,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাউজানের ভণ্ড পীরবাবা ছোটন ফকিরের ১ বছর জেল ৩ সহযোগীর জেল-জরিমানা

ভণ্ড পীর বাবা ছোটন ফকির তার ১ সহযোগী

রাউজান সংবাদদাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামের রাউজানে ছাগলের নাড়িভূঁড়িকে নিজের নাড়িভূঁড়ি বলে পুকুরে পরিষ্কার করে আবার পেটে ঢুকিয়ে বড় আধ্যত্মিক ফকির রটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক  সেই কথিত অলৌকিক ক্ষমতাধর ভন্ড ফকির মো. ছোটন ও তার তিন সহযোগীকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যামাণ আদালত।

কথিত অলৌকিক ক্ষমতাধর ভন্ডপীর ফকির ছোটন তার গদিতে হুক্কায় আয়েশি টান দিচ্ছে! পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পূর্বাহ্ণে।

শুক্রবার দুপুরে থানা পুলিশ ভন্ড ফকির ও তার সহযোগীদের ভ্রাম্যামাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজার দপ্তরে হাজির করা করা হলে ওই চারজনকে পৃথকভাবে জেল ও জরিমানা প্রদান করেন।

রাউজান থানার এস.আই মুরাদ জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত ভন্ড ফকির কদলপুরের সিকদার পাড়া প্রকাশ আবু শাহ’র বাড়ির মো. শফির ছেলে ভন্ড ফকিরকে (২২) একবছর বিনাশ্রম জেল, সহযোগী হিসেবে একই ইউনিয়নের মকবুল আহমদের ছেলে মো. ফরহাদকে একমাসের বিনাশ্রম জেল দেন। তার দুই সহযোগী বাগোয়ান ইউনিয়নের মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে জেবর মুল্লুককে ও কদলপুর ইউনিয়নের শাকির মাহামুদের ছেলে শাকিল মাহমুদকে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহকারী সাধনা চাকমা বলেন ভন্ড ফকির ছোটন নাড়িভূঁড়ি বের করে পুকুরে পরিস্কার করার কথা প্রচার করে এবং সাধারণ মানুষের সাথে নানাভাবে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করায় তাকে ও তার সহযোগীদের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার বহুল প্রচারিত অন-লাইন নিউজ পোর্টাল- বিডিনিউজ রিভিউজ.কম সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ‘এ সংক্রান্ত স্বচিত্র সম্মৃদ্ধ সংবাদ ‘টক অব দ্যা টাউনে’এ পরিণত হয়। এ ছোটনের ভন্ডামি  প্রকাশ পাওয়ার পর তার কুকীর্তির ব্যাপারে অনেকে মুখ খুলতে শুরু করেছে।

কদলপুর আশরাফ শাহ (র.)’র খলিফা আবু শাহ (র.)’র বংশধর শাহাজাদা জামাল উদ্দিন শাহ, মো. আবু তালেব শাহ, কুতুব উদ্দিন শাহ, আমিনুল হক শাহ, মৌলানা নেজাম উদ্দিন শাহ, মখছুদুল হক শাহ খোকন, শরফুদ্দিন শাহ প্রকাশ শফি শাহ, রোকন উদ্দিন শাহ, নাহিদ শাহ, হাবিব শাহসহ এলাকার অনেকে শুক্রবার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ভন্ড ফকির ছোটন আবু শাহ’র কোন বংশধর নয়, সে ৫ বছর ধরে নামের আগে ‘সৈয়দ’ ও নামের শেষে ‘শাহ’ লিখে নিজেকে স্থানীয় আশরাফ শাহ (র.) প্রদত্ত কেরামতি পেয়েছে বলে দাবি করে আসছে। শুধু তাই নয় সে নিজেকে চট্টগ্রাম তথা রাউজানের  আবু শাহ (র.) আওলাদ দাবি করে আশরাফ শাহ (র.)’র ‘দান’ (অলৌকিক কেরামতি) পেয়েছে বলে লিফলেট, ব্যানার ও দালালদের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে আসছিলে দীর্ঘদিন থেকে। তখন থেকে মূল মাজারের ওরশকে অবজ্ঞা করে তার বাড়িতে আস্তানা গড়ে তোলেছে ছোটন। সেখানে বার্ষিক ওরশের নামে গরু, ছাগল, মহেশ নিয়ে প্রতারণা করছে। দালালের মাধ্যমে নিজেকে বড় অলি প্রচার করে তাবিক–কবজ দিয়ে বিভিন্ন রোগ ভালো করার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে। আশরাফ শাহ ও আবু শাহ’র ভক্তরা মাজারের মূল গেট দিয়ে আসার সময় ছোটনের লালিত দালালরা মাজার বিমূখ করে ছোটনের কাছে গিয়ে তাবিজ, পানিপড়া নিতে যেতে বলতেন।

পাহাড়তলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন শুক্রবার রাতে বলেন ‘থানা পুলিশ আটক করতে আসলে তার বড় ভাই আজগর আলী ভন্ড ফকির ছোটনকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আমাকে ৮ লাখ টাকার অফার করে। কিন্ত আমি আমার এলাকায় কোন ভন্ড ফকিরকে প্রশ্রয় দিতে রাজি নয় বলে তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি। এলাকাবাসী জানান, ভন্ড ছোটনের খাদেম হিসেবে কাজ করতো পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ও তার ভাগিনা মো. আরিফ, দন্ডপ্রাপ্ত কদলপুরের শাকিল মাহামুদ, ফরহাদসহ অনেকে। তারা ছোটনকে বড় আধ্যত্মিক অলি বলে প্রচার চালায়। ছোটনের পক্ষে সাফাই গাইছেন খোদ কদলপুর ইউপির ১.২.৩ ওয়ার্ডের মেম্বার রাশেদা আকতার ও তার স্বামী মোহাম্মদ ইছাক। এ দু’জন ওই ফকিরে গুণের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তাদের ৬ষ্ঠ শ্রেণী ছাত্রী আকলিমা আকতার দুইমাস পূর্বে হঠাৎ জ্বিনের আছরে বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়ার পর ছোটন শাহ’র ঝাঁড়–ফুঁকে ভালো হয় বলে তার দালাল্রা প্রচার করে যা সম্পূর্ণ ভুয়া খবর।

ভন্ড ফকিরের গ্রেপ্তারের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কদলপুরসহ পুরো রাউজানের মানুষের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কথিত বাবা ছোটনকে পুলিশ ধরার পর এলাকার মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করে। ঊনসত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ও তার ভাগিনা মো. আরিফসহ তারা ভ– ছোটনের সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান সাধারণ মানুষ। ওই এলাকায় আরো কিছু এরকম আরো যারা ভন্ড ফকির আছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তরপাড়া গ্রামের শাহদুল্লাহ কাজী বাড়ি এলাকায় বশির মোহাম্মদ শাহ (র.) মাজারের পুকুরে ভন্ড ফকির ছোটন নিজের নাড়িভূঁড়ি কেটে বের করার পর তা পুুকুরে পরিস্কার (ধুয়ে) করে আবার পেটের ভেতর ঢুকিয়েছে– এমন অলৌকিক গুজব ছড়ায় তার কিছু ভক্ত দিয়ে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে আশরাফ শাহ (র.) আস্তানা শরীফে বসে সেই নাড়িভূড়ি ভক্তদের দেখাচ্ছিল এবং তা পরে কবর দেয় ভক্তদের মাধ্যমে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই আধ্যত্মিক ফকিরের দোয়া ও পানিপড়া নিতে হাজার হাজার নারী পুরুষ জমায়েত হয়েছিল। এরপর তা প্রকাশ হলে পুলিশ ছোটনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষা করতে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছোটের শরীরে কোন কাটাছেঁড়া নেই বলে নিশ্চিত করেন এবং শারীরিকভাবে সে সুস্থ আছে।

পুলিশ ও সাংবাদিকদের ভন্ড ফকির ছোটন জানায়, ছাগলের নাড়িভূঁড়িকে নিজের নাড়িভূঁড়ি বলে পুকুরে পরিষ্কার করে আবার পেটে ঢুকিয়ে বড় আধ্যত্মিক ফকিরের অলৌকিক গুজব রটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়ে ১ বছরের সাজা পায়।

মতামত...