,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শাহজালালে এক কোটি ৩০ লাখ ভারতীয় রুপিসহ ২ আটক

 aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ৩০ কেজি ওজনের ব্যাগ নিয়ে এসেছেন বাশার। শুল্ক গোয়েন্দারা বাশারকে বেল্টে নিয়ে তাকে দিয়েই বের করে আনলেন সেই কাঙ্ক্ষিত ব্যাগ।

কিন্তু, বাশার স্বীকার করছেন না কারেন্সি (মুদ্রা) কোথায় রয়েছে। ‘ব্যাগে কি কি আছে?’ বাশারকে এক গোয়েন্দার প্রশ্ন। সরল ভাষায় বাশারের উত্তর-‘বালিশ, তোষক আর দু’সেট ক্রোকারিজ স্যার।’ তাহলে কারেন্সি? আবার প্রশ্ন।

বাশার এবার কড়া ভাষায়-‘বিশ্বাস না হলে খুলে দেখুন স্যার’। এক ঝাঁক গোয়েন্দার সামনে ব্যাগ থেকে একে একে বের করা হল সবকিছু। বাশারের কথাই ঠিক! কারেন্সি কই?। কিন্তু পরে তোষক, বালিশ কাটা হলে ভেতর থেকে তুলার পরিবর্তে বের হতে থাকলো কাড়ি কাড়ি নোট। গোয়েন্দাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভারতীয় রুপি মিললো।

মোট এক কোটি ৩০ লাখ ভারতীয় রুপি সঙ্গে এনেছিলেন ফেনী জেলার বাসিন্দা এ ধূর্ত পাচারকারী আবুল বাশার (৪০)।

‘আপনি আবুল বাশার?, ‘হ্যাঁ’, ‘কারেন্সি আছে?’, ‘না’, ‘তথ্য রয়েছে আপনি পাঁচ দিন আগে পাকিস্তান গিয়েছেন কারেন্সি আনতে’, ‘স্যার, হ্যান্ড ক্যারি ছাড়া কোন কিছু নেই আমার।’

শুক্রবার (১০ জুন) সকাল নয়টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধরা পড়ার সময় মুদ্রা পাচারকারী আবুল বাশারের সঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দাদের কথোপকথনের খণ্ডচিত্র এটি।

শুল্ক গোয়েন্দার নজরদারিতে যে তিনি অনেক আগে থেকেই ছিলেন তা অজানা ছিলো বাশারের। এমনকি গত পাঁচদিন আগে তিনি যে পাকিস্তান গেছেন সে তথ্যও রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের করাচি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। করাচি থেকে প্রথমে জি৯৫৪০ ফ্লাইট যোগে শারজাহ। শারজাহ থেকে শুক্রবার (১০ জুন) সকাল নয়টায় এয়ার অ্যারাবিয়ার জি৯৫১৭ ফ্লাইটযোগে শাহজালালে। পাসপোর্ট অনুযায়ী (BJ0675756) আবুল বাশার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

a‘রুপি তো পাওয়া গেল, কিন্তু রিসিভ করবে কে, কাকে দেওয়া হবে, কোথায় পৌঁছানো হবে’-ভয় দেখিয়ে বাশারকে গোয়েন্দাদের প্রশ্ন।

বাশার বুঝলেন, বাঁচার রাস্তা নেই। শেষে বাশারের স্বীকারোক্তি। স্যার,‘বিমানবন্দরের গাড়ি পার্কিং এলাকায় একজন অপেক্ষা করবে, আমি ব্যাগ তাকে পৌঁছে দেব।’

তাকে ধরতে এবার বাশারকে দিয়েই ফাঁদ পাতলো শুল্ক গোয়েন্দারা। বাশারকে একটি লাগেজ দিয়ে যাত্রীর বেশে পাঠানো হল পার্কিংয়ে। পেছন ছদ্মবেশে শুল্ক গোয়েন্দা। পার্কিং এলাকায় গিয়ে গোয়েন্দারা হতবাক। সাদা রঙের টয়োটা (ঢাকা মেট্টো গ ৩১-৮৩৮৫) নিয়ে এক ভদ্রলোক দাঁড়ানো।

বাশার ব্যাগ এগিয়ে দিতেই রিসিভ করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন ভদ্রবেশী মুদ্রা পাচারকারী আবদুস সোবহান (৫৮) তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে।

দুই জনকে আটকের পর এখন চলছে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আটক মুদ্রাগুলো জাল। ঈদকে সামনে রেখে কোন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে আনা হয়েছিল মুদ্রাগুলো।

বাশার ও তার রিসিভকারী সোবহানকে আটকের কাহিনী সাংবাদিকদের সামনে বর্ণনা করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।

 

মতামত...