,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাজনীতি সরগরম আলোচনায় নির্বাচন ও নতুন নির্বাচন কমিশন

নাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজঃ দেশের রাজনীতি সরগরম হয়ে উটছে! আলোচনায় নির্বাচন ও নতুন নির্বাচন কমিশন । নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়েও সরগরম হয়ে উঠছে রাজনীতির মাঠ। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিদায় নেবে রকীবউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। সবশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর সময় গড়িয়েছে আড়াই বছরেরও বেশি। এরিমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের বাইরের দলগুলো আগাম নির্বাচনের জন্যই বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে। সমঝোতার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা। তবে সরকারি দলের নেতারা মনে করেন, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ইস্যু না পেয়েই আগাম নির্বাচন চাইছে বিএনপি।

সম্প্রতি গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর দেশে যে জঙ্গি বিরোধী অভিযান ও জনমত গড়ে তোলা হয়েছিল তার ডামাঢোলে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী আন্দোলন ইস্যু। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জন নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতার মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। ৯ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত ঐ সফরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার ঐ সফরের পর বিরোধী দলগুলোর নেতারা আবার নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। অনেকেই কেরির সফরের সাথে নির্বাচন ইস্যুর যোগসূত্র খুঁজছেন। সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কূটনৈতিক কোরের প্রধান ড. মঈন খান । এই বৈঠক নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, দেশে বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যাতে কোন মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে । জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে এখন সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বলবৎ রয়েছে, সুতরাং মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন অবকাশ নেই ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন সময় মতোই অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি মনে করেন এ নির্বাচনের সঙ্গে দলের কাউন্সিলের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি আরো বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দল যথাযথভাবে তাদের ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু বিশেষ করে যারা সংসদে নেই এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, গত সাধারণ নির্বাচন বানচাল করতে যারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে, ভোট কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে এবং একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছে, বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও ট্রাকে আগুন দিয়েছে, আপনি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু আশা করতে পারেন না।

‘মধ্যবর্তী নয়, আগের নির্বাচন’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এমপিরাও মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়ে সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচন হবার কথা বলছেন। আর এদিকে শনিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, আমরা মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, আগের নির্বাচন চাই। কেননা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছে তাতে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাগপা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

নৈতিকভাবে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে নিরপেক্ষ কমিশন দরকার। সরকার তাদের মনোনীত সার্চ কমিটি দিয়ে যে কমিশন গঠন করবে তা জনগণের হবে না। ‘জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। ওই কমিশনই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলছেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও দেশ তারা চালাচ্ছেন না। অন্য কেউ, অন্য কোনোভাবে এ দেশ পরিচালনা করছেন। সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে দমননীতি অনুসরণ করে বিএনপিকে ‘নির্মূলে’ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ২০০৭ সাল থেকে অবৈধ ‘মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন’ সরকার বিরাজনীতিকরণের কাজ শুরু করেছিল, তাদের সেই অসম্পূর্ণ কাজটি এখন করে চলেছে আওয়ামী লীগের সরকার। অর্থাৎ তারা বিরাজনীতিকরণ করছে। আমরা দেখেছি, তারা সচেতনভাবে দেশে যাতে গণতন্ত্র না থাকে, সেজন্য কাজ করে চলেছে।

এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সেটা শুধু নয়, আজকে আমরা অন্ধকার গহ্বরের মধ্যে পড়েছি। এই সরকার আমাদের সেই অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের সেই অন্ধকারের গহ্বরের শেষের দিকে, টানেলের শেষের দিকে যে আলো, সেই আলো খুঁজে বের করতে হবে।

অপর দিকে আওয়ামীলীগ নেতারা বলেছেন, বিএনপি সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের মদদদাতা তারা দেশের উন্নয়ন চায় না। দেশকে ধংস করতে চায়। দেশের চলমান উন্নয়ন কে বাঁধা বাঁধা গ্রস্ত করতে দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ হানিফ বলেন, আওয়ামীলিগ কে গণতন্ত্র শিক্ষা দিতে হবে না । দেশের মানুষ বিএনপিকে চায়না। তারা নির্বাচন ঠেকাতে মানুষ অড়ে মেরেছে।দেশের মানুষ তার বিচার চায়। আমারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাকরে দেশকে উন্নত করতে চাই।

মতামত...