,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাউজানে জাতীয় শোক দিবসে ৩৫ হাজার লোকের কাঙ্গালী ভোজ

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান,১৫ আগস্ট, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: স্বাধীন বাংলার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে রাউজানে স্বেচ্ছায় এক হাজার এক’শত চার জন মানুষের রক্তদানসহ দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে রাউজান উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে রক্তদান, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প কর্মসূচি ছাড়াও খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, ৩৫ হাজার কাঙ্গালি ভোজসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। রক্তদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেন মেডিকেল ও ডেন্টাল ছাত্র-ছাত্রী দ্বারা পরিচালিত ‘সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ইউনিট। রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ বশির উদ্দিন খানের পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্র দূত নুরুল আলম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার (এসপি) নুরে আলম মিনা, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা, ইউনুস গণি চৌধুরী, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সভানেত্রী দিলোয়ারা ইউসুফ, শাহ মুহাম্মদ আলমগীর, রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল, ইউএনও মো. শামীম হোসেন রেজা, পৌর মেয়র (২) জমির উদ্দিন পারভেজ, চুয়েট ভিসি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া খানম মিনা, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বখতেয়ার সাঈদ ইরান, সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব, চুয়েট সহকারী রেজিষ্ট্রার মফিজুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোনায়েদ কবির সোহাগ, রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ। রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধক এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেন, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর জম্ম না হলে, এদেশের স্বাধীনতা অজর্ন সম্ভব হতো না। বাঙ্গালী জাতীকে পরাধীনতার বন্ধি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছে জাতীর জনক। কিন্তু স্বাধীনতার সুফল অর্জনের আগে ১৯৭৫ সালে অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুনসহ স্বপরিবারকে হত্যা করেছে খন্দকার মোস্তাকের নেতৃত্বে মেজর জিয়ার দোসর বাহীনির চিহিৃত বেঈমানরা। তারা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে পাকিস্তানী ভাব ধারায় এদেশ পরিচালিত হবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর বিদেশে অবস্থানরত বঙ্গ কন্যা শেখ হাসিনা স্বদেশে এসে আওয়ামীলীগের হাল ধরেন। এদেশের মানুষকে পিতার দেখা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ নির্মানে কাজ করে চলেছেন তিনি। তিনি বলেন, রাউজান দেখে আমি মুগ্ধ। ফজলে করিম রাউজানকে সাজিয়েছে পরিপূর্ণ ভাবে। রাউজান এখন সন্ত্রাস মুক্ত, রাজাকার মুক্ত। তিনি পরিচ্ছন্ন রাউজানে সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রধান অতিথি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছে। দিয়ে গেছে একটি লাল সবুজের পতাকা। তার রক্তের সাথে যারা বেঈমানি করেছে তাদের বিচার এদেশের মাটিতে হয়েছে। আর যারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদেরও শাস্তি বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাউজানকে একটি মডেল ও উন্নত উপজেলায় পরিনত করেছি। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন। যারা উন্নয়ন ও নেতৃত্বের গুণাবলি দেখে ঈসার্ণিত হয়ে সড়ষন্ত্র করে চলেছে তাদের রাউজানে কোন স্থান নেই। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়রম্যান আব্দুল জব্বার সোহেল, তসলিম উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুর রহমান চৌধুরী লালু, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, প্রিয়তোষ চৌধুরী, রোকন উদ্দিন, লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ, সরোয়ার্দী সিকদার, আব্বাস উদ্দিন আহম্মদ, কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সমীর দাশ গুপ্ত, আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, পৌর কাউন্সিলর শওকত হাসান, কাউন্সিলর জানে আলম জনি, ম্যালকম চক্রবর্তী, জাহাঙ্গীর আলম, সুমন দে, সাবেক কাউন্সিলর শামীমুল ইসলাম সামু, আবদুল লতিফ, সারজু মুহাম্মদ নাছের, শওকত হোসেন, হাসান মোহাম্মদ রাসেল, আহসান হাবীব চৌধুরী হাসান, তপন দে,, যুবলীগ নেতা আবু ছালেক, রোকন উদ্দিন, মহিউদ্দিন ইমন, শওকত হেসেন, ছাত্রলীগ নেতা দিপলু দে দিপু, জিল্লুর রহমান মাসুদ, ইমরান হোসেন ইম,ু অনুপ চক্রবর্তী, , মোরশেদ আলম, রুবেল বৈদ্য, আরমান সিকদার, আসাদ, মো. আসিফ, ফয়সাল সিকদার প্রমূখ। উল্লেখ্য, পৌরভার ৯টি ওয়ার্ড ও ১৪টি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন সেচ্ছায় রক্তদান করেন। সকাল হতে শুরু হওয়া রক্তদান কর্মসূচী টানা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পষর্ন্ত চলে। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায় ১১০৪ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে প্রায় ছয় হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। নগরীর ম্যক্স হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আগত রোগিদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। বিশাল আয়োজনে পুলিশ, ডিবি পুলিশ, স্পেসাল পুলিশসহ আনসার বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মীরা ছিল সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়েজিত ছিল। উপজেলা পরিষদের এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যাবস্থার বলয় ছিল। প্রবেশ মূখে তল্লাসি করে ডুকানো হয় আগত সবাইকে। ছাত্রলীগ, যুবলীগের প্রায় পাচঁ হাজার সেচ্ছাসেবক কাজ করেছে সার্বক্ষণিক শোক দিবসে। পুরো অনুষ্ঠান মনিটরিং করেছেন সাংসদ ফজলে করিম চৌধুরী নিজেই। কিছুক্ষণ পর পর আগতদের সাথে কূশল বিনিময়ের পাশাপাশি রক্তদান কর্মসূচী, খাওয়ার স্থল মনিটরিং করেছেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে এ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, বিদ্যুৎ কর্মী, প্রস্তুত রাখা হয়। অনুষ্ঠানে মূখপাত্র জমির উদ্দিন পারভেজ জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫ হাজার লোকের ভোজ খাওয়ানো হয়েছে।

মতামত...