,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রিশার খুনি ওবায়দুল দিনাজপুরে, বোন ও দুলাভাই গ্রেপ্তার

aদিনাজপুর সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যার মামলার আসামি ওবায়দুল খানের বোন ও দুলাভাইকে আটক করেছে।

আজ মঙ্গলবার ৩০ আগস্ট সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেন এ দুজনকে আটক করেন। এতে সহায়তা করে বীরগঞ্জ থানার পুলিশ।

আটক দুজন হলেন মোছা. খাদিজা বেগম (৩৬) এবং দুলাভাই মো. খাদেমুল ইসলাম (৪৬)। পাঁচদিন আগে তাঁদের বাড়িতে ওবায়দুল এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন খাদিজা।

খাদেমুল ইসলামের মা খতেজা বেগমকে (৭৫) আটক করলেও পরে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় লাটের হাট বাজারে ওবায়দুলকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর দেখা হয়। তাঁর সঙ্গে তেমন কোনো কথা হয়নি। তবে রোববার বিকেল পর্যন্ত আমি তাকে দেখেছি। তখন পর্যন্ত জানি না সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

ওবায়দুলের বোন মোছা. খাজিদা বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় আমাদের বাড়িতে আসে ওবায়দুল। সকালে আমাদের সাথে নাশতা করে। বিশ্রাম নিয়ে দুপুরে গোসল করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। সে এমন একটি ঘটনা ঘটিয়েছে আমাদের কারো কাছে জানায়নি।’

a1মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ওবায়দুলের বাবা মো. আবদুস সামাদ পেশায় বিভিন্ন শস্যের পাইকারি ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রথম স্ত্রী বুধিরন এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে মারা যাওয়ার পর মোছা. চন্দনী বেগমকে বিয়ে করেন। চন্দনীর কোলজুড়ে আসে এক ছেলে এবং চার মেয়ে। একমাত্র ছেলে ওবায়দুল যখন চকদফর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র, তখন তার মা চন্দনী বেগম মারা যান। এরপর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বাবা আবদুস সামাদ পাইকার তাকে ঠাকুরগাঁও দরজির দোকানে রেখে আসেন। অভাবের সংসারের কথা শুনে শিশু ওবায়দুলকে কাজের সুযোগ দেন দরজির মালিক গৌরাঙ্গ। এরপর আবদুস সামাদ বিয়ে করেন আখলিমা নামে স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীকে। আনুমানিক পাঁচ বছর আগে মারা যান আবদুস সামাদ পাইকার।

মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পরও ওবায়দুল প্রায়ই এখানে আসতে। প্রতিটি ঈদ সে এখানে পালন করেছে। তাকে সর্বশেষ গত সোমবার দুপুরে লাটের হাট বাজারে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর আমরা হতবাক হয়েছি।’

মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ‘এই ছেলে একটি মেয়েকে শুধু হত্যা করেনি, আমাদের কলঙ্কিত করেছে। আমরা এই এলাকার মানুষ লজ্জিত এবং শোকাহত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। এরই মধ্যে এলাকার মানুষ তাকে আটক করতে সব ধরনের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।’

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আককাছ আহম্মদ জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোশাররফ হোসেন বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় মো. ওবায়দুল খানের (২৯) নিজ বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালান। সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বোন ও দুলাভাইকে আটক করা হয়।

কাকরাইলে গত বুধবার বখাটে এক যুবকের ছুরিতে আহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রিশার মা বুধবারই ওবায়দুলকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা নম্বর-৫৪ দায়ের করেন।

মতামত...