,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শিক্ষা বানিজ্য, কোচিং সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানির এমআরদের দৌরাত্ম্য বন্ধের উদ্যোগ দুদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৮ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রোগ নির্ণয়ের রিপোর্ট তৈরিতে একেক ক্নিনিকে একেক পরিমাণ অর্থ আদায় বন্ধ এবং সরকারি হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির এমআরদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আজ থেকেই কাজ শুরু করতে নির্দেশনা দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামকে অচিরেই দুর্নীতিমুক্ত জেলা হিসেবে দেখতে চায় সরকার। হাসপাতালে রোগীর চেয়ে এমআর বেশি। রোগীর প্রেসক্রিপশন নিয়ে তারা কাড়াকাড়ি করে। ডাক্তারদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আর রোগীদের বিব্রত করে। এ বিষয়টি বন্ধ হওয়া দরকার। ক্লিনিকে অনিয়ম বন্ধ ও সরকারি হাসপাতালে এমআরদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে আপনারা উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেন।’

 সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা প্রদান সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বেতন বাড়লেও সরকারি সেবার মান বেড়েছে কিনা প্রশ্ন তুলে দুদক মহাপরিচালক (গবেষণা, পরীক্ষণ, প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা) ড. মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সরকারি সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন বেড়েছে, কিন্তু বেতনের তুলনায় সেবার মান কতটা বেড়েছে সেটা সরকারি কর্মচারিদের বিবেচনা করতে হবে। তুলনামূলকভাবে কম বেতনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেবাপ্রত্যাশীদের সন্তোষজনক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

জনগণের সুবিধা অনুযায়ী কর্ম প্রক্রিয়া গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেবাপ্রত্যাশীদের আস’ার জায়গায় সরকারি অফিসগুলো এখনো প্রবেশ করতে পারছে না, এজন্য চিন্তা করতে হবে কিভাবে সন্তোষজনক সেবা প্রদান করা যায়। সেবাপ্রত্যাশীদের জন্য আইন কোন বাধা নয়, সেবা প্রদানের জন্য যথাযথ ম্যাকানিজম তৈরি করতে হবে। আন্তরিক হলে জনগণের অনুযোগ-অভিযোগ সমাধান করা সম্ভব।’

প্রধান অতিথি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আরো বলেন, ‘জনগণ সেবার জন্য আসলে সব কাজ ছেড়ে কেমন আছেন জিজ্ঞেস করুন, এক কাপ চা খাওয়ান, কোথা থেকে আসছেন, কী সেবা করতে পারি- এভাবে কথা বলেন। ভালো ব্যবহারের একটি মূল্য আছে। এভাবে ব্যবহার করলে অর্ধেক কাজ হয়ে যাবে।’

শিক্ষায় দুর্নীতি প্রসঙ্গে দুদক মহাপরিচালক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জোর করে কোচিং করানো, নোট বই দেওয়া, চুক্তিভিত্তিক লেখকদের বই কিনতে বাধ্য করা, অতিরিক্ত বই ধরিয়ে দেওয়া, ভর্তির সময় বাড়তি অর্থ আদায় করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এগুলো সরকার চায় না। তারপরও ঘটছে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের চাপসামলাতে গিয়ে অভিভাবকরা নানা অপরাধমূলকভাবেও উপার্জন করতে বাধ্য হচ্ছে। এসব ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে সভায় দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক আবু সাইয়িদ, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. দৌলতুজ্জামান খান, মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান সিকদার (সার্বিক), আব্দুল জলিল (রাজস্ব), মো. হাবিবুর রহমান (শিক্ষা ও আইসিটি)সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস’ কর্মকর্তাগণ উপসি’ত ছিলেন।

মতামত...