,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাশিয়ার সঙ্গে গোপন ফোনালাপ : রেকর্ড এফবিআইয়ের হাতে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,,১৫ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নির্বাচনের আগেই রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। এসব ব্যক্তি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ছিলেন, এমনকি আছেন বর্তমান প্রশাসনেও!

নিউইয়র্ক টাইমস এমনই দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির দাবি, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ চারজন ব্যক্তি নির্বাচনের সময় রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। এ-সংক্রান্ত কল রেকর্ডও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে এসেছে।

প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের পদত্যাগের পর এ ধরনের সংবাদ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটা বড় ধাক্কা। সোমবার ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফ্লিন। অভিযোগ ওঠে, প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রাশিয়ার ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে টেলিফোন রেকর্ডও এফবিআইয়ের কাছে আছে বলে দাবি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে লোগান অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নাগরিক প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া অন্য দেশের দূত, সরকারি সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারবে না। এ অভিযোগে শাস্তির ব্যবস্থাও আছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সম্ভবত লোগান অ্যাক্ট ভঙ্গ করার অভিযোগে ধরা পড়তে যাচ্ছেন ফ্লিন। আর রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্কের বিষয়টি কে না জানে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চারজন মার্কিন নাগরিক রাশিয়ার সঙ্গে ওই যোগাযোগ করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক সদস্য।’ রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেশটির সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কথাবার্তায় অংশ নেন। তদন্তের স্বার্থে এফবিআই এসব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করছে না বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে এরপরও একটি নাম একাধিকবার উচ্চারিত হচ্ছে। অভিযোগের তীর ছুটছে পল ম্যানাফোর্টের দিকে। তিনি নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারাভিযান দলের প্রধান ছিলেন। তিনি একসময় ইউক্রেনে রাজনৈতিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। তবে ম্যানাফোর্ট বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা অবাস্তব। কী নিয়ে কথা হচ্ছে তার ধারণাই আমার নেই। আমি কখনো রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কথা বলিনি। এখন যা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে এ সংক্রান্ত ব্যাপারে রাশিয়ার সরকার বা পুতিন প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই আমার।’

নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একাধিক ব্যক্তি রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন।

২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ডেমোক্র্যাট দলের হিলারি ক্লিনটনকে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে হারিয়ে দেন তিনি।

দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সদ্য বিদায়ী বারাক ওবামার বেশ কয়েকটি আদেশ বাতিল করে দেন। এর মধ্যে আছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ‘ওবামাকেয়ার’। এ ছাড়া মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। নর্থ ডাকোটায় তেল পাইপলাইন নির্মাণেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যদিও বিক্ষোভের মুখে বারাক ওবামা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার দিনই যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এদের বেশির ভাগই নারী। তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

ভোটের আগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ আসতে থাকে। অনেক নারী সংবাদ সম্মেলনে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ী হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে এক নারী যৌন হয়রানির মামলা করেছেন। এরই মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার মাস খানেক না যেতেই রাশিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অভিযোগ উঠল ট্রাম্পের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

 -নিউইয়র্ক টাইমস’র প্রতিবেদন।

মতামত...