,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

শ্রীপুরে অভাবের কারনে ধ্বংস হল পঞ্চম শ্রেণীতে মেধাবী ছাত্রী সুইটির ভবিষ্যত

আশিকুর রহমান সবুজ,শ্রীপুর(গাজীপুর),বিডিনিউজ aরিভিউজঃ  অভাবের কারনে ধ্বংস হল পঞ্চম শ্রেণীতে পড়োয়া মেধাবী ছাত্রী সুইটির ভবিষ্যত।

অসুস্থ্য বাবার সংসারের হাল ধরে হারালেন ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল। আঙ্গুল হারিয়ে কর্মহীন হয়ে কাটছে তার দিন। হতাশা আর উৎকন্ঠায় শিশু সুইটির দু‘চোখ ছানা ভরা।।

গুরুতর আহত ওই শিশু গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আনসার টেপির বাড়ী গ্রামের বেন বীচ প্রাঃলিঃ জুতার কারখনার শ্রমিক।এলাকা বাসির অভিযোগ সুইটি নয়,এরকম আরো অনেক শিশু এই কারখানাতে কম বেতনে কাজ করে।সুইটি চাঁদপুর জেলার হাইমোচড় থানার উত্তর বিংগুড়িয়া গ্রামের আহসান গাজীর মেয়ে। জানা যায় সুইটির ঘরে অসুস্থ্য বাবা। মা অন্যের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে। সুইটি হাইমোচর থানার উত্তর বিংগুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রণীতে পড়ত। অভাবের সংসারের হাল ধরতে বিদ্যালয় ছাড়তে হয় তাকে।
চাচীর হাত ধরে চলে আসে শ্রীপুরের আনাসার টেপির বাড়ী গ্রামে। দেড় মাস আগে চার হাজার টাকা মাসিক বেতনে হেলপারের চাকুরী নেয় ওই গ্রামের বেনবীচ প্রাঃ লিঃ নামক জুতার কারখানায়। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কাজ। বাড়তি আয়ের জন্য প্রতিদিন রাত নয়টা পর্যন্ত চার ঘন্টা অতিরিক্ত সময়ের কাজ করত সুইটি। ছোট শিশুটির দৈনিক বার ঘন্টার কাজ শরীরে মানায়নি। সুইটি জানায় গত বার নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে কারখানার সুপারভাইজার আজিজুলহক তাকে মেশিন চালাতে বলে। কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই শিশু সুইটিকে মেশিন ধরিয়ে দেন ওই সুপার ভাইজার। মুহুর্তেই তার ডান হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয় তিন টি আঙ্গুল। আঙ্গুল হারিয়ে কর্মহীন সুইটির দু‘চোখে শুধুই হতাশা। কিভাবে চলবে অসুস্থ্য বাবার অভাবের সংসার।
চাচী নাজমা আক্তার জানান সুইটি তার ভাড়া করা বাসায় ব্যথায় কাতরাচ্ছে। হাসপাতালে রেখে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। স্থানীয় লোকদের অভিযোগ ওই কারখনায় কমবেতনে শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হয়। কারখানার প্লানিং ম্যানেজার খালেদ হাসান শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা অস্বীকার করে বলেন মেয়েটির কান্না কাটি দেখে মানবিক বিবেচনায় তাকে কাজ দেয়া হয়েছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করছে।

মতামত...