,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রণি প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত এজেন্টদের প্রতিহিংসার শিকার

abnr ad 250x70 1নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির গ্রেফতার, দুই বছরের কারাদণ্ড ও অস্ত্র আইনে মামলার পেছনে নগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার দূরত্ব নয়, প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত এজেন্টই দায়ী বলে মনে করে ছাত্রলীগ।

শুক্রবার (১৩ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু এমন মন্তব্য করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি রনিকে আটক ও কারাগারে পাঠানোর জন্যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন-অর-রশিদ ও হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল হোসেনের ছাত্রজীবনে ‘শিবির কানেকশন’র বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত এজেন্টদের অপসারণ করে রনির বিরুদ্ধে চক্রান্তের হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে সরকারের প্রতি আবেদন জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুন-অর-রশিদ সিলেট থেকে এসে ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আইন অনুষদে ভর্তি হন। শুরুতেই তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির অধ্যূষিত শাহ আমানত হলে ওঠেন। চবির তখনকার ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে তিনি শিবিরের ক্যাডার হিসেবেই চিহ্নিত ছিলেন এবং তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত চবি শিবিরের নেতা ছিলেন। হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ক্যাম্পাসের চিহ্নিত সন্ত্রাসী হামিদ গ্রুপের সদস্য ছিলেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের ক্যাডার হিসেবে আবির্ভূত হন। চাকরিজীবনে তিনি চট্টগ্রামে জামায়াতের দূর্গখ্যাত ফটিকছড়ির ভুজপুর ও সাতকানিয়া থানায় ওসির দায়িত্ব পালনকালে স্বাধীনতা বিরোধীদের সক্রিয় সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান। ভুজপুরে সংঘটিত হেফাজতের নারকীয় তাণ্ডবের ঘটনা তার দায়িত্বকালীনই ঘটে। তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই এক ডজন প্রাণহানিসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের অঙ্গহানি ঘটে। তার চাচাতো ভাই কুমিল্লার দেবিদ্বার থানা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের মধ্যে সাম্প্রতিক দূরত্ব সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে ইমু বলেন, ছাত্রলীগ অবিচ্ছেদ্য সংগঠন। উনারা (মহিউদ্দিন ও নাছির) মুরুব্বি ও দুজনই ছাত্রলীগের অভিভাবক। তারা সম্মানিত ব্যক্তি। রনি গ্রেফতারের সঙ্গে তাদের  সম্পর্ক নেই।

রনির মুক্তির দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি জানতে চাইলে ইমু বলেন, ছাত্রলীগ নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। ইতিমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন করেছে, আপনারা দেখেছেন। আগামী দিনে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আন্দোলনও চালিয়ে যাবো। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি প্রেস নোটের মাধ্যমে জানিয়ে আপনাদের (সাংবাদিক) জানিয়ে দেবো।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তালে আলী, ইয়াসিন আরাফাত কচি, সৌমেন বড়ুয়া, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, নোমান চৌধুরী, রুমেল বড়ুয়া রাহুল, শাহীন মোল্লা, নাইম রনি, একরামুল হক রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাগারিয়া দস্তগীর, রনি মির্জা, সুজন বর্মণ, গোলাম ছামদানি জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম খান, আমির হামজা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রহিম জিল্লু, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, রাঙামাটির আবদুস জব্বার সুজন প্রমুখ   ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৭মে মির্জাপুর ইউনিয়নে নির্বাচন চলাকালীন নূরুল আজিম রনি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছিলেন এবং তিনি কখনো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেননি। ওই ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার কোনো ধরনের গোলযোগ, অনিয়ম, ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে করেননি। প্রিজাইডিং অফিসার জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কোনো প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে কোনো ধরনের অভিযোগ করেননি। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, নূরুল আজিম রনিকে ছলে-বলে-কৌশলে ফাঁসিয়ে দেওয়ার একটি ছক আগেই তৈরি করে রাখা হয়েছিল।

নির্বাচনী বিধিবিধান লঙ্ঘনের কারণে কোনো অপরাধীর সাজা তিন দিন, সাত দিন বা এক মাসের বেশি হতে পারে না। চলমান ইউপি নির্বাচনে দেশের কোথাও নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কাউকে দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়নি। এছাড়া একটি কথিত অপরাধের জন্যে দুই বছর সাজা দেওয়ার পরও রনির বিরুদ্ধে ভুয়া জব্দ তালিকা দিয়ে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা বিধিসম্মত নয়। একজনকে সাজা দেওয়ার পর আরেকটি মামলা দায়ের করা উদ্দেশ্যমূলক, যাতে রনি জামিনে বেরিয়ে এলেও অপর মামলায় তাকে আটক দেখানোর পাঁয়তারা মাত্র। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, রনিকে সাজা দেওয়া হয়েছে একজন সাব ইন্সপেক্টরের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে। মামলায় বিজিবির দায়িত্বরত কর্মকর্তা বা তাদের সাথে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটকে সাক্ষী করা হয়নি। আমরা মনে করি ওই ম্যাজিস্ট্রেট আইন সম্পর্কে অবগত নন এবং প্রতিহিংসামূলকভাবে তিনি সরকারের নির্বাচন আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে রনিকে গ্রেফতারের ঘটনাটি সাজিয়েছেন।

 

মতামত...