,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক-সহায়ক নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::বিএনপি’কে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, যদি সাহস থাকে নির্বাচনী মাঠে আসেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইনশাল্লাহ খেলা হবে। ফাইনাল খেলা। কিন্তু বলবেন এটা পাইনি–ওটা পাইনি, নির্বাচন করব না। যদি নির্বাচন না করেন, বাটি চালান দিয়েও বিএনপিকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমাদের নেত্রী ভালো খেলোয়াড়। বিজয়ের মাসের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনা হ্যাটট্রিক করবেন।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। নগরীর মুসলিম হলে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগ এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বাবু ভাই নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি সকল পরিচিতি ছাপিয়ে রাজনীতিবিদ পরিচয়েই স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন। সামরিক স্বৈরশাসকের মন্ত্রী হবার প্রলোভন তাকে টলাতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাবু ভাইকে শ্রদ্ধা করতেন। তিনি ছিলেন একজন উপকারী মানুষ। মানুষকে সবসময় সহযোগিতা করতেন। আমরাও তার সহযোগিতা নিয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়তে পারলেই বাবু ভাইয়ের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির উজ্জ্বল নাম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, খন্দকার মোসতাকের বেঈমানির কারণে জাতীয় চার নেতা জীবন দিয়েছেন কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে বেঈমানি করেননি। শত প্রলোভনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে জাতীয় চার নেতা শহীদ হয়েছেন। তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ প্রজন্মরা এগিয়ে যাবে।

বিএনপি’র উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আন্দোলনের কথা বলেন, আন্দোলনের চ্যাম্পিয়নরা এখানে বসে আছি। আমাদের আন্দোলনের ভয় দেখাবেন না। আন্দোলন যখন হইছে মাঠে থেকে মাইর খাইছি। মাঠ ছেড়ে পালাই যাই নাই। আর আপনারা এক আঙুলে লাঠি পড়লে প্যান্ট ছেড়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যান। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। কোন তত্ত্বাবধায়ক–সহায়ক হবে না।

শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। তত্তাবধায়ক–সহায়ক নিয়ে আপনারা ঘরে বসে থাকেন। আগামী নির্বাচনে জয়–পরাজয় নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, জঙ্গি, একাত্তরের ঘাতক, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ক্ষমতায় আসবে। বিজয় ছাড়া আমাদের সামনে কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা যদি আবার জনগণের ভালবাসায় ক্ষমতায় ফিরে আসতে না পারে, অন্ধকারে আমাদের সবাইকে হারিয়ে যেতে হবে। আমরা সবাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব।

খালেদা জিয়াকে ‘সিরিয়াল মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মতো একজন মিথ্যাবাদী নেত্রী যদি আবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়, দেশ কোথায় যাবে একবার চিন্তা করে দেখেন। সারা দুনিয়া দেখেছে, দেশের জনগণ দেখেছে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের জন্য কি করেছেন। অথচ উনি এসে (খালেদা জিয়া) মিথ্যা কথা বলেছেন। মিথ্যাচারের জবাব খালেদা জিয়াকে বাংলার জনগণ দেবে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এমপি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও মরহুমের সন্তান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ ছালাম, আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য এড. জসিম উদ্দিন আহমদ, নগর আওয়ামী লীগ সহ–সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এড. সুনিল কুমার সরকার, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, খোরশেদ আলম সুজন, দক্ষিণ জেলার সহ–সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কালাম চৌধুরী, আবু সাইদ, নগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক চন্দন ধর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এড. জহির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, দপ্তর সম্পাদক আবু জাফর, শিক্ষা সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এমরান, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, ক্রীড়া সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার, ধর্ম সম্পাদক এড. আবদুল হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, কৃষি সম্পাদক এড. আবদুর রশিদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক এড. মুজিবুল হক, বিজ্ঞান সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, উপ–দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়–য়া, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান নাছির আহমদ, আ ক ম সামশুজ্জামান, সৈয়দ জামাল আহমদ, মো. মুছা, ছিদ্দিক আহমদ বি.কম, মাহবুবুর রহমান সিবলী, সৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, বিজন চক্রবর্ত্তী, এ কে আজাদ, শাহিদা আক্তার জাহান, এস এম ছালেহ, আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল আলম জাহাঙ্গীর, পটিয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি রাশেদ মনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, বোয়ালখালী পৌর আওয়ামী লীগ আহবায়ক জহুরুল ইসলাম জহুর, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও সাতকানিয়া পৌরসভা মেয়র মো. জোবায়ের, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী গালিব, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি চেমন আরা তৈয়ব, সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বোরহান ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেন, নেতা আর জননেতা এক নয়, আখতারুজ্জামান বাবু ছিলেন জননেতা। গণমানুষের নেতা। বাবু ভাই ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তাদেরও নেতা ছিলেন। বাবু ভাই কথা ও কাজে এক থাকতেন। রাজনীতিতে শ্রদ্ধা, সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শন দরকার। তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রতি অটুট আস্থা রেখে যাতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা যায় তা দেখতে হবে। বাবু ভাইয়ের দৃষ্টান্ত আমরা অনুসরণ করলে আমাদের রাজনীতি সুন্দর হবে। মন্ত্রী না হয়েও তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি বলেন, আমার বাবা আজ দুনিয়ায় নেই, মাঝে মাঝে কষ্ট লাগে আমার। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছেই বেঁচে আছেন আমার শ্রদ্ধেয় বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরী। সকল প্রলোভনকে উপেক্ষা করে তিনি আওয়ামী লীগে বিশ্বস্ততার সাথে ছিলেন আবার নির্যাতনের মুখেও অকুতাভয়ভাবে আওয়ামী লীগ করেছেন। তার মতো নেতা আমাদেরকে ত্যাগের শিক্ষা দিয়েছেন।

মতামত...