,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

যুক্তরাষ্ট্রেও বিচার পারে সাংবাদিক শফিক রেহমানেরঃজয়

jay2নিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, সাংবাদিক শফিক রেহমানের বিচার যুক্তরাষ্ট্রেও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তথ্য যোগাড় করতে গিয়ে বিএনপির ঘনিষ্ট এ সাংবাদিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

শুক্রবার রাত ১২টার পর (২৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ পোস্ট দেন।

বিএনপি এবং “সুশীল সমাজ” এর একটি অংশ শফিক রেহমানের সাফাই গাইতে ব্যস্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ আনেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে।

জয় লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, অভিযুক্ত এফবিআই এজেন্ট রবার্ট লাস্টিক টেক্সট ম্যাসেজে লিখেছেন যে, রিজভী আহমেদ সিজার আমাকে ‘অফ’ করতে চায়। মেরে ফেলার অর্থে স্ল্যাং হিসেবে আমেরিকায় এ শব্দটা ব্যবহার করা হয়। তাই,
আহমেদ তার ষড়যন্ত্রের সহযোগীকে বলেছে, সে আমাকে হত্যা করতে চায়, আর সেটা সে গ্রেফতার হওয়ার অনেক আগেই।”
“গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে জেরার দায়িত্বে থাকা এজেন্টদেরও সে একই কথা জানিয়েছে। ট্রায়ালের মাধ্যমে আহমেদ দোষী সাব্যস্ত হয়নি। সে অপেক্ষাকৃত লঘু অপরাধে দোষী বলে নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে, যা গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীরা মামলা হেরে যাওয়া ও দীর্ঘ কারাবাস এড়াতে করে থাকে। হত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার দীর্ঘ সময় জেল খাটার সম্ভাবনা থাকলেও সেই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে সে কারাবাসের মেয়াদ কমিয়েছে।”

লাস্টিকের সঙ্গে শফিক রেহমানের সরাসরি যোগাযোগ ছিলো উল্লেখ করে জয় লিখেন, “যদি তথ্য যোগাড় করার জন্য কোনো সাংবাদিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নেয়, সেক্ষেত্রে সেটা অপরাধ। এটা যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অপরাধ তাই যুক্তরাষ্ট্রেও শফিক রেহমানের বিচার হতে পারে।”

ফেসবুক পোস্টের শেষে জয় লিখেন, “সবশেষে জানাতে চাই, শফিক রেহমান মার্কিন নাগরিক না হয়েও ঘুষের মাধ্যমে এফবিআই এর গোপন নথি কিনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এটা গুপ্তচরবৃত্তি এবং এর শাস্তি কোনো দুর্ভেদ্য যুক্তরাষ্ট্রীয় জেলে আজীবন কারাবাস।”

জয় সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার জন্য এক এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের কারাদণ্ড হয়।

মার্কিন আদালতে প্রসিকিউশনের নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে ‘অপহরণ, ভয় দেখানো ও ক্ষতি করাই’ ছিল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য।  সিজার কিছু তথ্য বাংলাদেশি ‘একজন সাংবাদিককে’ সরবরাহ করেছিলেন এবং বিনিময়ে ‘প্রায় ৩০ হাজার ডলার’ও পেয়েছিলেন বলেও সেখানে উল্লখ করা হয়।

ওই ঘটনাটি নিয়ে ২০১৫ সালের ৩১ মে ঢাকার পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পুলিশ, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়। ওই মামলাতেই গত ১৬ এপ্রিল শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

প্রথম দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার শফিক রেহমানকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত।

শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মাহমুদুর হাসান পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জালাল আহমেদ জানান।

গত শতকের ৮০’র দশকে সাপ্তাহিক যায়যায়দিন সম্পাদনার মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া শফিক রেহমানের সঙ্গে পরে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের ‘নোংরা’ কূটকৌশলের অংশ হিসেবে শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি তথ্য পেয়েই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

মতামত...