,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করেঃমেয়র

cনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা , বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম:: রক্তে রাঙানো মহান ভাষা শহীদ দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে গোটা জাতি। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদ বেদীতে ফুলে ফুলে শ্রদ্ধা নিবেদন করে চট্টগ্রামের মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ, প্রশাসনের স্তরের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অকৃতোভয় একুশের শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি কিছু সময় নিরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আতœার মাগফেরাত কামনা করেন। এসময় মেয়রের সাথে ছিলেন প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ চৌধুরী হাসনী, মিসেস জোবাইরা নার্গিস খান, কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, এইচ এম সোহেল, এস এম এরশাদুল্লাহ, শৈবাল দাশ সুমন, ইসমাইল বালি, মো. মোরশেদ আলম, গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, ফেরদৌসি আকবর, জেসমিন পারভিন জেসি, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, সচিব রশিদ আহম্মদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম সহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ উপস্থিতি ছলেন।

 

 

 

এন এম সি উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার উদ্বোধন ও ভাষা শহীদদের

আলোচনা সভায় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, শহীদ মিনার চেতনা’র প্রতীক, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়। মেয়র বলেন, যারা শহীদ মিনারের রিরোধী তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশের প্রতি মমত্ববোধ নেই। তিনি বলেন, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির কর্ণধার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কার্জন হলের এক সমাবেশে উর্দূকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষনা করার সাথে সাথে তৎকালিন ছাত্র নেতা শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম প্রতিবাদ করেন। ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জাতীয় পরিচয়, জাতির অস্তিত্বকে যারা অস্বীকার করে, বিদেশী ভাব ধারা দ্বারা অনুপ্রানিত হয়, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই, দায়িত্ববোধ নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের ১৯৫২ সন ও ১৯৭১ সনের চেতনা ধারন করে সামনে পথ চলতে পরামর্শ দেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকালে নগরীর খাজা রোডস্থ এম এম সি উচ্চ বিদ্যালয় আয়োজিত অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরন সভা ও শহীদ মিানার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র ভাষনে তিনি এসব কথা বলেন। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি শওকত ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্কুল প্রতিষ্ঠাতার সন্তান সলিমুল্লাহ চৌধুরী, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম, কাউন্সিলর মো. মো. আশরাফুল আলম, আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ ইসা, এডভোকেট আইউব খান সহ স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  পরে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ফলক উম্মেচন করে এবং শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য যে, অত্র কলেজ তহবিল থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনারটি নির্মিত হয়।

 

 

 

 

মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান করলেন

 সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন জন কল্যাণমূখী কর্মকান্ডের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ভাল কাজের জন্য প্রশংসা এবং অন্যায়, অনৈতিক কাজের জন্য সমালোচনা হলে মানুষ সংশোধন হওয়ার সুযোগ পায়। পরসমালোচনা, পরনিন্দা না করে আমরা যদি আতœসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করতে পারি তাহলে সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গন ও ধর্মীয় অঙ্গনে অনেক আলোচনা হয়, নীতি নৈতিকতার কথা বলা হয়, কিন্তু প্রকৃত অর্থে আমরা ভাল কিছুই আয়ত্ব করতে চাই না। বরঞ্চ উল্টো অবক্ষয়ের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়  যা কোনমতেই কাম্য নয়। তিনি ব্যক্তি স্বার্থে অসুন্দর, অসামাজিক, অনৈতিক কার্যক্রম পরিহার করে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হয় মত সে ধরনের চিন্তা চেতনা, নীতি নৈতিকতা সমৃদ্ধ আলোচনা ও সমালোচনা এবং গঠন মূলক কর্মকান্ড আশো করেন যাতে দেশ ও জাতি উপকৃত হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন আরো বলেন, বাঙালি জাতির স্বকীয়তা গনতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক অমর একুশ। তিনি বাংলাভাষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য ভাষাও শিখতে অনুরোধ জানান।

২১ ফেব্রুয়ারি  রবিবার বিকেলে নগরীর মুসলিম ইনষ্টিটিউট হল প্রাঙ্গনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বই মেলার একুশ মঞ্চে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে এসব কথা বলেন।  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে বইমেলা কমিটির আহবায়ক এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পদক ও সাহিত্য পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কাউন্সিলর মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিসেস ফারজানা পারভিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মিসেস নাজিয়া শিরিন, উপস্থাপনায় ছিলেন মেয়রের একান্ত সচিব কবি ও ছড়াকার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম(মানজুর মাহমুদ)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউসুফী, কবি অরুন দাশ গুপ্ত, কাউন্সিলর শফিউল আলম, হাসান মুরাদ বিপ্লব, ইসমাইল বালি,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, সচিব রশিদ আহমদ, শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান সহ সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে ৭ জন বিশিষ্ট গুনিজনের হাতে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও বিশিষ্ট  গুনিজন ৬ জন সাহিত্যিক এর  হাতে সাহিত্য সম্মাননা পুরষ্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, অমর একুশে আমাদের চেতনার উম্মেষ ঘটায়। অন্যায়ের কাছে মাথানত না করা শেখায়, একুশ আমাদের স্বকীয়তা। আতœপরিচয়, আতœমর্যাদাবোধ শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, একুশের পথ বেয়েই আমাদের স্বাধীনতা, আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা বিশ্বে মাথা উচু করে চলতে চাই। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, বই মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের মধ্যে একটা মেল বন্ধন গড়ে দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন বিনামূল্যে বুকষ্টল বরাদ্ধ দিয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র প্রকাশকদের জন্যও আগামীতে সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এবারের বই মেলায় আঞ্চলিকতাকে পরিহার করে উদার দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সার্বজনীন বই মেলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বহু বছর থেকে বই মেলা চলে আসলেও এবারের আঙ্গিক ও পরিসর ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। তিনি বলেন, পরিকল্পনা আছে ঢাকা’র প্রকাশনী সংস্থা এবং চট্টগাম সহ সারা দেশের প্রকাশনা সংস্থা লেখক ও পাঠকদের সমন্বিত করে নতুন আঙ্গিকে বই মেলার আয়োজন করার। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র আরো বলেন, বাংলাদেশ আজ নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ। ২০২১ এর মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে উন্নিত হবে। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়তে হলে ২০৪১ সনের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত করে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করতে হবে। সিটি মেয়র তার ভিশন তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রামের বিশিষ্টজন বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার নাগরিকদের সম্মিলিত প্রয়াসে  চট্টগ্রামকে ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিনত করা হবে। তিনি বলেন স্মার্ট সিটি ও মেগাসিটি’র ভিশনও সামনে রয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির পরিপূর্ণ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন, যানজট নিরসন সর্বোপরি জলাবদ্ধতাকে সহনীয় পয্যায়ে আনা হবে। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, পাহাড়ের ক্ষয়রোধ, পাহাড়ের পাদদেশে প্রাচীর নির্মাণ, খাল-নালার ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, আউটার রিং রোড, খালের মুখে সø্যুইচ গেইট , বাকলিয়া বেড়িবাধ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ট্যানেল নির্মিত হলে চট্টগ্রাম মেগাসিটির পয্যায়ে উপনিত হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে প্রাচ্যের রানী’র মর্যাদায় পৌছে দিয়ে শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই তার ভিশন। তিনি তার কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নগরবাসী’র সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে একুশ পদক প্রাপ্ত ও সাহিত্য পুরষ্কার প্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে সকলেই তাদের অনুভুতি ব্যক্ত করেন। অনুভুতি প্রকাশকালে তারা লেখালেখির কর্মকান্ডে অবাধ স্বাধীনতা চান। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে চান।এবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শিক্ষায় প্রফেসর রওশন আক্তার হানিফ (মরনোত্তর), ক্রীড়ায় প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম (মরনোত্তার), সাংবাদিকতায় আ জ ম ওমর (মরনোত্তার), সমাজ সেবায় সাবেক চেয়ারম্যান ফজল করিম (মরনোত্তার), শিক্ষা বিস্তারে সাবেক কমিশনার আলহাজ্ব মোহাম্মদ জাকারিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধে জনাব সিরু বাঙালী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরুন চন্দ্র বণিককে মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক এবং কথা সাহিত্যে কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর (মরনোত্তার) কবিতায় ফাউজুল কবির, শিশু সাহিত্যে রাশেদ রউফ, বিশ্ব সাহিত্যে খুরশিদ আনোয়ার, প্রবন্ধে হাফিজ রশিদ খান এবং গবেষনায় নুর মোহাম্মদ রফিককে সাহিত্য সম্মাননা পুরষ্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রফেসর রওশন আক্তার হানিফ এর পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার ছোট ভাই প্রফেসর ডা.মাহমুদ এ চৌধুরী আরজু, প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম এর পক্ষে তার পুত্র মহিউল ইসলাম, সাংবাদিকতায় আ জ ম ওমর এর পক্ষে তার স্ত্রী সৈয়দা জমিলা বেগম, সমাজ সেবায় সাবেক চেয়ারম্যান ফজল করিম এর পক্ষে তার স্ত্রী মিসেস রওশন আরা, কথা সাহিত্যে কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর এর পক্ষে তার স্ত্রী মিসেস নারগিস নাহার, পদক ও পুরষ্কার গ্রহণ করেন। অন্যান্যরা স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে পদক ও পুরষ্কার গ্রহণ করেন।

 

বি এন আর/০০১৬০০২০২০/০০১১৯/পি

মতামত...