,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির পুর্নাঙ্গ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে জড়িতদের নাম। এর আগে প্রাথমিক তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত নয় এমনটি বললেও সোমবার দেয়া চুড়ান্ত প্রতিবেদনে এ অবস্থান থেকে সরে এসেছে ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্তকারী কমিটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যারা জড়িত

তদন্ত প্রতিবেদন ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির বিষয়ে ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্তকারী দলের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয়জনের নাম এসেছে। এরা হলেন, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা, উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, জিএম আব্দুল্লাহ ছালেহীন, শেখ রিয়াজউদ্দিন ও রফিক আহমেদ মজুমদার, গভর্নর সচিবালয় বিভাগে কর্মরত মইনুল ইসলাম। এদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অবহেলার কারণে সার্ভার হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে কিম্বা তারা হ্যাকারদের সহায়তা করেছেন এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। গভর্নর সচিবালয় বিভাগে কর্মরত মইনুল ইসলাম এবং অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের শেখ রিয়াজউদ্দিন তাদের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ‘কমপ্রোমাইজড’ হয়েছে কিম্বা ব্যবহার হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় জুবায়ের বিন হুদা ও জি এম আব্দুল্লাহ ছালেহীনের ইউজার আইডির পাওয়ার্ড চুরি করে তা ব্যবহার করেছে হ্যাকাররা। এমন কি এরাই আগে জানতে পারে তাদের পাওয়ার্ড চুরি হয়েছে। কিন্তু তারা সেটা আমলে নেয়নি। এতে তারা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছেন। কান্ডাজ্ঞানহীনের মত কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেছে তদন্তকারী দল।

অর্থমন্ত্রণালয়ে চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন ড. ফরাসউদ্দিন। এর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে মনে হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখন পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কি ধরনের পরিবর্তন তা প্রতিবেদনের মধ্যে আছে। তিনি আরো বলেন, সুইফটেরও দায় দায়িত্ব আছে, সম্পূর্ণ দায় বা মূল দায় তাদের কি না, সেই বিশ্লেষণও প্রতিবেদনে আছে। সুফইট কখনো দায় এড়াতে পারে না। তবে সুইফটের সাহায্য নিয়েই আমদের ভবিষ্যতের প্রবলেমটা সলভ করতে হবে। চুরি যাওয়া টাকার মধ্যে কতোটা আদায় করা সম্ভব- তার একটা চিত্রও প্রতিবেদনে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার গত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ফিলিপিন্স ও শ্রীলংকা দুটি ব্যাংকে সরানো হয়েছিল ভুয়া বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে। একইভাবে শ্রীলংকায় ২ লাখ ডলার সরানো হলেও শেষ মুহূর্তে তা আটকানো হয়। এর পর গত ১৫ মার্চ ৩ সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব গকুল চাঁদ দাস।

কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে অন্তর্বতীকালীন রিপোর্ট ও ৭৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল।  সে অনুযায়ী গত ২০ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর কাছে অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। এরপর ৭৫তম দিনে গতকাল সোমবার পূর্নাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়া হলো।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা খুব বেশি হৈচৈ করেছে। অবশ্য এমন ঘটনা নিয়ে শুধু আমাদের দেশের নয়, সারা বিশ্বের সাংবাদিকরাই এমন করেন। তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে এখন কিছু বলব না। এটা প্রকাশ করা হবে। আমি এটা পড়ে নেই। ১৫ থেকে ২০ দিন পরেই প্রকাশ করা হবে। এটার মধ্যে যা কিছু আছে তাই প্রকাশ করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে শাস্তির সুপারিশ যদি থাকে তাহলে তা বাস্তবায়ন করা হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যা কিছু থাকবে তাই প্রকাশ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। কেননা, এটার প্রধান উদ্দেশ্যে হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সংস্কার। আমাদের অনেক দোষ আছে, সেগুলো দেখানোই আসল উদ্দ্যেশ্য। তিনি আরো বলেন, টাকা আদায়ের ব্যাপার তো অন্যখানে আছে। এজন্য ইনভেস্টিগেশন চলছে। টাকা আদায়ের ব্যাপার এটা না। এটা হচ্ছে টাকাটা কেন চলে গল, এটা বের করার জন্যই। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা না ঘটে। তবে এখন দেখা যাচ্ছে সারাবিশ্বেই এরকম কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে।

 

মতামত...