,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বেছে নিচ্ছেন মার্কিনীরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের ৯টি অঙ্গরাজ্যে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।

অবশ্য এর আগে মধ‌্যরাতেই ভোট দিয়েছেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের তিন কেন্দ্রের নিবন্ধিত ভোটাররা। খবর এএফপি, বিবিসি ও সিএনএনের

আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার শুরু হলেও এরইমধ্যে আগাম ভোট দিয়েছেন দেশটির অন্তত ৪ কোটি ৪৯ লাখ ভোটার।

সকালে আনুষ্ঠানিক ভোট শুরু হওয়া রাজ্যগুলো হলো—কানেকটিকাট, ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকি, মেইন, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, ভার্মন্ট এবং ভাজির্নিয়া।

প্রথম নারী হিসেবে হিলারি ক্লিনটন নাকি আলোচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে দেশ চালানোর ক্ষমতা আসবে; তাই নির্ধারণ হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এ নির্বাচনে।

ইউএসএ টুডে জানায়, নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের ছোট্ট তিন শহরে মধ্যরাতের ভোটে হিলারির চেয়ে ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন। ডিক্সভিল নচ, হার্টস লোকেশন ও মিলসফিল্ড—এই তিন শহরে ট্রাম্প ৩২ ও হিলারি পেয়েছেন ২৫ ভোট।

ডিক্সভিলি নচ শহরে অবশ্য ট্রাম্পকে হারিয়েছেন হিলারি। আট ভোটারার মধ্যে হিলারি ৪ ও ট্রাম্প ২ ভোট পান। হিলারির জয়ের ধারা অব্যাহত ছিল হার্টস লোকেশনেও। সেখানে হিলারি ১৭ ও ট্রাম্প ১৪ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু মিলসফিল্ডে হিলারির চেয়ে চার গুণ বেশি ভোট পান ট্রাম্প। এই শহরে ট্রাম্প পেয়েছেন ১৬ ও হিলারি পেয়েছেন ৪ ভোট।

বিবিসি জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতেই ভোটের ফল প্রকাশ শুরু হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটারদের দেওয়া ভোট সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কার্যকরী নয়। তাদের ভোটে নির্বাচিত হন দুটি ছাড়া বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোর ইলেকটোরাল কলেজের সদস‌্যরা। আর এই নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটেই নির্বাচিত হন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজের সংখ‌্যা ৫৩৮ জন। এর মধ্যে যে প্রার্থীর ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত হবে তিনিই হবেন বারাক ওবামার উত্তরসূরী।

এদিকে, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তের একাধিক জরিপে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের চেয়ে গড়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন।

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় দুই প্রার্থীই ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে খ্যাত নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও মিশিগান চষে বেড়ান। হিলারি ‘একটি আশাবাদী, সমন্বয়বাদী এবং বড় হৃদয়ের’ যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ফিরিয়ে আনতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। আর ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকে পরাজিত করার এক অসামান্য সুযোগ’ না হারানোর জন্য তাকে ভোট আহ্বান জানান ট্রাম্প।

শুরু থেকেই এবারের নির্বাচনী প্রচারণা ছিল তিক্ততায় পরিপূর্ণ। মুসলনমান, হিস্পানিক, কালো এবং নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ নানা মন্তব্য করতে শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মুসলনমানদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের কথাও বলেন তিনি। বেফাঁস এসব মন্তব্যের জন্য কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। এমনকি রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতাদেরও অনেকেই তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেন।

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভারে দাফতরিক ইমেইল চালাচালি হয় ট্রাম্পের ‘তুরুপের তাস’। গত জুলাইতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই প্রধান জেমস কোমি বলেন, ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে স্পর্শকাতর তথ্য আদান-প্রদানে অসতর্ক থাকলেও কোনো অপরাধ করেননি। তবে গত ২৮ অক্টোবর এফবিআইপ্রধান আবারও ইমেইল তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেন হিলারিসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা। এরপর দলীয় মনোনয়ন লাভের পর প্রায় জরিপে এগিয়ে থাকা হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান কমতে থাকে।

তবে গত রোববার কোমিই আবারও বলেন, হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইলের নতুন তদন্তেও বেআইনি কিছু পাওয়া যায়নি। এফবিআইয়ের এ সিদ্ধান্তে অবশ্য নাখোশ হন ট্রাম্প।

মতামত...