,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শান্তিচুক্তির বাকি শর্তগুলোও বাস্তবায়িত হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::পার্বত্য শান্তিচুক্তির অধিকাংশ শর্ত বাস্তবায়িত হওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব শর্ত এখনো বাকি আছে সেগুলোও বাস্তবায়িত হবে। শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ‘নিপীড়ন–নির্যাতনে’ জুম্মদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে বলে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা উদ্বেগ জানানোর দুদিনের মাথায় এ আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এই চুক্তির দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার বিকালে গণভবন থেকে তিন পার্বত্য জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা বলেন, চুক্তির ৭২টি শর্তের মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৫টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকি নয়টিও বাস্তবায়ন হবে। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় ২০১৬ সালে আইন সংশোধন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য তিন জেলার বেশ কিছু দায়িত্ব জেলা পরিষদের হাতে হস্তান্তরের কথা ছিল। ইতোমধ্যে আমরা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ৩০টির মতো বিষয়, বান্দরবানে ২৮টি বিষয় এবং রাঙামাটিতে ৩০টি বিষয় হস্তান্তর করেছি। সেনা ক্যাম্পগুলি চাহিদা মতো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, মোবাইল ফোন পরিসেবা চালু, প্রাথমিক, কারিগরি, মেডিকেল কলেজসহ উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তোলাসহ ওই এলাকার অর্থ–সামাজিক, পর্যটন ও ব্যবসা–বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। দুর্গম থানচি এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, এভাবে চুক্তির সিংহভাগই বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি ‘জটিল’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সমস্যার সমাধানে ভূমি কমিশন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আশা করি, আঞ্চলিক পরিষদ যদি সহযোগিতা করে আমরা এটা বাস্তবায়ন করতে পারব।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উসৈ সিং বলেন, পার্বত্য এলাকায় হাসপাতাল তিনটি থেকে ২৫টি হয়েছে। আগের ১৩৯টি কুটির শিল্পের জায়গায় এখন হয়েছে এক হাজার ৩০০টি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো এলাকার মানুষ অবহেলিত থাকবে, সেটা আমরা চাই না। সেদিকে লক্ষ্য রেখে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের সাথে সাথে চুক্তির বাইরেও সার্বিক আর্থ–সামাজিক উন্নয়নের কাজ ব্যাপকভাবে আমরা করে দিচ্ছি। এ অঞ্চলটা দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। সে কারণে আমরা বিশেষ প্রকল্প নিয়ে উন্নতি করে দিচ্ছি।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বিদ্রোহী জনসংহতি সমিতির সঙ্গে সরকারের চুক্তির মাধ্যমে ওই অঞ্চলে প্রায় দুই যুগের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে। এর তিন মাস পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ করেন বিদ্রোহীরা। চুক্তির দুই দশক পূর্তি সামনে রেখে গত বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) অভিযোগ করেন, চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোর দুই–তৃতীয়াংশই এখনও অবাস্তবায়িত রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, চুক্তিতে সেনাবাহিনীর সকল প্রকার অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের বিধান থাকলেও এখনো চার শতাধিক ক্যাম্প পার্বত্যাঞ্চলে রয়েছে। সেনাশাসন চলমান হেতু পার্বত্য চট্টগ্রামে অবাধে যত্রতত্র সেনা অভিযান, তল্লাশি, ধরপাকড়, মারপিট, দমন–পীড়ন এবং বাক স্বাধীনতা ও সভা সমাবেশের ওপর হস্তক্ষেপ চলছে। চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে অসন্তোষ থেকে পাহাড়ে অনাকাঙিক্ষত কোনো ঘটনা ঘটলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

ওই সংবাদ সম্মেলনে জনসংহতি সমিতির নেতাদের সঙ্গে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, মানবাধিকারকর্মী নুমান আহমেদ খান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের অর্থ সম্পাদক এন্ড্রু সলোমার উপস্থিত ছিলেন।

শান্তিচুক্তির বান্তবায়ন নিয়ে সরকারের সমালোচনাকারীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকে অতিরিক্ত কথা বলে ফেলেন, অতিরিক্ত দরদ দেখান এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। আমাদের পার্বত্যবাসী সোজা–সরল মানুষ। তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য, উসকে দেওয়ার জন্য অনেকে অনেক কথা বলেন।

মতামত...