,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শিশুরা আড়াই হাজার ফুট পাহাড় বেয়ে স্কুলে যায়

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, শিশুরা ৮০০ মিটার খাঁড়া পাহাড় বেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এভাবে ১৭টি মই বেয়ে তারা স্কুলে যায়। ছবিতে শিশুদের দেখে মনে হতে পারে এরা পাহাড়ে ওঠছে। তা, ঠিক তবে এরা স্কুলে যাওয়ার জন্য পাহাড়ে ওঠছে। এদের বয়স ৬-১৫ বছরের মধ্যে। শিশুদের স্কুলে যাওয়ার এ দৃশ্য সকলকে অবাক করে দেয়। কারণ এরা কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে এই খাঁড়া পাহাড় বেয়ে ২৫০০ শ ফুট ওপরে স্কুলে যাচ্ছে। শিক্ষা গ্রহণের জন্য এদের চেয়ে হয়তবা অন্য কেউ বোধ হয় আর এতো ঝুঁকি নেয়নি। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের একটি গ্রামের ১৫ শিশুর এভাবে পাহাড় বেয়ে স্কুলে যাওয়া নিয়ে প্রতিবেদন করেছে- সিএনএন, এপি, দ্যা গার্ডিয়ানসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। খাঁড়া পাহাড়ের নিচে গ্রাম। আর স্কুল পাহাড়ের ঠিক ওপরে। গ্রাম থেকে ৮০০ মিটার বা ২ হাজার ৫০০ শ ফুট ওপরে স্কুল। কোন কোন গণমাধ্যমের খবরে অবশ্য বলা হয়েছে ২ হাজার ৬২৫ ফুট উঁচু। কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে এই খাঁড়া পাহাড়ের মাথায় উঠছে শিশুরা। মনে হতে পারে কীভাবে তা সম্ভব? প্রকৃতি এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে তাদের সাহায্য খাঁড়া ওই পাহাড়ের গায়ে গাছের শিকড় গজিয়েছে। সেই শিকড় দিয়েই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে মই। আলাদা আলাদা ১৭টি মই বেয়ে পড়ুয়ারা যাচ্ছে স্কুলে। তবে অনেক জায়গায় কিন্তু এবড়োখেবড়ো পথ বেয়েই উঠতে হয় শিক্ষার্থীদের। পড়াশোনা শেষে ওই পথ বেয়ে নেমে আসে তারা। কয়েকটি জায়গায় গ্রামবাসীরা নিজের উদ্যোগেই লোহা এবং গাছের ডাল দিয়ে তৈরি করেছেন মই। গাছের শিকড় আঁকড়ে শিক্ষার্থীরা উঠছে আর নামছে। পথ বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই ওরা স্কুলে যায়। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের আতুলার নামের এই গ্রামে ৭২টি পরিবারের বসবাস। স্কুল পড়ুয়ারা দুই সপ্তাহ পরপর একবার খাঁড়া পাহাড় বেয়ে স্কুলে যায়। বোর্ডিং ওই স্কুলে দু’সপ্তাহ কাটিয়ে আবার নেমে আসে গ্রামে। খাঁড়া পাহাড় বেয়ে স্কুলে পৌঁছতে গড়ে প্রায় সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা। নামতে সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা। এরপরে বৃষ্টি কিংবা বরফ পড়লে এরা খুব বিপদেই পড়ে। ওই পাহাড় বেয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। চীনের ইংরেজি দৈনিক ‘চায়না ডেইলি’ গত বৃহস্পতিবার পাহাড় বেয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার ওই ছবি প্রচারের পরই তা বিশ্ব গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খাঁড়া পাহাড় বেয়ে স্কুলে যাওয়ার ওই দৃশ্য ধারণ করে সিসিটিভি নিউজ-এর ৯০ মিনিটের এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বেইজিং নিউজ এর পুরস্কার পাওয়া আলোকচিত্রী চেন লি ওই গ্রামের ১৫ শিশুর স্কুলে যাওয়ার প্রথম ছবি তোলেন। তিনি বলেছেন, ‘কোন সন্দেহ নেই যে ওই দৃশ্য দেখার পর আমি বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম।’ ওই ঘটনাকে ‘বেদনাদায়ক বাস্তবতা’ মন্তব্য করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এই ছবি গ্রামটিতে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করতে পারে।এই ছোট্ট শিশুটি শুধু নয়, তার পেছন পেছন পাহাড় বেয়ে উঠছে আরও কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত চেন লি ওই গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিন দিন ছিলেন। তিনি গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এটা খুবই বিপজ্জনক। আপনাকে শতকরা ১০০ ভাগ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনি যদি কোন দুর্ঘটনায় পড়েন তবে সরাসরি নিচে পড়ে যাবেন।’ দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই খাঁড়া পথে সিঁড়ি করা যায় কি না তা তারা ভেবে দেখছেন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাইকজিংসং বলেছেন, ওই পাহাড়ে ওঠার পথের ব্যবস্থা করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তারা এখন ওই এলাকায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং পর্যটনের সুযোগ তৈরি জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেবেন।

 

মতামত...