,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শহর ফাঁকা! গ্রামে কোলাহল

eid-city-empty-tigerpas-moor-825x510নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ ইট-কংক্রিটের যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ত মোড়গুলোর চিরচেনা সেই জটলা কোথায় যেন হারিয়ে গেল। তার বদলে এতদিনকার সুনসান নীরব গ্রামীণ জনপদে বেড়েছে কোলাহল। কারণ, কোরবানির ঈদ-উৎসবের ছোঁয়া লাগছে গ্রামে। সাথে ৮ দিনের ইদের লম্বা ছুটি! বহুদিন পর আপন-লোকগুলোকে পেয়ে ধীরে ধীরে জেগে ওঠছে গ্রামের সবুজ পল্লী। শহরেও আছে এই আনন্দযজ্ঞ। তবুও কিছুটা যেন কমতি থাকে গ্রামীণ আনন্দের চেয়ে।

 অন্ন-রুজির তাগিদে কর্ম ব্যস্থ এই শহরে এতদিন বন্দি ছিলেন যারা তারা এখন গ্রামমুখো। ট্রেন-বাস, লঞ্চ-ইস্টিমার, রিজার্ভ বা লোকাল যে যেভাবে পারছেন ছুটছেন আপন নীড়ের দিকে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয় সেই তাগিদই যেন সবার চোখে-মুখে। কোরবানির আনন্দ তো আছেই, সাথে লম্বা ছুটিতে শহরের বিষাক্ত বাতাস ছেড়ে গ্রামের নির্মল বায়ু সেবনের উদ্দেশ্যও কম নয়। গতকাল চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে কথা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজের সঙ্গে। তিনি জানালেন, চাকরির কারণে স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে শহরের খুলশীতে ভাড়া বাসায় থাকেন গত দু দশক ধরে। যদিও ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় বেড়ে ওঠা তার। রোজ মিস করেন শৈশবের শহরকে। তাই প্রতিবছর দুই ঈদে ছুটে যান নিজ জেলা ময়মনসিংহে। মৃত মা-বাবার কবরের পাশে দাঁড়ালেই যেন পূর্ণতা আসে ঈদ আনন্দে।

চট্টগ্রাম বিশ্বাবদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র সাইফুল। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে আগেই। কিন্তু ঈদের পর পরীক্ষা থাকায় এতদিন নিজ শহর সিলেট যান নি। কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মন যেন আর মানছেই না। তার ওপর মায়ের আর্তি, ‘বাসায় কি পড়তে পারবি না’। সাথে ছোট ভাইয়ের আবদার, ‘তুমি না এলে আমি মাংসই খাব না’। তাই শেষ মুহূর্তে গতকাল সিলেটের বাস ধরেছেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে বললেন, এখানে একা থাকলে পড়ায় যে খুব বেশি মনোযোগ দিতে পারব তাও না। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।

অবশ্য ঈদ উপলক্ষে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই শহর ছাড়ছেন লোকজন। ওইদিন ঈদের বিশেষ ট্রেন ছেড়ে যায় কদমতলী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম। শুধুমাত্র ১৭ জোড়া আন্তঃনগর, মেইল ও স্পেশাল ট্রেনে করে সেদিন নগর ছাড়ে ১৬ হাজার যাত্রী। একইদিন অন্যান্য পরিবহনগুলোতে করেও সমসংখ্যক লোক শহর ছাড়েন। এছাড়া ৮ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত সমসংখ্যক ট্রেনে করে প্রতিদিন ২০ হাজার লোক ছুটে যান নিজ এলাকায়।

 ঈদ উপলক্ষে দূর পাল্লার বিশেষ বাসগুলো শহর ছাড়ে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রতিদিন ১২ শ বাসে করে প্রায় ৪০ হাজার লোক চট্টগ্রাম শহর ত্যাগ করেন বলে জানান বাস মালিকরা।

চট্টগ্রাম জেলার বাইরে নিজ জেলায় এবার যারা কোরবানি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই চলে গেছেন। তবে জেলার ১৪ উপজেলায় যারা ঈদ করবেন তাদের অধিকাংশই আজ শহর ছাড়বেন।

 

মতামত...