,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ২ মামলার বিচার শুরু এ মাসে

Rana plazaনিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, সাভারে দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা ও ইমারত আইনে দায়ের করা দু’ মামলার বিচার শুরু হচ্ছে। আদালাত কারাগারে আটকসহ মামলার সকল আসামিকে আগামি ২৮ এপ্রিল আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন।

 ২৮ এপ্রিল আসামিদের উপস্থিতিতে মামলা বিচা্রের চার্জ গঠনের করা হবে ভয়াবহতম রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের হওয়া ২ মামলার।মামলার ৪১ আসামির এখনও ১২ জন পলাতক রয়েছে।

হত্যা মামলাটি ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং ইমারত নির্মাণ আইনে দায়ের করা মামলাটি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।২ মামলায় সাক্ষী ৭২৯ জন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ইতিহাসের ভয়াবহতম রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় অবহেলায় মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৪ক/৩৩৭/৩৩৮ /৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭ ও ৩০৪ধারায় এবং অপর মামলা করা হয় ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ১২ ধারায়।

২০১৫সালের ১ জুন রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ২ মামলার চার্জশিট দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিনিয়র এএসপি বিজয় কৃষ্ণ কর। দণ্ডবিধির মামলায় ৪১ জন ও ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন- ভবন মালিক সোহেল রানা, তার বাবা আব্দুল খালেক ওরফে কুলু খালেক ও মা মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার মেয়র আলহাজ রেফাত উল্লাহ, কাউন্সিলর মোহাম্মাদ আলী খান, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, নিউওয়েব বাটন লিমিটেডের চেয়ারম্যান বজলুস সামাদ আদনান, নিউওয়েব স্টাইপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান তাপস, ইথার টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ওরফে আনিসুজ্জামান, আমিনুল ইসলাম, সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. সারোয়ার কামাল, আবু বক্কর সিদ্দিক, মো. মধু, অনিল দাস, মো. শাহ আলম ওরফে মিঠু, মো. আবুল হাসান, সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, নগর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইসলাম, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সাবেক উপ-প্রধান পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ, উপ-প্রধান পরিদর্শক মো. জামশেদুর রহমান, উপ-প্রধান পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, পরিদর্শক প্রকৌশল মো. ইউসুফ আলী, মো. শহিদুল ইসলাম, ইমারত পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন, ইথার টেক্সটাইলের ব্যবস্থাপণা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, মনোয়ার হোসেন বিপ্লব, মো. আতাউর রহমান, মো. আব্দুস সালাম, বিদ্যুৎ মিয়া, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম জনি, রেজাউল ইসলাম, নান্টু কন্ট্রাকটার, মো. আব্দুল হামিদ, আব্দুল মজিদ, মো. আমিনুল ইসলাম, নয়ন মিয়া, মো. ইউসুফ আলী, তসলিম ও মাহবুবুল আলম।

ঢাকার জেলা প্রশাসকের হিসাব অনুযায়ী রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত এবং ১ হাজার ১১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ১৯ জন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৩৬ জনে। ১ হাজার ৫শ’ ২৪ জন আহত হন। ২৯১ জনের মরদেহ অশনাক্তকৃত অবস্থায় জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনার বেড়ায় রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিক আব্দুস সোবহান মারা যান।

হত্যা মামলার বাদি সাভার থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ খান ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল সাভার থানায়  এবং রাজউকের অথরাইজড অফিসার হেলাল আহম্মেদন ২৪ এপ্রিল  জাতীয় ইমারত বিধি লঙ্ঘনের দায়ে মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে সরকার  ২০১৫ সালের ১৩ মার্চ রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার ব্যক্তিগত সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে । এ সব সম্পদ আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয়ের নির্দেশ দেন আদালাত।

মতামত...