,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শেয়ারবাজারে আস্থার ঘাটতিই অব্যাহত দরপতন

 নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৭ down-market-728x390, ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: শেয়ারবাজারে ২০০৮ থেকে ২০১০ সালে  ব্যাংক খাতের শেয়ার ছিল অনেকটাই সোনার হরিণ। সে সময় সবকটি ব্যাংকের ১০০ টাকা ফেস ভ্যালুর শেয়ার ৮/১০ গুণ বেশি দামে কেনাবেচা হতো বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার। অব্যাহত দরপতনের ফলে বর্তমানে ১০টি ব্যাংকের শেয়ার অভিহিত মূল্য ১০ টাকার নিচে কেনাবেচা হচ্ছে। এ ধারায় রয়েছে  ২/১ টি সবকটি ব্যাংক ও  ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের সবকটি কোম্পানির শেয়ার। এরকম চার খাতের আরও ১৫ কোম্পানির শেয়ারের দামেও একই অবস্থা। এ রকম মোট  ৮০টি   কোম্পানির শেয়ার অভিহিত মূল্যের নিচে কেনাবেচা হচ্ছে।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিরসংখ্যা ২৮৭টি। অভিহিত মূল্যের কমে কেনাবেচা হওয়া বস্ত্র খাতের কোম্পানি রয়েছে৮টি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৯টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৭টি এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ৩ কোম্পানি। আর  তালিকাভুক্ত ৪১ মিউচুয়াল ফান্ডের ২৯টিই অভিহিত মূল্য ১০ টাকার নিচে ৪/৫ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিই এ অবস্থার কারণ বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ ব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীরা। কিছু কোম্পানির দুর্বল আর্থিক অবস্থাও কিছুটা দায়ী। কেউ কেউ মনে করেন, এ ৪৫ কোম্পানির মধ্যে ৬-৭টি বাদে বাকিগুলোর ভবিষ্যতে ভালো মুনাফা করার সুযোগ থাকায় কিছু শেয়ারের দর আরও বেশি হতে পারত।
শেয়ারবাজারের নেতিবাচক অবস্থার কারণে ভালো মুনাফা ও বিনিয়োগকারীদের কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ দিতে পারছে না মিউচুয়াল ফান্ড। এ কারণে ফান্ডগুলোও অভিহিত মূল্যের কমে কেনাবেচা হচ্ছে। দেশের সব শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের অভিহিত বা প্রকৃত মূল্য এখন ১০ টাকা।
ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের কোম্পানিসহ অন্য খাতের উল্লেখযোগ্য কোম্পানিগুলো ১০ শতাংশের ওপর লভ্যাংশ দেওয়া সত্ত্বেও এত কম দামে কেনাবেচা হওয়ার যৌক্তিক কারণ নেই বলে মনে করেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, এখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে যতটা পাওয়া যাবে, তার তুলনায় মূলধনী লোকসান আরও বেশি হতে পারে এমন আশঙ্কার কারণে অনেকে বিনিয়োগ থেকে পিছু হটছে। তিনি বলেন, পুরোপুরি আস্থার সংকট এমনটা হচ্ছে। আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যমান সিংহভাগ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছে না। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে আরও কিছু কোম্পানির শেয়ার অভিহিত মূল্যের নিচে চলে যাওয়ার শঙ্কা আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিহিত মূল্যের কমে কেনাবেচা হওয়া ব্যাংক কোম্পানিগুলোর একটি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। গত মঙ্গলবার শেয়ারটির সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল মাত্র ৪ টাকা ২০ পয়সা। ৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে প্রিমিয়ার, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, এনসিসি, স্ট্যান্ডার্ড, ন্যাশনাল এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক।
অভিহিত মূল্যের কমে কেনাবেচা হওয়া ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো হলো- প্রিমিয়ার লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, এফএএস ফাইন্যান্স এবং বিডি ফাইন্যান্স। গত মঙ্গলবার এসব শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয় ৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৯ টাকা ৯০ পয়সায়।
বস্ত্র খাতের দুলামিয়া কটন কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে ৬ টাকা ৮০ পয়সায়। এ খাতের আরও পাঁচ কোম্পানি হলো- ম্যাকসন্স স্পিনিং, মেট্রো স্পিনিং, ডেল্টা স্পিনার্স, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস এবং সোনারগাঁ টেক্সটাইল। এসব শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৯ টাকায়।
খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, ঝিলবাংলা সুগার মিলস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, শ্যামপুর সুগার মিলস এবং ফাইন ফুডস ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৮ টাকা ২০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়েছে। এ ছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের বেক্সিমকো সিনথেটিক্স ও ইমাম বাটন এবং বিডি সার্ভিসেস ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কেনাবেচা হয়েছে ৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯ টাকা ১০ পয়সায়।
অভিহিত মূল্যের তুলনায় সামান্য বেশি দরে (সর্বোচ্চ ১১ টাকায়) কেনাবেচা হয়েছে ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফ্যামিলিটেক্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, সিএনএ টেক্সটাইল, দেশবন্ধু পলিমার এবং শাইনপুকুর সিরামিক্স কোম্পানির শেয়ার। এ ছাড়া অভিহিত মূল্যের তুলনায় সর্বোচ্চ দ্বিগুণ দরে (২০ টাকা) কেনাবেচা হচ্ছে বাকি ৮০ কোম্পানির শেয়ার। দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ৪০টি, তিনগুণ থেকে চারগুণ ১৮টি, চার গুণ থেকে পাঁচ গুণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে ১৫ কোম্পানির শেয়ার। পাঁচ থেকে দশগুণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে ৪০ কোম্পানির শেয়ার। ১০ থেকে ২৭ গুণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে ৪০টির শেয়ার। এ ছাড়া ৩১ গুণ থেকে ৮৫ গুণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে ১১ কোম্পানির শেয়ার।
অভিহিত মূল্যের তুলনায় সর্বাধিক ১১৫ থেকে ২৭৩ গুণ বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে ৮ কোম্পানির শেয়ার। এর সবই বহুজাতিক কোম্পানি। এগুলো হলো_ লিনডে বিডি, রেনেটা বাংলাদেশ, বাটা সু, মারিকো বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার, গ্গ্ন্যাক্সোস্মিথ ক্লাইন, বার্জার পেইন্টস এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। গত মঙ্গলবার এসব শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল ১ হাজার ১১৫ টাকা থেকে ২ হাজার ৭২৯ টাকা।

মতামত...