল হক, ডিজিএম (অডিট) মোহাম্মদ খসরু আজাদ। গত ৬ জানুয়ারি গঠিত কমিটিকে দশ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছিল। তদন্ত কমিটিকে দশ কার্যদিবসের মাঝে রিপোর্ট দিতে বলা হলেও কমিটি দৃশ্যত কাজ শুরু করেন কমিটি গঠনের এগার দিন পরে ১৭ জানুয়ারি। কমিটির ডাকে অভিযুক্তরা সাড়া না দিয়ে উল্টো কাগজপত্র যোগাড়ের জন্য পনের দিন সময় চেয়ে নেন। কমিটির পক্ষ থেকে সময়ও দেয়া হয়েছে। সময়মতো কার্যক্রম শুরু না করা এবং পরবর্তীতে সময় ক্ষেপণের অভিযোগ তুলে কমিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

সূত্র বলেছে, শ্রম আইনের ২৪০ ধারার ১১ উপধারায় বলা আছে, ‘আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড সার্টিফিকেট, আইসিবি ইউনিট সার্টিফিকেট, প্রতিরক্ষা ও ডাকঘর সঞ্চয়পত্রসহ সরকারি ঋণপত্র এবং সরকার অনুমোদিত অন্য কোনো ঋণপত্রে বিনিয়োগ করা যাবে।’ ৩ উপধারায় আরও বলা হয়, ‘কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনার কাজে নিয়োজিত অংশগ্রহণ তহবিলের কোনো অর্থের ওপর, কোম্পানির ব্যাংক হারের আড়াই শতাংশ অধিক হারে অথবা এর সাধারণ শেয়ারের জন্য ঘোষিত মুনাফার হারের ৭৫ শতাংশ, যা অধিক হবে, সুদ প্রদান করবে।’ শেয়ারবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে শ্রম আইন বা বিধিতে কিছুই বলা হয়নি। অথচ কোম্পানির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের বিপুল অর্থ ক্ষতি করেছেন।

তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকতা বলেছেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া বা সময় ক্ষেপণের অভিযোগ সঠিক নয়। আসলে বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। অনেক কাগজপত্রের প্রয়োজন ছিল। আমরা নথিপত্র দেখে প্রয়োজনীয় সবকিছু তদন্ত করে একটি রিপোর্ট প্রদান করেছি।

উল্লেখ্য, কোম্পানির শ্রমিক-কল্যাণ অংশীদারিত্ব তহবিল পরিচালনার জন্য চার সদস্যের ট্রাস্টির প্রধান হচ্ছেন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) হাবিবুল মুহিত। অন্য তিন সদস্য হলেন কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কাজী মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন ও সহকারী মোহাম্মদ সেকান্দর।

ট্রাস্টি বোর্ডের এক সদস্য বলেছেন, শেয়ার বাজারে বেশি লাভ হবে আশা করে আমরা অর্থ বিনিয়োগ করেছিলাম। শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছে। এখানে আমাদের কোন ইল মোটিভ ছিল না। শেয়ারের দর বেড়ে লাভ হলে আজ হয়তো এসব প্রশ্ন উঠতো না।এব্যাপারে  কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, আমি রিপোর্ট পেয়েছি। রিপোর্টের বিষয়টির আইনগত দিক দেখার জন্য আইনজীবীর মতামত চেয়েছি। টাকাগুলোও কোম্পানির টাকা নয়, এগুলো কর্মকর্তা কর্মচারি ও শ্রমিকদের টাকা। এই টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ হয়েছে। এখন আইনজীবীর কাছ থেকে মতামত পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

বি এন আর/ ০০১৬০০২০১৮/০০০৮৪ /বি

মতামত...