,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ারে ৪৬০ কোটি টাকার প্লট-ফ্ল্যাট বুকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১২ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: প্রত্যাশিত ইউ-টার্নের পথে ফিরছে চট্টগ্রামের আবাসন খাত। এবার দশম রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ারে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। চারদিনব্যাপী এ আবাসন মেলায় প্রায় ৪৬০ কোটি টাকার প্লট-ফ্ল্যাট বুকিং হয়েছে। এবারের মেলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ কোটি টাকা। এদিকে গতবারের মেলায়ও একই লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছিল ৪০০ কোটি টাকা।  সেই বার লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল। যা এবারের চেয়ে ১০ শতাংশ কম। তবে এবার প্রত্যাশিতভাবে যে পরিমাণ বাড়ার কথা ছিল সেভাবে বাড়েনি। রিহ্যাবের দাবি, মন্দাভাব কাটিয়ে আবার দেশের আবাসন খাতের সুদিন ফিরেছে। এবারের ফেয়ারে লক্ষ্যমাত্রার ৯০ শতাংশের বেশি বুকিং যার প্রত্যক্ষ প্রতিফলন। গ্রাহকদের আস্থা ফেরার পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা নতুন করে বিনিয়োগেও আগ্রহী হচ্ছেন বলে দাবি রিহ্যাব নেতৃবৃন্দের।

শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় রেডিসন ব্লু’র মেলা চত্বরে রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ারের শেষদিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এদিকে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় গতকাল মেলার শেষদিন হলেও মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সব ধরনের অফার-প্রোমোশন আরও ৫ দিন থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এবারের মেলায় প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে দাবি করে রিহ্যাব কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, গতবারের মেলার চেয়ে এবার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা বেশি অর্জিত হয়েছে। এবার ৯০ শতাংশের বেশি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তবে আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার বাইরে গিয়ে টার্গেট নির্ধারণ করি। যাতে সবাই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ছুটে। সবার মাঝে একটা চাপ থাকে। মেলায় গ্রাহকদের অংশগ্রহণ ও চাহিদা কেমন ছিল জানতে চাইলে কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা হুট করে ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নেন না। তাদের অনেক কিছু বোঝাতে হয়। প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাট মাত্র ৩২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার মেলাজুড়ে ১০০০ বর্গফুট থেকে ১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। গ্রাহকরা এখন স্বল্প দামে ছোট আকারের ফ্ল্যাটের প্রতি ঝুঁকছে।

রিহ্যাবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এবারের মেলায় বুকিংয়ের পরিমাণ ৪৬০ কোটি টাকা। গতবছর যেটা ছিল ৪০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গতবছরের তুলনায় এবার মাত্র ৬০ কোটি টাকা বেশি বুকিং হয়েছে। যদি প্রতিটি প্লট কিংবা ফ্ল্যাটের গড় মূল্য ৮০ লাখ টাকা হয় তবে ৪৬০ কোটি টাকার বিপরীতে এবার ৫৭৫ টি প্লট-ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। আর প্রতিটির গড় মূল্য ৭০ লাখ টাকা হলে প্লট-ফ্ল্যাটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫৭ টি এবং ৬০ লাখ টাকা করে হলে দাঁড়ায় ৭৬৬ টি।

রিহ্যাবের তথ্যমতে মেলার প্রথম তিনদিনের বুকিংয়ের পরিমাণ ছিল ২০০ কোটি টাকা। শেষদিনে প্রায় ২৬০ কোটি টাকার বুকিং হয়েছে। যা প্রথম তিনদিনের তুলনায় ১৩০ শতাংশ এবং প্রায় আড়াই গুণের মত বেশি। অন্যদিকে এবার ৪ দিনে টিকেট বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার। আর প্রথম তিনদিনে ছিল সাড়ে ৮ হাজার। অর্থাৎ শেষদিনে দর্শক এসেছে আরও ৭ হাজার। যা প্রথম তিনদিনের প্রায় কাছাকাছি। রিহ্যাব সদস্যরা বলছেন, মেলার শেষদিনই এই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। প্রত্যেক মেলার জন্য শেষদিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। রিহ্যাব ফেয়ারের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটেছে।

চারদিনের মেলায় শুক্র ও শনিবার দুদিন ব্যাংক-বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেন বন্ধ থাকায় অনেক গ্রাহক নগদ টাকার অভাবে বুকিং দিতে পারেন নি। রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিয়নের প্রেস এ্যান্ড মিডিয়া কমিটির আহবায়ক এ.এস.এম আবদুল গাফ্‌ফার মিয়াজী বলেন, সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে রিহ্যাব সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো সিঙ্গেল ডিজিট সুদে প্রায় কোটি টাকা পর্যন্ত হোমলোন দেওয়ায় ভাড়ার টাকায় ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। যা প্রত্যক্ষভাবে আবাসন খাতের সুদিন ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রিহ্যাব’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (১) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কো-চেয়ারম্যান (২) আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার দিদারুল হক চৌধুরী এবং রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিয়নের প্রেস এ্যান্ড মিডিয়ার আহ্বায়ক এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী এবং চট্টগ্রাম রিজিয়নের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...