,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত,আজ পবিত্র হজ

haj-arafatসৌদি আরব সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা, ওয়ান্‌নি’ মাতা লাকা ওয়াল্‌ মুলক্ লা শারিকা লাকা’—এই ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান। আজ পবিত্র হজ।

লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান (হাজি) আজ রোববার এই তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। বিঘোষিত হবে আল্লাহ তাআলার একত্ব ও মহত্ত্বের কথা।

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে ইবাদত করবেন। হজের দিনে সারাক্ষণ আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজ।

haj-arafat1সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি হাজিদের উদ্দেশে খুতবা প্রদান করবেন। রেওয়াজ অনুযায়ী জোহরের নামাজের আগেই হজের খুতবা প্রদান করা হবে। হজের খুতবা শোনা হজের অন্যতম বিধান।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এই পবিত্র হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সমর্থ পুরুষ ও নারীর জন্য হজ ফরজ। পবিত্র হজ পালন করতে গত শুক্রবার সারা বিশ্বের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান মিনায় পৌঁছান। বিশ্বের প্রায় ১৭২টি দেশের প্রায় ২৫ লাখ মুসলমান আজ মিনা থেকে আরাফাতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে এ বছর গেছেন এক লাখের বেশি হাজি।

haj-arafat2আরাফাহ ও আরাফাত এই দুটো শব্দই আরবিতে প্রচলিত। দৈর্ঘ্যে দুই মাইল, প্রস্থেও দুই মাইল। এই বিরাট সমতল ময়দানের নাম আরাফাত। ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। জাবাল মানে পাহাড়। জাবালে রহমত হলো রহমতের পাহাড়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এই পাহাড়ে একটি উঁচু পিলার আছে। একে কেউ কেউ দোয়ার পাহাড়ও বলেন। পিলারের কাছে যাওয়ার জন্য পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ি করা আছে।

আজ আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন।

মুজদালিফাতেও খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন। সেখান থেকে জামারায় শয়তানকে মারার জন্য পাথর (কংকর) সংগ্রহ করে নেবেন। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে হাজিরা আবার মিনায় নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন।
মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে (মাথা মুণ্ডন) গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল অর্থাৎ ইহরাম ছাড়ার কাজ সম্পন্ন করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। এই তাওয়াফের নাম বিদায়ী তওয়াফ।

এর আগে সৌদি আরব গিয়েই হজযাত্রীরা প্রথমে একবার অবশ্যই পবিত্র কাবা ঘর তওয়াফ করেন। প্রসঙ্গত, মসজিদুল হারাম সম্প্রসারণের ফলে এখন প্রতি ঘণ্টায় ১ লাখ ৭ হাজার মানুষ কাবা শরিফ তাওয়াফ করতে পারেন।

কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ সেখানে অবস্থান করে প্রতিদিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এভাবে সম্পন্ন হবে হজের পুরো আনুষ্ঠানিকতা। এরপর হাজিরা নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।

হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি আরব সরকার। মক্কা ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অস্ত্রসজ্জিত যান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। আকাশে চক্কর দিচ্ছে সামরিক হেলিকপ্টার। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়াসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে হাজার হাজার কর্মী।

হাজিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মিনায় কিছু দূর পরপর রয়েছে হাসপাতাল। রয়েছে দমকল বাহিনী, পুলিশ বাহিনীর সদস্য। হাজিরা পথ হারিয়ে ফেললে স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট ও হজকর্মীরা তাদের নির্দিষ্ট তাঁবু বা গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন।

মক্কা, মিনা ও আরাফাতের ময়দানে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সব হাজিকে বিনা মূল্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান হাজিদের নানা উপহার দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এবার পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত স্বাভাবিক কারণে ৩৩ বাংলাদেশি মারা গেছেন।

মতামত...