,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাউজানে ট্যাক্সি থেকে লাফিয়ে পড়ে অকালে ঝরে পড়লো প্রবাসীর শিশুকন্যা

রাউজান সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::আরব আমিরাত থেকে এসেছি প্রায় তিনমাস। ২১ নভেম্বর প্রবাসে ফিরে যেতে বিমানের টিকিট পাকাপোক্ত করেছিলাম। চলে যাবো শুনে মেয়ে বলে ‘আব্বু তুমি ২১ নভেম্বর যেওনা। তুমি ৩০ নভেম্বর যেও। মেয়ে কেন আমাকে প্রবাসে ফিরে যেতে বাঁধা দিল, তা আমি বুঝিনি। কিন্তু ৩০ নভেম্বর আগেই মেয়ে আমাকে ফেলে চলে গেলো

একেবারে না ফেরার দেশে’- কথাগুলো বলতে বলতেই চোখের জল ছেড়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মোহাম্মদ ইসলাম উদ্দিন। মেয়ের কথামতো ৩০ নভেম্বর প্রবাসের টিকিট কাটলেও সেদিন তাকে প্রবাসে যেতে হবে বুকভরা শোক নিয়ে। হঠাৎ এক আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো ঘটনায় তিনি যে হারিয়েছেন তার আদুরে শিশু কন্যাটিকে!। একটি ভুল, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। সেটিই যেন মোহাম্মদ ইসলাম উদ্দিনের জীবনে বাস্তব হয়ে এলো। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুষ্টমিরছলে সিএনজি ট্যাক্সিতে উঠে সেখান থেকে রাস্তায় পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ইসলামের ৫ বছর বয়সী ও সবার ছোট হাজেরাতুজ্জাহারার।

জানা যায়, তারা ৪ জন চাচাত জেঠাতো ভাইবোন। প্রত্যকের বয়স ৫ থেকে ৮ বছরের মধ্যে। প্রতিদিন পরিবারের ভাড়ায় চালিত ট্যাক্সি চালক ভাড়ার টাকা দিতে এলে তাদের এক চক্কর ছড়াতে হয়। না হলে তারা ট্যাক্সি থেকে নামতেই চায় না। চালকও তাদের আবদার মেঠাতে যাওয়ার পথে এক চক্কর গাড়িতে ছড়িয়ে আবার নামিয়ে দিয়ে যেত বাড়ির সামনে। কিন্ত কে জানতো তাদের একজনের শেষ পরিণতি হবে সেদিন। সেদিন চালক ভাড়ার টাকা দিতে এলে সেই বায়না ধরে তারা সবাই। চালক তাদের বায়না মেঠাতে বাড়ির উঠান থেকে গাড়ি চালু করে। ১০ ফুট এগিয়ে সড়কে উঠতেই উচ্ছ্বাসের এক পর্যায়ে ট্যাক্সি থেকে সড়কে লাফিয়ে পড়ে শিশুকন্যা হাজেরাতুজ্জাহারা। এতে মাথায় ও বুকে প্রচুর আঘাত পায়। রক্ত ঝরতে থাকে কান আর নাক দিয়ে। দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেয়ার হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে জানান। তখন বাবা–মার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।

শিশুটির বাবা ইসলাম উদ্দিন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন ‘অনেকটা পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগে সব শেষ হয়ে গেল। তিনি বর্ণনা দিয়ে বলেন ‘আমার বড় ভাই মো. দিলহান, মা ছবুরা খাতুন, লাকী আকতারসহ বেশ কয়েকজন ঘরের সামনে বসা ছিল। তখন হাজেরাতুজ্জাহারার মা শারমিন আকতার রানু অসুস্থ থাকায় ঘরে ছিল। আমার ভাইদের মালিকানাধীন ট্যাক্সিটির চালক নুরুল আলম ভাড়ার টাকা দিতে আসলে প্রতিদিনেরমতো গাড়িতে চড়ার বায়না ধরে আমার মেয়ে হাজেরাতুজ্জাহারাসহ আমার ভাতিজা, ভাতিজিরা। মুহূর্তেই গাড়িতে উঠাপড়া ছেলে মেয়েদের বায়না মেঠাতে চালক নুরুল আলম ঘরের উঠান থেকে গাড়ি চালু করে রাস্তায় উঠার সময় পারিবারিক গোরস্থানের পাশে মেয়ে হাজেরাতুজ্জাহারা চলন্ত অবস্থায় লাফ দিলে ভাঙ্গা সড়কে পড়ে মাথা ও বুকে প্রচুর আঘাত পায়। এরপর চমেক হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত বলে চিকিৎসক জানান। গাড়ি চালক নুরুল আলম বলেন ‘তাদের বায়না মেঠাতে বাড়ির সামান্যদূর যেতেই অজান্তে লাফিয়ে পড়ে শিশুটি।

মেয়েটির বাবা ইসলাম বলেন ‘হাজেরাতুজ্জাহারাকে মোকামীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীতে ভর্তি করার কথা ছিল জানুয়ারি মাসে। সে জন্য তাকে ঘরে প্রাইভেটও পড়ানো হচ্ছে। তবে তাকে পরবর্তিতে নোয়াপাড়া গাউছিয়া জামেয়া সুন্নীয়া তৈয়বীয়া–তাহেরীয়া মাদরাসায় ভর্তি করে সেখানে পড়ালেখা করানোর স্বপ্ন ছিল। সেখান থেকে আনা নেওয়ার জন্য একটি সিএনজি ট্যাক্সি কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।

এখন তাকে নিয়ে আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। পৃথিবীতে এখন আমার আর কিছুই ভালো লাগছে না।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এস এম হাফিজুর রহমান বলেন ‘এ ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। পাড়া প্রতিবেশীদের কান্না এখনও থামছে না। কারণ পুরো বাড়ির খুব আদুরে ছিল শিশুটি।’ জানা যায়, হাজেরা পরিবারের দুই কন্যাসন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিল।

মতামত...