,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাঙামাটির ডিসি মানজারুল মান্নান এতিম মীম-সুমাইয়ার দায়িত্ব নিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৮ আগস্ট, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: রাঙামাটিতে গত ১৩ জুনভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া জেসমিন আক্তার মীম (৬) ও সুমাইয়া আক্তার খাদিজার (১৮ মাস) যাবতীয় ভরণপোষণের ব্যয়ভারের দায়িত্ব নিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত জেলা প্রশাসন সরকারিভাবে এ দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। এ সময় মীম ও সুমাইয়াকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন তাদরে চাচা কাউসার আহমেদ । আরো ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মাওলানা মো. শাহজাহান, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেগম সাহিদা আক্তার এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে মাটির চাপায় মারা যান মীম ও সুমাইয়ার বাবা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (৩২) এবং মা রহিমা বেগম (২৭)। এরপর থেকে তাদের ঠাঁই হয়েছে চাচা কাউসার আহমেদের (২৭) কাছে। এ ছাড়া আদর–যতেœ লালন পালনের দেখভাল করছেন দাদি সুফিয়া খাতুন (কাউসারের মা)। ঘটনার পরপরই বৃদ্ধা মা সুফিয়া খাতুন এবং দুই ভাতিজি মীম ও সুমাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে ওঠেন কাউসার। এরই মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে গিয়ে উঠেছেন শহরের কলেজগেট আমানতবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান বলেন, বাবা–মা হারা এ দুই শিশু সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয়ভার বহন করবে জেলা প্রশাসন। এ জন্য ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত দুই বোনকে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। আর এ দুই শিশুর লালন পালনের দায়িত্ব পালন করবেন তাদের চাচা কাউসার আহমেদ।

কাউসার আহমেদ বলেন, ওই পাহাড় ধসের দিন তাদের রূপনগরের বসতবাড়িতে ছিলেন ছয় জন। হঠাৎ পাশের পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটির চাপায় ভাই ও ভাবী মারা গেছেন। কিন্তু তার আগেই মা এবং দুই ভাতিজিকে কোলে নিয়ে বের হয়ে ছুটে যান পাশের বড় ভাইয়ের বাসায়। এ জন্য মা সুফিয়া খাতুন আর ভাতিজি মীম ও সুমাইয়াসহ বেঁচে যান তারা। বাবা–মাকে চিরদিনের জন্য হারানোর পর অনেকেই দুই ভাতিজি মীম ও সুমাইয়াকে লালন পালন করতে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওদের বাবা–মায়ের আদর–যত্নের কথা ভেবে নিজের বুকে আগলে রেখেছি। এখন বৃদ্ধা মা’সহ ওদেরকে নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। তিনি বলেন, সুমাইয়া আজও সারাক্ষণ খুঁজে ওর মাকে। বাবা–মায়ের পথ চেয়ে সারাক্ষণ বসে থাকে মীম। ওদেরকে বাবা–মা’য়ের অভাব বুঝতে দিতে চাই না। বাবা–মা’য়ের মমত্ব দিয়েই ওদেরকে বড় করে তোলার জন্য যা যা করণীয় তা পালন করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব।

মতামত...