,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাউজানে ৬০ মিনিটে সাড়ে ৪ লক্ষ ফলজ চারা রোপনের রেকর্ড

এম বেলাল উদ্দিন,২৬  জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::রাউজানে ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা ও সামজিক প্রতিষ্ঠানে ৬০ মিনিটে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার ফলদ চারা রোপন করা সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রচুর বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬০ মিনিটে একযোগে সমগ্র রাউজানে এইসব চারা রোপন করা হয। চারা রোপনকে কেন্দ্র করে গতকাল সমগ্র রাউজানে আনন্দ উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়বৃদ্ধ সকলেই চারা রোপনের মত কাজে উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহন করে। ব্যতিক্রমী এই পদক্ষেপ সারাদেশের মধ্যে প্রথম এক বিরল রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজা। তিনি আরো বলেন একঘন্টায় সাড়ে ৪ লাখ ফলদ চারা রোপণ করে রাউজানবাসী গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড স্থান পাবে বলে আশা করছে। সরেজমিন দেখাযায় উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে একযোগে এ বৃক্ষরোপণ করা হয়। সকাল ১১টা থেকে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি তাঁর গাড়িবহরে উপজেলার বিভিন্নস্থানে চারা রোপন কর্মসূচি পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপনে অংশগ্রহণ করেন। রাউজান কলেজ গেইটে গাড়ি বহর থামিয়ে বৃক্ষরোপন করার জন্য গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি নিজেই। উপজেলাকে গ্রীণ সিটিতে রূপান্তর, দেশীয় ফলের চাহিদা মেটাতে এ উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। এমপি’র পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের সর্বস্তুরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গত দুইমাসব্যাপী মতবিনিময় সভা, সেমিনার, বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল ও বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। চারা রোপন বাস্তবায়ন পরবর্তী বেলা ২ টায় ইউএনও কন্ফারেন্স রুমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজা। এতে তিনি বলেন বৈরি আবহাওয়া সত্তেও আমি গর্বের সাথে বলতে পারছি সমগ্র রাউজানে এক ঘন্টার মধ্যে সাড়ে ৪ লক্ষ ফলদ চারা রোপন করে যে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে তা বাংলাদেশের মধ্যে বিরল। প্রথম উপজেলা হিসেবে রাউজানই এই ব্যতিক্রমি আয়োজনটি বাংলাদেশকে উপহার দিল। চারা রোপনের ক্ষেত্রে রাউজানের মানুষের আগ্রহ ও উদ্দিপনা ছিল যতেষ্ট।তিনি বলেন রেপিত চারাগুলো ঠিকমত রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ‘আমার গাছটি কেমন আছে’ এই সংক্রান্ত একটি প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে চারা রোপনে যে উৎসাহ দান করেছেন সে জন্য আমি সাংবাদিকদের নিকট কৃতজ্ঞ। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি জুনায়েদ হোসেন সোহাগ,উপজেলা কৃষি অফিসার বেলায়েত হোসেন,শিক্ষা অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমীনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
যেসব ফলদ চারা লাগানো হয়েছে ঃ
মোট চারা পরিমাণ ৪ লক্ষ ৫০ হাজার। তৎমধ্যে আম ১ লাখ ৫ হাজার, কাঁঠাল ৬৫ হাজার, জাম ২৩ হাজার ৫শ, জলপাই ২৬ হাজার, বেল ১৫ হাজার, আমলকি ৩১ হাজার, লিচু ৯ হাজার, মালটা ২ হাজার, খেঁজুর ২ হাজার ১শ, ডালিম ৯ হাজার, সফেদা ১০ হাজার, আমড়া ২০ হাজার, লেবু ১০ হাজার, বাতাবি লেবু ১০ হাজার, মিষ্টি তেতুল ৮ হাজার, কমলা ১০ হাজার, আতা ৫ হাজার, কাট বাদাম ৩শ, কামরাঙ্গা ২০ হাজার, বাকী ২০ অন্যান্য জাতের।

মতামত...