,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শোকাবহ আগস্ট এলো

নিউজ ডেস্ক, ১ আগস্ট,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::

‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান

ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা রক্তগঙ্গা বহমান

তবু নাহি ভয়, হবে হবে জয়, জয় মুজিবর রহমান।’

ঘাতকের বুলেটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হওয়ার পর অন্নদাশংকর রায়ের এ কবিতা নতুন মাত্রা পায়। অশ্রুনদী আর রক্তনদীতে একাকার হয়ে যায় পুরো দেশ। মানুষ কান্নার শক্তিও হারিয়ে ফেলে। অনন্ত শোকের নৌকায় ভাসমান বঙ্গবন্ধু নব নব ভবিষ্যতেরও দিশারি হয়ে ওঠেন।

আজ সেই শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন। বর্ষপরিক্রমায় আজ থেকে আবারও শুরু হয়েছে বাঙালির শোকের মাস। আগস্ট মাসজুড়ে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে নানা আনুষ্ঠানিকতায় স্মরণ করবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘৃণা, ধিক্কার জানাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যাকারীদের- যাদের কারণে একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা আবার রাজনৈতিক অপতৎপরতা শুরু করা ও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল, গণতন্ত্রকে হত্যা করে সামরিকতন্ত্র এসেছিল। ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান এই স্থপতির বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় শ্যামল বাংলার মাটি। জাতির পিতাকে হত্যা করার পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন অপশক্তি অপচেষ্টা চালায় মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শ ও চেতনাকেও হত্যা করার। সংবিধান স্থগিত করার পর তারা দালাল আইন বাতিল করার অধ্যাদেশ জারি করে একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের রাজনীতির পথ খুলে দেয়।

সেনাবাহিনীর একদল চক্রান্তকারী ও উচ্চাভিলাষী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ১৫ আগস্টের কালরাতে আরও প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং নবপরিণীতা দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। প্রবাসে থাকায় জীবন রক্ষা পায় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার। নির্মম সেই হত্যাযজ্ঞে আরও নিহত হন বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুল নঈম খান রিন্টু এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন নিরাপত্তা কমকর্তা-কর্মচারী। জাতি শোকের মাসে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে এসব শহীদকেও।

এই আগস্টেই ঘটে জাতির ইতিহাসের আরও একটি বিয়োগান্তক ঘটনা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয় ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ওই গ্রেনেড হামলা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও ঝরে যায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা আইভি রহমানসহ ২৪টি তাজা প্রাণ।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নোবেল জয়ী উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে।

টাইমস অব লন্ডনের ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় বলা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।’ একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’
এদিন সকালে নগরীর ৩২ নম্বর ধানমণ্ডিতে বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে ।

মতামত...