,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান ড. নুরুল আমিনের ‘ফিদেল কাস্ত্রো এ্যাওয়ার্ড-২০১৭’ লাভ

মোহাম্মদ ইলিয়াছ, লোহাগাড়া,৪মে, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রফেসর ও সদ্য বিদায়ী সভাপতি ড. নুরুল আমিন পি.আর.বি কর্তৃক ‘ফিদেল কাস্ত্রো এ্যাওয়ার্ড-২০১৭’ লাভ করেছেন। পি.আর.বি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট কাজী সাজাওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট আইনজিবি ও সংবিধান প্রণেতা ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলাম তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করেন। শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী দিলিপ বড়–য়া।
শিক্ষাবিদ গবেষক ও কবি নুরুল আমিন দীর্ঘ ৩৫ বছরের অধিক সময় ধরে শিক্ষকতা, সাহিত্যচর্চা ও গবেষণা করে আসছেন। ১৯৮১ সালের ২ ডিসেম্বর কলেজের প্রভাষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু। ১৯৮৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে ‘রিসার্চ মেথডোলজি কোর্স’ সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগে তিনি ২০০৩ সালের ২ এপ্রিল প্রফেসর পদ লাভ করেন। ২০১৩ সালের ১ জুলাই তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হন এবং দক্ষতার সঙ্গে ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
একজন দেশপ্রেমিক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি যেমন আজীবন সততা ও নিষ্ঠার অনুসারী তেমনি লেখালেখিতেও নিষ্ঠাবান ও কৃতিত্বের স্বাক্ষরবাহী। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর বাইশটি গ্রন্থই এর সাক্ষ্য বহন করে। গ্রন্থগুলো হলো : লৌকিক অলৌকিক (কাব্য, ১৯৭৮), আবুল মনসুর আহমদের কথাসাহিত্য (গবেষণা, ১৯৮৪), বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক রচনা (গবেষণা, ১৯৮৭;), আবুল মনসুর আহমদ (জীবনী, ১৯৮৭), লেগে আছে শ্যামল ছায়া (কাব্য, ১৯৮৮), কাজী আবদুল ওদুদ-প্রসঙ্গ (যৌথ সম্পাদনা, ১৯৯০), কাজী আবদুল ওদুদ-রচনাবলী ৩ (সম্পাদনা, ১৯৯২), কবিকথা ও অন্যান্য (প্রবন্ধ, ২০০৫), কাজী আবদুল ওদুদের জীবনী (২০০৫), বুনো হাঁস পাতি হাঁস (ছড়া ও কিশোর কবিতা,২০০৭), স্বপ্ন দেখি সুন্দরের (কাব্য ২০০৮), ওদুদ-রচনা ও বাঙালি সমাজ (গবেষণা ২০০৮), আবুল মনসুর আহমদের আয়না (সম্পাদনা ২০১০), চট্টগ্রাম কলেজিয়েট (স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা২০১১), আবুল মনসুর আহমদের শ্রেষ্ঠ গল্প (সম্পাদনা ২০১৫), ভালোবাসার গহীন নদী (কাব্য ২০১৬), নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (সম্পাদনা ২০১৬), কলেজিয়েট ১৮০ (স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা ২০১৬), নির্বাচিত কবিতা (কাব্য সংকলন, ২০১৭), নজর”ল ও অন্যান্য (প্রবন্ধ, ২০১৭), চৈতি চাঁদের ওম (কাব্য, ২০১৭), চাঁপাকলি মন (কিশোর কাব্য, ২০১৭)। এছাড়া তিনি ২০০৩ সালে প্রকাশিত ১০ খন্ডের এশিয়াটিক সোসাইটির ‘বাংলাপিডিয়া’ গ্রন্থের দশটি বিষয়ের লেখক।

১৯৫৬ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে জম্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আলহাজ¦ মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ এবং মাতার নাম বেগম হাফেজা খাতুন। চুনতি সুফিনগর গ্রামের সম্ভ্রান্ত ‘হাজী-বাড়ি’র তিনি জ্যেষ্ঠ সন্তান। ‘সুফিনগর’ নামটি ১৯৭৩ সালে তাঁরই দেওয়া। তিনি গ্রামে গড়ে তুলেন গ্রামীণ ক্লাব, দাতব্য চিকিৎসালয়, পাঠাগার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানÑ যার মধ্যে বর্তমানে সুফিনগর ‘শাহ সুফি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’টি উল্লেখযোগ্য।
ড. আমিনের শৈশব কাটে গ্রামে, কৃষি ও ব্যবসায় নির্ভর যৌথ পরিবারে; পরবর্তী জীবন শহরে বাণিজ্যিক পরিবেশে। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা চুনতি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ও মাধ্যমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে; উক্ত স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এস.এস.সি এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ডি পি আই স্কলারশিপসহ এইচ.এস.সি (১৯৭৪) পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব-বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। পরে সাহিত্যের আকর্ষণে তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ড. আনিসুজ্জামানের অনুমতিক্রমে বাংলা বিভাগে চলে আসেন। বাংলা বিভাগে প্রথম ক্লাসেই ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল কর্তৃক অভিষিক্ত হন ‘লক্ষ্মীকে ছেড়ে সরস্বতীকে ধরেছেন’ বলে। উক্ত বিভাগ থেকে উভয় পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে বি.এ. অনার্স (১৯৭৭) ও এম.এ. (১৯৭৮) ডিগ্রি লাভ করেন। বিভাগে শিক্ষকতার প্রথম দিকে ইউ জি সি ফেলোশিপে (১৯৯৫-১৯৯৯) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি (২০০২) অর্জন করেন। তাঁর পিএইচ.ডি. থিসিস বাংলা একাডেমি ২০০৮ সালে ‘ওদুদ-রচনা ও বাঙালি সমাজ’ শিরোনামে প্রকাশ করে।

স্কুলজীবন থেকেই তিনি লেখালেখি করে আসছেন। প্রথম লেখা প্রকাশ কলেজিয়েট স্কুল ম্যাগাজিনে (প্রবন্ধ ‘বাঙালির ঐতিহ্য’ কিশোর ১৯৭১-৭২)। প্রথম কবিতা প্রকাশ স্থানীয় একটি দৈনিকে (‘কৃষক আমি’ দৈনিক মিছিল ২৩-১১-৭৩)। প্রথম গল্প প্রকাশ কলেজ ম্যাগাজিনে (‘মা-পাগলা’ কর্ণফুলী ১৯৭৪)। ছাত্রজীবনেই কবিতার জন্য পুরস্কৃত হন বেশ কয়েকবার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৭৯-তে ‘অমর একুশে স্মরণে বাংলাদেশ পরিষদ সাহিত্য পুরস্কার’। এছাড়া তিনি ২০০০ সালে ‘শহীদ নূতনচন্দ্র সিংহ স্মৃতি সম্মাননা’, ২০১০ সালে ‘সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সাংবাদিক ফোরাম সম্মাননা’ এবং ২০১৫ সালে ‘আবুল মনসুর আহমদ গবেষণা পুরস্কার’ লাভ করেন।

তিনি বাংলা একাডেমি, এশিয়াটিক সোসাইটি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট ও চট্টগ্রাম কলেজিয়েটস-এর আজীবন সদস্য। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা মমতাজ শিরিনের এক মেয়ে ও দুই ছেলে।

মতামত...