,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাজশাহীতে মোবাইল চুরির অভিযোগে ছাত্র নির্যাতন

রাজশাহী সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে রাজশাহীর বাঘায়, ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই মনিরুলকে খুঁটি’র সঙ্গে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। সে বর্তমানে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে, এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, সোমবার সকালে বাঘা উপজেলার নারায়নপুর গ্রামে রাজশাহী পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে মোবাইল চুরি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মিঠু’র ছেলে মনিরুল ইসলামকে সন্দেহ করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, দুপুরে তাকে বাড়ি ধরে নিয়ে যায় হাফিজুর ও তার দু’ভাই। এ সময় মনিরুলকে স্থানীয় বাজারে নিয়ে, একটি স-মিলের খুঁটির সাথে উল্টো করে ঝুঁলিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনিরুল আর্তি এবং স্থানীয়দের অনুরোধকে অগ্রাহ্য করে বেধড়ক পেটানো হয় তাকে। আহত মনিরুল বলেন, দড়ি দিয়ে দুই পা বেধে উপরে ঝুলিয়ে তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। মনিরুলের মা বলেন, না দেখে তার ছেলেকে মারা ঠিক হয়নি। এলাকাবাসী বলেন, হাফিজুর ছেলেটিকে লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড মারধোর করেন, এছাড়া নিজেকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি মারলে মারা যাবে না।

খবর পেয়ে, মনিরুলকে উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্বজনরা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, নির্যাতনের কারণে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সে। তিনি বলেন, দুই পায়ে শক্ত করে দড়ি বাধার কারণে দাগ হয়ে গেছে। গোটা শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া মানসিক ভাবে ছেলেটি ভেঙ্গে পরেছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত শেষে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, তিন জনের নাম জানা গেছে, এর মধ্যে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায়, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বাঘা থানায় একটি মামলা। স্বজনরা জানান, মনিরুল ইসলাম বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

মতামত...