,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাউজানে বাঁশ বেত শিল্পের দুর্দিন

aly-chayএম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি,বিডিনিউজ রিভিউজঃ রাউজানে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব ও উচ্চ মূল্যের কারণে এই শিল্পের দুর্দিন চলছে। অথচ শৈল্পিক নৈপুণ্যে তৈরি এ সকল পন্যের প্রতি অনেকের আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। গ্রামীন জনপদে এক সময় বাঁশঝাড় ছিল না এমনটাও কল্পনাও করা যেতো না। প্রত্যেকটি গ্রামেই বাঁশঝাড় দেখা যেত। বাঁশঝাড়ের পাশে বেত বনের ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার চিরায়ত রূপ। এখানে অনেক গ্রামেই গৃহিনীরা তৈরি করত বাঁশ বেতের হরেক রকম জিনিস। বাঁশ বেতের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এসবের দাম এখন অনেক বেড়ে গেছে। এক দিকে বেশি টাকা দিয়ে বাঁশ-বেত কেনা অপর দিকে তৈরিকৃত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এই শিল্পের সাথে জড়িতরা ছেড়েছেন কঠোর পরিশ্রম করা মানুষগুলো। বাপ-দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন। বছর দশেক আগেও এদেশে বাঁশ বেতের তৈরি জিনিসের কদর ছিল। চেয়ার, টেবিল, বইয়ের সেল্ফ, মোড়া, কুলা, ঝুঁড়ি, ডোল, ছাটাই থেকে শুরু করে এমন কি ড্রইং রুমের আসবাবপত্র তৈরিতেও বাঁশ ও বেত ব্যবহার করা হতো। এছাড়া মাছ ধরার পলো, হাস-মুরগীর খাঁসা, শিশুদের ঘুম পাড়ানোর দোলনা বাঁশ ও বেতে তৈরি করা হতো। এক সময় গ্রামীণ হাট-বাজারে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন বাঁশ বেতের সামগ্রী বাজারেও তেমন চোখে পড়ে না। তবে রাউজানে একটি বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী বিক্রির ভ্রাম্যমাণ দোকান বাজারবারে চোখে পড়ে। উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের গরম আলী হাজীর বাড়ির বাসিন্দা ও বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্যের বিক্রেতা মো, জাহাঙ্গীর জানান, বাঁশ বেতের তৈরি পণ্যের চাহিদা একেবারেই কম। ফলে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে না পেরে আমরা অনেকে পারিবারিক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি। জাহাঙ্গীরের বড় ভাই মো. সিরাজ বলেন, তাদের এই বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী ব্যবসা বাপ-দাদার আমলের। প্রথমে দাদা এই ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন। দাদার মৃত্যুর পর আমার বাবা রুহুল আমীন ব্যবসার হাল ধরেন। তবে এসব পণ্য তাদের তৈরিকৃত নয়, বিভিন্নস্থানে অর্ডার দিয়ে তৈরি করে এসব পণ্য সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ দোকানে এসব পণ্য বিক্রি করা হয়। রবিবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা ফকির হাটে, শনিবার ও বুধবার রমজান আলী হাটে, শুক্রবার ও সোমবার তকির হাটে বিক্রি করা হয়। পরিবারের সকল সদস্যরাই এখনো এই ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এক দিকে মূল্যবৃদ্ধি ও দুষ্প্রাপ্যতা আর অন্যদিকে ক্ষতিকারক প্লাস্টিক, সিলভার, মেলামাইন জাতীয় হাল্কা কিন্তু টেকসই সামগ্রী নাগরীক জীবনে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বাশঁ এবং বেত শিল্পীরা বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়ছে।

মতামত...