,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাউজানে নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

aএম বেলাল উদ্দিন, রাউজান, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের রাউজানে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে পলিথিন বিক্রি। ছোট বড় সব বাজারে লোকালয়ের দোকান পাট সহ অলিগলীতে হাত বাড়ালে মিলছে নিষিদ্ধ ঘোষিত পরিবেশ দূষনকারী পলিথিন। প্রশাসনের কঠোর নজরধারী নাথাকার ফলে নিষিদ্ধ এই পলিথিন সব ধরনের পন্য বহনে হাতে হাতে ব্যবহার করা হচ্ছে এইচডিপিই (হাইয়ার ডেনসিটি পলি ইথালিন) পলিব্যগ। যা ব্যবহারে মানুষের জীবনে মারাত্বকভাবে ক্ষতি সাধন করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মর্কতারা কুম্ভকণ্ডে মত থাকায এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিষেধাঞ্জার নিয়মনিতির তোয়াক্কা না করে পলিব্যাগ উৎপাদন করে দেদারছে বাজারজাত করে যাচ্ছে। সেখান থেকে এনে ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে দোকান দিয়ে বসেছে। পুলিশ প্রশাসনের সামনে দক্ষিন রাউজানের প্রাণকেন্দ্র নোয়াপাড়া পথের হাটে সবজি র্মাকেটের পাশে এস.এম.সপিং সেন্টারের শুভ এণ্টারপ্রাইজ পলিথিনের দোকান খায়েজ সপিং সেণ্টারের আর্দশ ষ্টোর সুটকির দোকান মাছের দোকানের পার্শে এক ব্যক্তি ও পাইনিয়র হাসপাতালের নিচে এক ব্যক্তি ভ্রাম্যমান ভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে পলিথিন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। রাউজান উপজেলার প্রশাসনের নজরধারীর অভাবে এই পলিব্যাগ ১৪ টি ইউনিয়নের সব বাজার গুলোতে সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও সব বাজারে পলিথিনের ব্যবসা জম জমাট হয়ে উটেছে। সব বাজারের কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে হোটেল রেস্তুারায় খাবার দোকান, মুদির দোকান, মাংসের দোকান, মুরগির দোকান,ফলের দোকান, কাঁচাবাজার তরী তরকারী সহ ফুটপাতের দোকানে সর্বত্রই ক্ষতি ক্ষারক এই পলিথিন দেদারছে ব্যবহার হচ্ছে। ব্যবহৃত এই অপচন শীল পলিথিন যত্র তত্র ফেলার কারণে পানি মাটি ও বাতাস দুষিত হয়ে মারাত্বকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। ফলে নানা মরণ ব্যধী রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। এছাড়াও পানি চলাচলের নালা নর্দমা খালবিলে যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ায় পানি চলাচলে বাধাগ্রহস্ত হয়ে জল-জটের সৃষ্টি হচ্ছে। এবং জমে থাকা পানিতে নানা ব্যাকটেরিয়া সহ রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে। পরিবেশের বির্পযয় ঘটানো নিষিদ্ধ এই পলিথিন হাতের নাগালে পাওয়ার কারনে পরিবেশ বান্ধব পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়ছেনা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন সিমেণ্ট সার সহ জরুরী ব্যবহারযোগ্য ১৪টি পণ্যে পলিব্যগ ব্যবহারে অনুমোদন থাকলেও এসবের বাহিরে ভয়ানকভাবে চলছে পলিথিনের ব্যবহার। ফলে পাটের ব্যবহার না বাড়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাট ও পাট দিয়ে উদপাদিত পণ্যের কারখানা। বাড়ছেনা কুটির শিল্পের কাজ বেকার হচ্ছে মালিক ও শ্রমিকরা। এই দিকে মানুষের জীবন মান পরিবেশ রক্ষায় সরকারীভাবে সারাদেশে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষন আইনে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন আমদানী ও বাজারজাত করণের অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা দুই লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। সরকারী কটোর আইনের পরও এক শ্রেণীর লোক এই আইনকে বৃদ্ধ্া আঙ্গুলী দেখিয়ে মানব ও পরিবেশ নষ্টকারী ক্ষতিকর পলিথিন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারও হটলাইনে না আসায় অসাধু ব্যবসায়ীরা নীর্বীগ্নে তাদের কাজ অব্যহত রেখেছে। রাউজানের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ দোকানে নিষিদ্ধ এই পলিথিন দেখা যায়। একটি দোকানে অল্প বাজার নেওয়ার পর পলিথিন দিতে দেখে দোকানদারের কাছে এই নিষিদ্ধ পলিথিন কেন দিতেছেন এই গুলু রাখাইতো বেআইনি তা জানতে চাইলে দোকানদার বলেন, কি করব না দিয়েতো পারছিনা আমি না দিলেতো মাল নিতে চাইবেনা কারণ অন্য দোকানদারতো টিকেই দিচ্ছে,পলিথিন ছাড়া অন্য ব্যাগ দেওয়া যায়না। তিনি বলেন পলিথিনের মতো কম মুল্যে দেওয়ার বিকল্প কোন ব্যাগ নেই তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে পলিথিন নিতে এবং দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে প্রথম পলিথিন ব্যাগের বাজারজাত ও ব্যবহার শুরু হয়। এটি সহজে পরিবহন ও স্বল্প মুল্যে পাওয়ার কারণে অল্প সময়ে মানুষের হাতে হাতে পৌছে যায়। কিন্তু ব্যবহারের পর এটি যত্র তত্র ফেলে দেওয়ার কারনে পরিবেশের মারাত্তক বির্পযয় ঘাায। এটি ক্ষতিকারক পন্য হিসেবে চিহ্ণিত হয়। এই ক্ষতিকারক পলিথিন বন্ধ করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে তৎকালিন চারদলীয় জোট সরকার পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন আমদানী বাজারজাত ক্রয় বিক্রয় প্রর্দশন মজুদ ও বিতরণ নিষিদ্ধ করে। এবং আইন করেও আইনের যথাযত প্রযোগ না হওযায় এ পন্যটি নিষিদ্ধের পরও অবাধ ব্যবহার অব্যাহত থাকে। সেই সময় তা বন্ধে পুরোপুরি কার্য্যকর ব্যবস্থা না করার কারনে অবৈধ পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনকারি ও বিক্রেতারা আইনের তোয়াক্কা না করেই এখনো পর্যন্ত পলিথিন তৈরী ও বাজারজাত অব্যাহত রেখেছে। বর্তমান সরকার ২০১০ সালে পলিথিনের পরির্বতে পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারের আইন পাস করে। সুত্রে জানাযায়, এরিমধ্যে গত কয়েক বছরে ৬৪টি অবৈধ পলিথিন উৎপাদন কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন সময় অবৈধ পলিথিন জব্ধ ও জরিমানা করা হয়। এই প্রসঙ্গে সচেতন মহলের অভিমত শুধু আইন আর জনসচেতনতা যাই বলুন কোন কাজে আসবেনা,যতক্ষন না সরকার পলিথিন ব্যাগ বন্ধে যথাযত ব্যব¯থা নানেবে ।

মতামত...