,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া হলে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে শঙ্কা হেফাজতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম,“রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্মকে বাদ দেওয়া হলে সাধারণ জনতাকে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁসিয়ারী করেছেন হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশ। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই শঙ্কার  কথা জানান সংগঠটির নেতারা।

এসময় তারা বলেন, আদালত যদি রীটের পক্ষে রাbnrয় ঘোষণা করে তাহলে এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, আমরা এই রীটের প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন সহ কঠোর কর্মসূচি পালন করবো।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী’র পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেফাজতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

সংবাদ সম্মেণলনে আগামী ২৫ মার্চ শুক্রবার সারাদেশে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পালন করা হবে বলে জানানো হয়।

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে করা একটি রীটের শুনানী আগামী ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচী ঘোষণা করে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, “এভাবে রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেওয়ার জন্য হাইেেকার্ট রীট করা উদ্দেশ্যমূলক, আগেও এই নিয়ে একাধিক রীট হয়েছিলো তবে তা খারিজ করে দিয়েছিলো আদালত, কিন্তু এবার কেন এই রীট শুনানীর জন্য নেওয়া হলো তা বোধ্যগম্য নয়।”

তিনি বলেন, “দেশের অধিকাংশ মানুষই চাই ইসলাম রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে বজায় থাকুক, নাস্তিকরা এই নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, এদের উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ধর্মকে বাদ দিয়ে এই দেশে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা।”

দেশের মানুষকে নিয়ে হেফাজতে ইসলামী নাস্তিকদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো উল্লেখ করেন মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী।

লিখিত বক্তেব্যে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রধর্ম থাকবে কি থাকবেনা সেটা মানুষের মতামতের বিষয়, প্রয়োজনে এই নিয়ে দেশে গণভোটের আয়োজন করা হোক।”

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, “পৃথিবীর অনেক দেশে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে অর্ন্তভূক্ত, খৃষ্ট্রান ধর্মও অনেক দেশে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত, সেইসব দেশেতো সংখ্যালঘু কিংবা ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদেরকে কোন সমস্যা হচ্ছেনা, বাংলাদেশেও রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে কোন সমস্যা নেই।”

তারা বলেন, হাইকোর্টের ঘাড়ে বন্দুক রেখে যদি রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে বাদ দেওয়ার কোন ষড়যন্ত্র হয় তবে এটা ধর্মীয় উস্কানী দিয়ে সরকারকে বিব্রত করার একটি অপ কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারকে জনগণের ম্যানডেড বুঝতে হবে, জনগণের ভাষা বুঝতে হবে, এটা একটা ধর্মীয় ইস্যূ, এই ইস্যূতে বাংলাদেশের মুসলমান কোন রকমের ছাড় দেবে না। সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে, নামাজ, রোজা, হজ্জ না করতে পারে কিন্তু ইসলাম ধর্মের উপর আঘাত সহ্য করতে পারে না। তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও ইসলামকে ধারণ করবে। নেতৃদ্বয় বলেন- আলেম-ওলেমা, মসজিদের ইমাম ও ধর্মপ্রিয় মুসল্লীরা ক্ষমতার ভাগাভাগি হতে চায় না। রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার ধার ধারে না। তারা ইসলাম নিয়ে মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকতে চায়। কোন নাস্তিক-কুলাঙ্গার যদি মুসলমানদের ধর্মীয় রীতিনীতি বিশ্বাসে আঘাত করতে চায় তবে তাদের কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে সারাদেশের তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে প্রতি মহল্লায়-মহল্লায়, থানা-উপজেলা থেকে প্রতিরোধের দাবানল জ্বলে উঠবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও রাষ্ট্রধর্ম ইসলমের পক্ষে ছিলেন, ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে না থাকলে বঙ্গবন্ধুর মতামতকে অগ্রাহ্য করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা মহিবুল্যাহ বাবুনগরী, যুগ্মমহাসচিব মাইন উদ্দিন রুহি ।

মতামত...