,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রমজানের মাঝপথে টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য বিক্রি বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের স্থিতিশীল রাখার জন্য বিকল্প বাজার হিসাবে সরকারী উদ্যোগের অংশ হিসাবে সরকারী সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ(টিসিবি)র মাধ্যমে খোলা বাজারে ট্রাক সেল ও ডিলারদের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বিক্রি শুরু হলেও মাঝপথে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেবার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভপ্রকাশ করে এ ঘটনাকে ব্যবসায়ীদের লুটপাট করার সুযোগ করে দেয়ার সামিল বলে দাবী করে অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির ট্রাক সেল ও ডিলারদের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখার দাবী জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি। মাঠ পর্যায়ে টিসিবির কার্যক্রম বন্ধ হবার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অদুরদর্শী ও একপেশে এ সিদ্ধান্তকে হঠকারী ও সাধারন জনগনের বিপক্ষে এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে সুবিধা প্রদানের ঘটনা বলে আখ্যায়িত করে এ ধরনের ঘটনা সাধারন জনগনের মাঝে বর্তমান সরকারের অনেকগুলি অর্জনের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্ঠি করবে মত প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন রাস্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টিসিবি জাতির জনকের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান এবং তিনি সংকট মুহুর্তে বিকল্প বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে এটা প্রতিষ্ঠা করলেও ’৭৫ পরবর্তী সবগুলি সরকারই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় টিসিবিকে সচল হতে দেয়নি। এটি অনেকটা খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলার মতো অবস্থা। দাম বাড়লে সাধারন মানুষ সাশ্রয়ী পণ্য কেনার জন্য টিসিবির উপর ভরসা করলেও টিসিবি কর্তৃপক্ষ সব সময় কিছু ব্যবসয়ীদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর থাকেন। যার কারনে টিসিবি মাথা তুলে দাড়াতে পারছে না। রমজানের পুর্বে ট্রাক সেল ও ডিলারদের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির ঘোষনা দিয়ে টিসিবি কর্তৃপক্ষ মাঝপথে হঠাৎ করে বন্ধ দিয়ে ব্যবসায়ীদের লুটতারাজকে উস্কে দিচ্ছে। এ জন্য টিসিবি কর্তৃপক্ষ ও বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতার যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং এর নেপত্ত্যদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
 
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ক্যাব দীর্ঘদিন ধরেই দাবী করে আসছিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যের বিকল্প বাজার হিসাবে টিসিবিকে কার্যকর করার জন্য দাবী করলেও একশ্রেনীর ব্যবসায়ী টিসিবিকে সক্রিয় করতে সরকাকে বাঁধা প্রদান করছে। তাদের যুক্তিহলো টিসিবি অথর্ব প্রতিষ্ঠান এবং লোকসানি। অন্যদিকে সরকারী চিনি ও খাদ্য সংস্থার আওতাধীন চিনি মিলগুলিতে বিপুল পরিামান অবিক্রিত চিনি মজুত থাকলেও চিনি সংকটের সময় তাদেরকে অঘোষিত ভাবে বাজারে আসতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে ৪২ টাকার চিনি বাজারে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
বিবৃতিতে বলেন রমজানের পুর্বে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের সাথে দফায় দফায় মিটিং করা হলে তারা আমদানিকৃত পণ্যের উপর ৫ টাকা লাভে পণ্য বিক্রির কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। বড় আমদানিকারকরা রমজানের পুর্বে সব পণ্য পাইকারদের হাতে তুলে দিয়েছে নিজেদের পাওনা বুঝে নিয়েছেন। আবার আতদারদের সাথে মিটিং করার সময় মরিচ, শশা ও বেগুনে প্রতিকেজি ১০টাকার বেশী লাভ না করার প্রতিশ্রতি দিলেও প্রকৃতপক্ষে সেখানে তারা তাদের সেপ্রতিশ্রুতি রাখেনি। অন্যদিকে চিনির মিল মালিকগন দেরীতে সরবরাহ করে খুচরায় ৫০ টাকার চিনি ৬০ টাকায় উন্নীত করেছে। অথচ সরকারী চিনিকলগুলির বিপুল পরিমান চিনির মজুত থাকা সত্ত্বেও চিনির দাম নাগালের বাইরে। আর কাপড়ের বাজারতো মহা লুটতরাজ। সেখানে লাভ বিশগুনেরও বেশী।
 
বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন ব্যবসায়ীরা সরকারে আশ্বস্ত করলেও মুক্ত বাজার অর্থনীতির ধোঁয়া তুলে যে যেভারে পারে সেভাবে মুল্য নির্ধারন ও আদায় করছে, সেখানে ব্যবসায়ের বিন্ধুমাত্র নীতি নৈতিকতা ছাড়া ১৫ টাকার কাচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি করছে, ৩ মাস  পুর্বে ৫০ টাকায় আমদানি করা ছোলা ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি করছে। ৪০ টাকার চিনি ৬০ টাকায় বিক্রি করছে। আর প্রশাসনকে আশ্বাস দিয়েছিল প্রতি কেজিতে ৫ টাকা লাভ করবে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে একই বাজারে বিভিন্ন জনের হাত বদলের পর দাম আদায় হচ্ছে ক্ষেত্র বিশেষ এ দশগুনেরও বেশী।
 
নেৃতবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ক্যাব রমজানের অন্তত ১৫ দিন পুর্বে বাজার মনিটরিং এর দাবী করে আসলেও একশ্রেনীর ব্যবসায়ীদের আশ্বাসে ও বাজার স্থিতিশীল থাকবে, পর্যাপ্ত মজুত ইত্যাদি কথায় বিলম্বে বাজার মনিটরিং শুরু করায় ভোগ্য পণ্যের বাজার অস্থির হয়ে আছে। আর ব্যবসায়ীরা এটাকে স্বাবাভিক বললেও প্রকৃতপক্ষে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠির জন্য এটা বাড়তি বোঝা যা সরকারের অনেকগুলি উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ম্লান করে দিচ্ছে।
 
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেন তারা হলেন ক্যাব কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু প্রমুখ। প্রস বিজ্ঞপ্তি 

মতামত...